গত বৃহস্পতিবারের মধ্যে (৩০ মে) গার্মেন্টস শ্রমিকদের উত্সব ভাতা (বোনাস) পরিশোধের বিষয়ে শ্রম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা থাকলেও তা মানেননি অনেক কারখানা মালিক। এমনকি গতকাল ১ জুন নাগাদ বোনাস পরিশোধ করেনি প্রায় ৩০ শতাংশ গার্মেন্টস। অন্য দিকে, আজ রবিবারের মধ্যে মে মাসের বেতন পরিশোধের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা রয়েছে। ঈদের আগে আগামীকাল সোমবার শেষ কার্যদিবস। কারখানা মালিক ও শিল্পাঞ্চল পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, আজ রবিবার নাগাদ বেশির ভাগ কারখানা বেতন-বোনাস পরিশোধ করবে। তবে অপেক্ষাকৃত ছোট কারখানাগুলো আগামীকাল শেষ কর্মদিবসে বেতন-ভাতা পরিশোধ করে ছুটি দেবে।
তবে ঈদ ঘনিয়ে এলেও ২০টির বেশি গার্মেন্টস কারখানায় বেতন-বোনাস পরিশোধ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে জানা গেছে। অবশ্য বেতন-ভাতা নিয়ে অতীতের ন্যায় গার্মেন্টস অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে বড় ধরনের কোনো অসন্তোষের খবর পাওয়া যায়নি।
শিল্পাঞ্চল পুলিশের মহাপরিচালক আব্দুস সালাম গতকাল শনিবার বিকেলে ইত্তেফাককে বলেন, ৭০ শতাংশ কারখানা উত্সব ভাতা পরিশোধ করেছে। আর ২০ শতাংশ কারখানা মে মাসের বেতন পরিশোধ করেছে। বেতন ১ মাসের বা কমপক্ষে ২০ দিনের পরিশোধ হয়েছে। তবে আগামী দুই দিনে (আজ ও আগামীকাল) সব গার্মেন্টস পাওনা পরিশোধ করবে বলে আশা করছি। বেতন-ভাতা নিয়ে কোনো অসন্তোষ নেই।
অবশ্য গার্মেন্টস শ্রমিক নেতা ও কারখানা মালিকরা জানিয়েছেন, বেশ কয়েকটি কারখানায় বেতন-ভাতা নিয়ে সমস্যা রয়েছে। বিজিএমইএর সহ-সভাপতি এস এম মান্নান কচি গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকটি কারখানার সমস্যা সমাধান হয়েছে। তবে এখনো ২০ থেকে ২২টি কারখানাতে বেতন-ভাতা পরিশোধ নিয়ে ঝুঁকি রয়েছে। আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
অবশ্য বিজিএমইএর সভাপতি ড. রুবানা হক ইত্তেফাককে বলেন, আগামীকাল (আজ রবিবার) নাগাদ বেতন পরিশোধের কথা। ইতোমধ্যেই বেশির ভাগ কারখানা বেতন-বোনাস পরিশোধ করেছে। রবিবার নাগাদ সব কারখানা পরিশোধ করবে।
দেশে পোশাক শিল্প মালিকদের দুটি সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএভুক্ত গার্মেন্টস কারখানার সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার হাজার। এ দুটি সংগঠনের বাইরেও আরো প্রায় এক হাজার কারখানা রয়েছে, যারা রপ্তানির সঙ্গে জড়িত। অতীতে এসব কারখানায় বেতন-বোনাস নিয়ে ঈদের আগে প্রায়ই অসন্তোষ দেখা দিত। বেতন-ভাতা না পেয়ে ঈদের দিন কারখানায় অবস্থান করার ঘটনাও ঘটেছে। অবশ্য গত কয়েক বছর ধরে এ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
