এখনো বাঁধের ভাঙনঝুঁকিতে হাওর 

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২২, ২০:৩২

নেত্রকোনার খালিয়াজুরী পয়েন্টে প্রায় বিপৎসীমা ছুঁয়ে যাওয়া ধনু নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে উজান থেকে আসা ঢলের ওই পানির চাপ পুরোপুরি না কমায় খালিয়াজুরী সদর সংলগ্ন কীর্তনখোলা ফসলরক্ষা বাঁধ এখনো ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে। এমনটিই জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা। 

তারা জানায়, প্রায় ১ কিলোমিটারের এ বাঁধটিতে ইতোমধ্যে তিনটি স্থানে বড় ধরনের ফাটল ও ভাঙন তৈরি হয়েছে। এমন অবস্থায় মাটি, বাঁশ ও চাটাই দিয়ে বাঁধটি রক্ষায় শত শত কৃষক দিন-রাত স্বেচ্ছায় শ্রম দিচ্ছে। বাঁধে বাঁশ, চাটাইসহ বিভিন্ন উপকরণ যোগান দিতে ও মনিটরিংয়ে স্থানীয়  প্রশাসনের লোকজনও রয়েছে।

নেত্রকোনা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী এম এল সৈকত জানান, ওই বাঁধটি এখনো ভাঙনের ঝুঁকি থেকে মুক্ত নয়। যদি ভারি বৃষ্টি হয় কিংবা ধনু নদীর পানি বৃদ্ধি পায় তবে যেকোনো সময় ভেঙে যেতে পারে কীর্তনখোলার এ বাঁধ। তবে স্থানীয় কৃষকসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে সবকটি বাঁধ রক্ষা করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।

তিনি জানান, বুধবার দুপুর ১২ টায় খালিয়াজুরী পয়েন্টের ধনু নদীতে বিপৎসীমার ৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নদীটির পানি বিপৎসীমা ছুঁয়ে গিয়েছিল। 

ভাঙন দেখা দিয়েছে বাঁধে। ছবি: ইত্তেফাক

খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ এইচ এম আরিফুল ইসলাম জানান, এ উপজেলার বোরো ফসল রক্ষার জন্য কীর্তনখোলা বাঁধটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই বাঁধটি ভেঙে গেলে প্রথমেই পাঙ্গাসিয়া হাওরের ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমির বোরো ফসল ডুবে যাবে। পরে আস্তে আস্তে হাঁসেরকোনা, বড় নূরপুর, চাকুয়া, চৌতারার হাওরের ফসল ঝুঁকিতে পড়বে। 

কীর্তনখোলা বাঁধ ভেঙে গেলে উপজেলার ৭০ ভাগ বোরো ফসলই হুমকির মুখে পড়ে যাবে। তারপর বাঁধভাঙা পানি সুনামগঞ্জের শাল্লা ও দিরাইয়ের বিভিন্ন হাওরেও ঢুকবে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত কয়েক দিনের পাহাড়ি ঢলে খালিয়াজুরী, মদন ও মোহনগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চলের হাওরগুলোর অন্তত ৫০০ হেক্টর জমির বোরো ফসল তলিয়েছে। হাওরে পানি বৃদ্ধির ফলে এসব এলাকার উদ্বিগ্ন কৃষকরা কাঁচা ধান কেটে ঘরে তোলার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন, যদিও ধান সম্পূর্ণ পাকতে আরও ১০-১৫ দিন সময় দরকার ছিল।

ইত্তেফাক/এএএম