নরসিংদী জেলা শিল্পসমৃদ্ধ এলাকা হওয়ার কারণে অনেকেই জায়গা জমি বিভিন্ন শিল্প-প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন। জমি হ্রাস পাওয়ার কারণে নরসিংদীতে কলা চাষ দিন দিন কমে আসছে। তবে নরসিংদীর সাগর কলার সুনাম এখনো অক্ষুণ্ণ রয়েছে। সুগন্ধি যুক্ত এই সুস্বাদু সাগর কলা সবার কাছে সমাদৃত। যা একবার খেলে মন ফিরানো দায়।
কলা চাষ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের সময় স্থানীয় কৃষক হাজি আব্দুল কুদ্দুছ জানান, শিল্প-প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে জমির দাম| বেশি দাম পেয়ে অনেকেই জমি বিক্রি করে দিচ্ছেন। তাই স্বাভাবিকভাবেই কমে যাচ্ছে কলা চাষের এলাকা। দক্ষিণশিলমান্দী গ্রামের কলা-চাষি রফিকুল ইসলাম রিটন, মো. মামুন মিয়া, আব্দুল কুদ্দুছ, উত্তর শিলমান্দী গ্রামের নূর মোহাম্মদ, মো. বিকচান মিয়া, শিলমান্দী গ্রামে ফজলু মিয়া, পলাশ উপজেলার বাড়ারচর গ্রামের মোশাররফ হোসেন পাঠান জানান, কলা চাষের ব্যাপারে সরকারিভাবে কোনো সহায়তা করা হয় না। আমরা নিজেরা উদ্যোগী হয়ে কলা চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে দীর্ঘদিন ধরে কলা চাষ করে আসছি। এক একর জমিতে কলা চাষে দেড় লাখ টাকা খরচ হয় এবং প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা বিক্রি করা যায়।
সাগর, অমৃত সাগর, চাম্পা বা চিনি চাম্পা, হোমাই অর্থাৎ সমাই, গেরাসুন্দর ও সবরি কলাসহ প্রায় ১০ প্রকার কলার চাষ করা হয় নরসিংদীর এ অঞ্চলটিতে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কলার চাষ করা হয় নরসিংদী সদরের শিলমান্দী ইউনিয়নের শিলমান্দী, উত্তর শিলমানন্দী, মধ্যশিলমান্দী, দক্ষিণ শিলমান্দী, পাঁচদোনা ইউনিয়নের চরড়াপা গ্রামে। এছাড়াও পলাশ উপজেলার বরাব, রাবান, কুড়াইতলি, জিনারদী এলাকায় প্রচুর কলা চাষ করা হয়। মনোহরদী, শিবপুর, পলাশ, বেলাব ও রায়পুরা উপজেলাতেও কলা চাষ করা হয়। কিন্তু উৎপাদন ও রপ্তানির ক্ষেত্রে সাগর কলাই দখল করে রেখেছে প্রথম স্থান।
নরসিংদী জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. সাইদুর রহমান এবং উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আতাউর রহমান ও মো. কাউসার আলম জানান, এবছর নরসিংদী জেলায় মোট ২ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে কলা চাষ করা হয়েছে। যার মধ্যে ১ হাজার ৭০০ হেক্টরে সাগর কলা, ৩৫০ হেক্টরে চাম্পা কলা, ১৭০ হেক্টরে সবরি কলা এবং ৪০ হেক্টর জমিতে গেরা কলা চাষ করা হয়েছে। বাকি ৪০ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে অন্যান্য জাতের কলা।
শিল্প কারখানার সংখ্যা বৃদ্ধি ও কলা চাষের এলাকা কমে যাওয়া প্রসঙ্গে নরসিংদী চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট আলী হোসেন শিশির বলেন, শিল্পায়ন হচ্ছে। কর্মসংস্থান বাড়ছে। তবে এর সঙ্গে কলা চাষের সম্পর্ক নেই। এই জেলা অনেক আগে থেকেই শিল্পসমৃদ্ধ। শিল্প একদিকে। চাষের এলাকা অন্যদিকে। বর্তমানে কৃষিকাজের প্রতি মানুষের অনাগ্রহ দেখা যাচ্ছে। কলা চাষ কমে যাওয়ার সেটি একটি কারণ হতে পারে। সরকারি নীতিমালায় কৃষি জমি রক্ষার কথা বলা হলেও সম্প্রতি ঢাকা সিলেট ছয় লেন হাইওয়ের মাধবদী-পাঁচদোনা বাইপাসের জন্য ৩০০ একর কৃষি জমি চলে গেছে। বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্যও চাষের জমি চলে যাচ্ছে।
