কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) বর্ণাঢ্য আয়োজনে ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র পরামর্শক ও নির্দেশনা কার্যালয়ের উদ্যোগে বুধবার (৩০ মার্চ) বিকাল ৫ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে নবীন বরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিখ্যাত গম্ভীরা সংগীতের আয়োজন করা হয়।
ছাত্র পরামর্শক ও নির্দেশনা কার্যালয়ের পরিচালক ড. মোহা. হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এফ. এম. আবদুল মঈন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোঃ আসাদুজ্জামান, শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. দুলাল চন্দ্র নন্দী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এফ. এম. আবদুল মঈন বলেন, একটি উদ্দেশ্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে এখানে পাঠিয়েছেন। আমার উদ্দেশ্য হলো আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে প্রথম সারিতে নিয়ে যেতে চাই। আমি এসে প্রথমে ফোকাস করেছি একটি একাডেমিক পরিবেশ তৈরি করতে। এখানে শিক্ষা, শিক্ষকতা এবং গবেষণা হবে। এজন্য কোষাধ্যক্ষকে গবেষণা ক্ষেত্রে বাজেট বৃদ্ধি করতে বলেছি। যা ব্যয় হবে দেশি বিদেশি বিভিন্ন কনফারেন্স সেমিনারে। নবীনদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয় তোমাদের। পড়াশোনা ও গবেষণার মাধ্যমে তোমরা নিজেদের বিকশিত কর।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি জায়গা যেখানে ঢুকার জন্য অনেক রাস্তা আছে, কিন্তু বের হওয়ার কোন রাস্তা নাই। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় তোমার জন্য তেমনই একটি পরিবার যেখান থেকে তুমি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বের হতে পারবেনা। তিনি আরো বলেন, তোমাদের বাবা মায়ের স্বপ্নের কথা স্মরণ করে হলেও তোমরা সময়টা সঠিকভাবে বিনিয়োগ করবে। তুমি তোমার নিজেকে ঠিকভাবে তৈরি করলেই বাংলাদেশ ঠিক ভাবে তৈরি হবে।
কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমাদের সমাজে পিতা মাতারা আমাদেরকে যেভাবে আগলে রাখেন সেটা বিশ্বের অন্য কোথাও দেখা যায়না। এখানের প্রত্যেক পিতা মাতাই তার সন্তানদের নিয়ে একটা স্বপ্ন দেখেন। আমাদের বাবা মায়েদের সেই স্বপ্নটা যেন পূরণ হয় সেই চেষ্টাটাই এই সময়টাতে করতে হবে। কারণ এটাই আমাদের জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সময়। আর এই সময়টা সঠিকভাবে কাজে লাগানোর জন্যই তোমাদের এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করা।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দিকী, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হল প্রাধ্যক্ষ, বিভাগীয় প্রধান, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, শাখা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
