বরিশালে শ্রমিক ইউনিয়ন নেতাকে জখম: কাউন্সিলরসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি গ্রেফতার

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২২, ১৭:১৯

বরিশাল জেলা বাস-মিনিবাস-কোচ-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন একাংশের সাধারণ সম্পাদক ও পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের অনুসারী আরিফুর রহমান সুমন মোল্লাকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) কাউন্সিলর ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা সহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) লোকমান হোসেন। তিনি জানান, ১৫ জনের নাম উল্লেখ ও ৩৫ জনকে অজ্ঞাত করে বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানায় সোমবার (৪ এপ্রিল) রাতে মামলা দায়ের করেন সুমনের মা সেতারা বেগম। এই ঘটনায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান মাসুমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

লোকমান হোসেন বলেন, আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার পরপরই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে ঘটনাস্থল, বাসস্ট্যান্ডে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আসামিরা হলেন, ২৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইদুর রহমান জাকির, তার ভাই মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এম জাহিদুর রহমান মনির, ছোট ভাই সাবেক ছাত্রদল নেতা মামুন মোল্লা, ২৫ নম্বর ওর্য়াড আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান মাসুম, সাধারণ সম্পাদক মীর শহিদুল ইসলাম রনি, মঈন সিকদার, ওয়াদুদুর রহমান সোহেল মোল্লা, আজম, বাসার, সুরুজ, পান্না মৃধা, ২৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাফিন মাহমুদ তারিক, শফিকুল ইসলাম ওয়ারেছ ও জাহিদ সহ হত্যা চেষ্টায় আরো ৩০ থেকে ৩৫ জন অজ্ঞাত আসামী অংশ নেয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। 

মামলার বাদী সেতারা বেগম জানান, রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড দখলে নিতে সন্ত্রাসীরা সোমবার ইফতারির কিছুক্ষণ আগে আমাদের ঘরসহ মোট তিনটি ঘরে হামলা চালায়। এসময়ে আমার ছেলে সুমন মোল্লাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কোপায়। তাকে বাঁচাতে আল আমিন এগিয়ে গেলে তাকেও কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেন। সুমনের অবস্থা গুরুত্বর হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সুমনের স্ত্রী আইরিন বলেন, মেয়র সাদিকের নির্দেশে সুমনের উপর এই হামলা করা হয়েছে। 

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৫ জেলার প্রায় ৩০ রুটে চলাচলের জন্য বরিশালের রূপাতলী বাস টার্মিনাল দখল নিয়ে শ্রমিক ইউনিয়নের ক্ষমতাসীন দলের দু’ গ্রুপ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এ টার্মিনালে শ্রমিক ইউনিয়নের নামে প্রতিদিন প্রায় ১২০টি যাত্রীবাহী বাস থেকে ট্রিপ প্রতি ৩০ টাকা করে শ্রমিক ইউনিয়নের নামে আদায় করা হচ্ছে। তাছাড়া দূরপাল্লার রুটের বাসগুলো থেকে আদায় করা হয় ১০০ টাকা করে।

শ্রমিক কল্যানের নামে আদায় করা এ টাকার ভাগাভাগি নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের দুই গ্রুপ পাল্টাপাল্টি অবস্থান নেওয়ায় কয়েক মাস ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। রবিবার দুপুরে বরিশাল জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি সুলতান মাহামুদের অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে মেয়র সমর্থক শ্রমিক ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। পাল্টা হামলার অভিযোগ করেছেন অপর কমিটির সভাপতি পরিমল চন্দ্র দাস। হামলা পাল্টা হামলায় ৬ জন আহত হয়। এছাড়া শনিবার দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। সর্বশেষ সোমবার সুমন মোল্লা ও তার সহযোগীকে কুপিয়ে জখম করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠে।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি