পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিজেপি ও তৃণমূল বিধায়কদের হাতাহাতি

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২২, ০৬:৫৯

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলার বগটুই গ্রামে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা নিয়ে বিজেপির এমএলএদের বিক্ষোভ নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে বিধানসভায়। গতকাল সোমবার বিধানসভা অধিবেশনের শেষদিনে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়কদের (এমএলএ) মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। এ ঘটনার পর বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-সহ পাঁচ জন এমএলএকে সাসপেন্ড করেছেন স্পিকার বিমান বন্দ্যাপাধ্যায়। তারা আগামী এক বছর বিধানসভার কোনো অধিবেশনে যোগ দিতে পারবেন না।

অধিবেশনের শেষ দিনে দুটি বিল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় পেশ হওয়ার কথা ছিল। অধিবেশনের শুরুতে বিজেপি এমএলএরা ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। স্পিকার তাদের থামানোর চেষ্টা করেন। এরপরই তৃণমূল কংগ্রেস এমএলএদের সঙ্গে বিজেপির এমএলএদের বচসা শুরু হয়। ঘটনা হাতাহাতিতে গড়ায়। বিজেপির এমএলএরা অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন। হাতাহাতির ঘটনায় দুই পক্ষেরই একাধিক এমএলএ জখম হয়েছেন।

চুঁচড়ার তৃণমূল কংগ্রেসের এমএলএ অসিত মজুমদারের নাক ফেটে যায়। তাকে এসএসকেএমে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই ভর্তি রয়েছেন তিনি। অসিত মজুমদারের অভিযোগ, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দ্বারা প্রহূত হয়েছেন তিনি। এরপরই তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে পশ্চিমবঙ্গের পৌর মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারি, বিজেপি পরিষদীয় দলের মুখ্যসচেতক মনোজ টিগ্গা, শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ, ফালাকাটার এমএলএ দীপক বর্মণকে সাসপেন্ড করার প্রস্তাব আনেন। 

সেই প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন করে বক্তৃতা করেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। পরে দিনহাটার তৃণমূল বিধায়ক উদয়ন গুহ, জয়পুরের বিজেপি এমএলএ নরহরি মাহাতোর সাসপেনশনের পক্ষে সওয়াল করেন। তারপরেই স্পিকার ঐ পাঁচ এমএলএ-কে আগামী বাজেট অধিবেশন পর্যন্ত সাসপেন্ড করেন। অর্থাত্ আগামী এক বছর তারা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার কোনো অধিবেশনে যোগ দিতে পারবেন না।

পরে শুভেন্দু অধিকারি জানিয়েছেন, বিধানসভা অধিবেশনে যোগ দিতে না দেওয়া হলে তারা বাইরে মক পার্লামেন্ট করবেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি রয়েছেন উত্তরবঙ্গে। সেখান থেকে তিনি ঘটনা সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেন।

ইত্তেফাক/এসআর