বেনাপোল বন্দরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ-বোমা বিস্ফোরণ, পুলিশসহ আহত ২০

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২২, ১৮:২৮

বেনাপোল বন্দর হ্যান্ডলিংক শ্রমিক ইউনিয়ন দখলকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় পুলিশসহ ২০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। সোমবার (২৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। 

এ সময় বন্দর এলাকায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে বন্দর, কাস্টমসসহ আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়।

শ্রমিকদের অভিযোগ, ঘটনার সময় বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করে। পরে বেলা ১১ টার দিকে শার্শা থানা পুলিশের একটি দল এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

বেনাপোল হ্যান্ডলিংক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সদস্যরা জানান, সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে আমরা সাধারণ শ্রমিকরা সবাই কাজের জন্য বন্দরের ভেতরে ব্যস্ত ছিলাম। এ সময় বেনাপোল তালসাড়ী এলাকার ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল শ্রমিকদের লাল পোশাক পরে বন্দরের সামনে এসে আমাদের ইউনিয়ন অফিস দখলের চেষ্টা করে। প্রথমে তারা পিস্তল উঁচু করে ফায়ার করে এবং ৫০ থেকে ৬০টি বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। চারিদিকে বোমার আতঙ্কে আমরা সাধারণ শ্রমিকরা বন্দরের ভেতরে অবরুদ্ধ ছিলাম। আমাদের কয়েকজন শ্রমিককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করেছে তারা। আহতরা নাভারন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতের মধ্যে ইমরানের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুন খান জানান, বন্দর এলাকায় একটি গ্রুপ বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরে তারা পালিয়ে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।  

নাভারন-ক সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জুয়েল ইমরান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। ঘটনার সঙ্গে বেনাপোল তালসারী এলাকার রাশেদ নামে একজন জড়িত থাকার অভিযোগের কথা জানতে পেরেছি। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় পুলিশসহ ২০ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। 

বেনাপোল বন্দরের ডেপুটি পরিচালক মামুন তরফদার জানান, হ্যান্ডলিংক শ্রমিকদের সৃষ্ট গোলযোগের কারণে সকাল থেকে বন্দরে আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। 

ইত্তেফাক/এএএম