প্রথম বার লকডাউনে চীনের বাণিজ্যিক শহর সাংহাই 

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২২, ০৭:২৩

করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় চীনের বৃহত্তম বাণিজ্যিক শহর সাংহাইয়ে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। করোনা মহামারির দুই বছরের মধ্যে এই প্রথম শহরটিতে লকাডাউন জারি করা হলো। প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ মানুষের এই শহর পূর্বে লকডাউনের আওতার বাইরে ছিল।

সাংহাইয়ের পরিস্হিতি এখন ভিন্ন। প্রতিদিনই রেকর্ডসংখ্যক শনাক্ত হচ্ছে। এ অবস্হায় দুই ধাপে লকডাউন ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রথম ধাপে সাংহাইয়ের পূর্বাঞ্চলে সোমবার থেকে আগামী ১ এপ্রিল পর্যন্ত। আর দ্বিতীয় ধাপে পশ্চিমাঞ্চলে ১ থেকে আগামী ৫ এপ্রিল পর্যন্ত। গণপরিবহন, কারখানা, অফিস বন্ধ রাখা বাধ্যতামূলক। চীনের জাতীয় স্বাস্হ্য কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার দেশ জুড়ে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি মানুষের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

স্হানীয় প্রশাসন নির্দেশনাবলি প্রকাশ করে জানিয়েছে, জনসাধারণকে শহরের মহামারি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সমর্থন করতে হবে। সেই অনুযায়ী কাজ করতে হবে। বাসিন্দাদের বাড়িতে থাকতে হবে এবং বহির্বিশ্বের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই তা নিশ্চিত করার জন্য কঠোর অবস্হানে থাকবে প্রশাসন। শহর বন্ধ রেখে কর্তৃপক্ষ ব্যাপকভাবে করোনা পরীক্ষা করবে। গত এক মাস ধরে সাংহাইতে করোনা সমানে ছড়াচ্ছে। চীন এখন ওমিক্রন ভাইরাস মোকাবিলায় কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না।

এত দিন চীনা কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছিল, অর্থনীতির স্বার্থেই এই শহর চালু রাখা জরুরি। এখন দুই পর্বে লকডাউন ঘোষণা করা হলো। এদিকে সাংহাইয়ে লকডাউন শুরু হওয়ার পর বিশ্বব্যাপী তেলের মূল্য কমেছে। সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই লকডাউনের কারণে চাহিদা পড়ে যাবে এই আশঙ্কায় ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেল ব্যারেলপ্রতি ৪ দশমিক ৫০ ডলারেরও বেশি মূল্য হারিয়েছে। দুই বছর আগে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর থেকে এটিই চীনের বৃহত্তম লকডাউন।

প্রায় এক মাস ধরে সাংহাইয়ে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের একটি নতুন ঢেউ শুরু হয়েছে, তবে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় তেমন বেশি নয়। চলতি মাসের প্রথম দিকে পুরো জিলিন প্রদেশ ও প্রযুক্তি হাব শেনজেংয়ের বাসিন্দারাসহ চীনের কয়েক কোটি লোক লকডাউনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর এখন সাংহাইয়ে লকডাউন শুরু হয়েছে। 

ইত্তেফাক/এসআর