সরকারি চাকরির বিধি অমান্য করে দীর্ঘদিন কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জাহিদুল আলম এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন কুবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মাজেদকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে।
রোববার (৩০ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৪তম সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম মাজেদের বিষয়ে জানা যায়, গত ১৬ জুলাইয়ের পর থেকে কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিতির জবাব চেয়ে গত ২৩ অক্টোবর নোটিশ দেওয়া হয়। ১০ কার্যদিবসের মধ্যে ওই নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়। কিন্তু তিনি জবাব না দিলে গত ৩ নভেম্বর আবারো কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। সেটারও জবাব দেননি তিনি। পরে দীর্ঘদিন চাকরিতে অনুপস্থিত থাকার প্রায় ৬ মাস পর গত ৫ ফেব্রুয়ারি বেতন ভাতা বন্ধ করে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
পরবর্তীতে সোমবার সিন্ডিকেট সভায় চাকরিচ্যুতের সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।
শিক্ষককে চাকরি থেকে অপসারণের বিষয়ে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, যে শিক্ষক শিক্ষা ছুটিতে যান তিনি ৪ বছর শিক্ষা ছুটি পেয়ে থাকেন। এরপর অতিরিক্ত এক বছর ছুটি পান। তারপর আবার একবছর উইথ আউট পে তে ছুটি পান। মোট ৬ বছর ছুটি পেয়ে থাকেন। ৬ বছর পার হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে এ বিষয়ে জানালে তিনি কোনো উত্তর দেননি। পরে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তিনি আরও বলেন, তিনি বিদেশের একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত অবস্থায় আছেন এবং ওই ওয়েবসাইটেও ওনার নাম রয়েছে। তখন তদন্ত কমিটি সুপারিশ করে। এছাড়া আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী ছুটি বাড়ানোর আর সুযোগ নেই। এ কারণে তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়। এছাড়া ছুটিতে থাকা অবস্থায় যা বেতন পেয়েছেন সেগুলো ফেরত দিতে হবে। শিক্ষা ছুটিতে যাওয়ার সময় একটি চুক্তি হয়। সেই নিয়ম অনুযায়ী তিনি অর্থ ফেরত দিবেন।
প্রসঙ্গত, ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জাহিদুল আলম ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও কুবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মাজেদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে তাদের পক্ষ থেকে কোনো উত্তর দেওয়া হয়নি বলে জানা যায়।

