মেহেদী হাসান মিরাজের নিখাদ অফস্পিনে বোল্ড হন টেম্বা বাভুমা। ছয় বছর পর তিন অঙ্কের কাছাকাছি গিয়েও ৭ রানের জন্য সেঞ্চুরি বঞ্চিত হলেন বাভুমা। নার্ভাস নাইনটিজের শিকার হয়ে ইনিংসের ৯৮তম ওভারে বিদায় নেন তিনি। পরের ওভারের প্রথম বলেই কেশব মহারাজকে বোল্ড করেন এবাদত হোসেন। ২৯৮ রানে অষ্টম উইকেটের পতনের পরই দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংস শেষের প্রহর গুণছিল বাংলাদেশ।
কিন্তু টাইগারদের অপেক্ষা বাড়িয়ে দিলো স্বাগতিকদের টেলএন্ডাররা। বিশেষ করে সিমন হার্মার। সাড়ে ৬ বছর পর টেস্ট খেলতে নেমে হার্মার শেষ দুই ব্যাটারকে নিয়ে গড়লেন প্রতিরোধ। বাংলাদেশের বোলারদের হতাশায় পুড়িয়ে প্রোটিয়াদের সংগ্রহটা সাড়ে তিনশো পার করে দিলেন। লিজাড উইলিয়ামস ও ডুয়ানে অলিভিয়ারকে নিয়ে শেষ ২ উইকেটে ৬৯ রান যোগ করেন হার্মার। অবশ্য তাকে নাড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। ৩৮ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি।
নবম উইকেটে হার্মার-উইলিয়ামসের ৩৪ রানের জুটি ভাঙেন খালেদ। গালিতে উইলিয়ামসের ক্যাচ নেন মাহমুদুল হাসান জয়। তিনি ১২ রান করেন। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে টেলএন্ডারদের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিয়েছেন মিরাজ। অলিভিয়ার ১২ রান করে এলবির ফাঁদে পড়েন। ১০ম উইকেটে হার্মারের সঙ্গে তার জুটিটা ছিল ৩৫ রানের।
গতকাল দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংস শেষ হয়েছে ৩৬৭ রানে। দ্বিতীয় দিনে শেষ ৬ উইকেটে ১৩৪ রান যোগ করেছে প্রোটিয়ারা। যদিও বাংলাদেশের সামনে সুযোগ ছিল স্বাগতিকদের আরও কম রানে গুটিয়ে দেওয়ার।
গতকাল সকালে ৬৫ রানে দক্ষিণ আফ্রিকার ৪ উইকেট তুলে নেয় টাইগাররা। নতুন বল নেওয়ার পরই আঘাত হানেন খালেদ আহমেদ। ম্যাচের প্রথম দিনের মতো গতকালও ব্রেক থ্রু এনে দেন ডানহাতি এ পেসার। শরিফুলের জায়গায় সুযোগ পাওয়া খালেদ দিনের ষষ্ঠ ওভারেই কাইল ভেরেইনেকে এলবির ফাঁদে ফেলেন। পরের বলেই উইয়ান মুলদারকে আউট করে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন তিনি। গালিতে দর্শনীয় ক্যাচ নিয়েছেন জয়। হ্যাটট্রিক না হলেও খালেদ বড় ধাক্কাই দিয়েছেন স্বাগতিকদের।
পরে ২ বলের ব্যবধানে বাভুমা-মহারাজ ফিরলেও বাংলাদেশকে চাপে ফেলে দেয় দক্ষিণ আফ্রিকার লোয়ার অর্ডার। বাভুমা ৯৩, ভেরেইনে ২৮, মহারাজ ১৯ রান করেন। খালেদ ৯২ রানে ৪ উইকেট নেন। মিরাজ ৯৪ রানে ৩টি, এবাদত ৮৬ রানে ২ উইকেট নেন। ২৩ ওভার বোলিং করেও উইকেটশূন্য ছিলেন তাসকিন।
