টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে কমিটি ঘোষণার পর নবনির্বাচিত কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় এমপি গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। এ সময় ২-৩টি গাড়ি ভাংচুর হয়। চারপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরের মুক্তির মঞ্চের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামীলীগের কার্যকরী সদস্য ও স্থানীয় সংসদ সদস্য খান আহমেদ শুভর একান্ত সহকারী সচিব মীর আসিফ অনিক জানান, আজ ছিল মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। মির্জাপুর সরকারী কলেজ মাঠে সম্মেলন শেষ করে কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. জোয়াহেরুল ইসলাম জহের মীর শরীফ মাহমুদকে সভাপতি ও ব্যারিস্টার তাহরীম হোসেন সীমান্তকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে মঞ্চ ত্যাগ করেন। এরপর উপজেলা পরিষদ চত্বরের সামনে সভাপতির ভাতিজা ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মীর এনায়েত হোসেন মন্টুর পুত্র এবং টাঙ্গাইল জেলা যুবলীগের সহসম্পাদক মীর মইন হোসেন রাজিব, অভি, সান, শামীম, নিশাত, বাহারসহ ২০-২৫ জন অস্ত্রধারীরা খান আহমেদ শুভ এমপির কর্মী সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় ছাত্রলীগ নেতা মেরাজ, সেতাব ও শাওনসহ ৪-৫ জন আহত হয়।
এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত কমিটির সভাপতি মীর শরীফ মাহমুদের ভাতিজা ও টাঙ্গাইল জেলা যুবলীগের সহসম্পাদক মীর মইন হোসেন রাজিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, খান আহমেদ শুভ এমপির একান্ত সহকারী সচিব ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মীর আসিফ অনিক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ও সাজ্জাত হোসেনের নেতৃত্বে ৩০-৪০ জন সন্ত্রাসী পরিকল্পিতভাবে তাদের কর্মী সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়েছে। হামলায় রাজিব, একাব্বরসহ ৫-৬ জন গুরুতর আহত হয়েছে। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া সন্ত্রাসীরা তার ব্যক্তিগত একটি গাড়ি ও যুবলীগের সাবেক নেতা মো. সানোয়ার হোসেনের গাড়িও ভাঙচুর করে। তারা এই ঘটনার জন্য এমপি ও তার কর্মী সমর্থকদের দায়ী করেছেন।
এ ব্যাপারে খান আহমেদ শুভ এমপি বলেন, কেন্দ্রীয় নেতারা সুন্দর একটি কমিটি উপহার দিয়েছেন। দুষ্কৃতকারীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর উপজেলা পরিষদ চত্বরের আশপাশে দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আলম চাঁদ বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ দেয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
