কীর্তনখোলা বাঁধে ফের ধস, আতঙ্কে চাষিরা

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২২, ১৮:৩৯

রাতভর মাটি কেটে ধসে যাওয়া একটি অংশ মেরামত করতে না করতেই মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) সকালে আবারও ধস নেমেছে নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার কীর্তনখোলা ফসলরক্ষা বাঁধে। এই বাঁধ ভেঙে গেলে ধনু নদী দিয়ে বয়ে আসা ঢলের পানিতে খালিয়াজুরীসহ পাশের উপজেলা দিরাই ও শাল্লার হাওরের হাজার হাজার একর জমির বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে আতঙ্কে রয়েছেন চাষিরা।

খালিয়াজুরী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন খন্দকার ও স্থানীয় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন খন্দকার জানান, সোমবার প্রায় সারারাত শতাধিক মানুষের প্রচেষ্টায় কীর্তনখোলা বাঁধের ধসে যাওয়া একটি অংশে মাটি কেটে মেরামত করা হয়েছে। ওই মেরামত কাজ শেষ হতে না হতেই বাঁধটির অপর একটি অংশে সোমবার সকালে আবারও বড় ধরনের আরেকটি ধস নেমেছে। 

বাঁধ মেরামত করা হচ্ছে। ছবি: ইত্তেফাক

নেত্রকোনা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী এম এল সৈকত বলেন, ভারতের মেঘালয় প্রদেশের চেরাপুঞ্জিতে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে বৃষ্টির পানি বাংলাদেশের সুনামগঞ্জের যাদুকাটা ও সুরমা নদী দিয়ে প্রবাহিত হয়ে খালিয়াজুরীর ধনু নদীতে ঢল আকারে নামছে। ফলে অতিরিক্ত এ পানির চাপে ধনু নদী সংলগ্ন ওই কীর্তনখোলা বাঁধে বার বার ধস নামছে। বাঁধটি মেরামতের কাজ চলছে। তবে এখনও বাঁধটি পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত হয়নি বলে জানান ওই প্রকৌশলী।

খালিয়াজুরী উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ জানান, এখানকার হাওরাঞ্চলে বোরো ফসল রক্ষার জন্য ওই কীর্তনখোলা বাঁধটি অধিকতর বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ বাঁধটি ভেঙে গেলে প্রথমেই পাঙ্গাসিয়া হাওরের ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমির বোরো ফসল ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

পরবর্তীতে আস্তে আস্তে হাঁসেরকোনা, বড় নূরপুর, চাকুয়া ও চৌতারাসহ অন্যান্য হাওরও ডুববে। কীর্তনখোলা বাঁধ ভেঙে গেলে উপজেলার ৭০ ভাগসহ শাল্লা ও দিরাই উপজেলারও বিস্তীর্ণ হাওরের বোরো ফসল হুমকিতে পড়বে।

ইত্তেফাক/এএএম