ডারবানের কিংসমিড টেস্ট এখন অতীত। পোর্ট এলিজাবেথে দ্বিতীয় টেস্টের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে বাংলাদেশ দল। তারপরও ডারবানে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স যেন ছাইচাপা আগুন হয়েই জ্বলছে। দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৩ রানে অলআউট হয়েছিল টাইগাররা।
ম্যাচকে ঘিরে সবার মনেই ছিল অনেক প্রশ্ন। বিশেষ করে টস জিতে কেন বোলিং করল বাংলাদেশ? স্পিন সহায়ক উইকেটেও কেন একাদশে মাত্র একজন স্পিনার? টস জিতে বোলিং করার সিদ্ধান্তের দায়ভার অবশ্য নিজের ওপরই নিয়েছিলেন অধিনায়ক মুমিনুল হক। অধিনায়ক হিসেবে সেটাই তার সঙ্গে মানায়।
কিন্তু এমন সিদ্ধান্তের পেছনে কলকাঠি নেড়েছেন দলের সিনিয়র ক্রিকেটাররা। হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো, বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ডের পরামর্শ এমনটা ছিল না। ডারবানের উইকেট দেখে দুই প্রোটিয়া কোচের মূল্যায়ন ছিল, আগে ব্যাটিং করতে হবে। পরে ব্যাটিং করা কঠিন হবে কারণ উইকেটে টার্ন থাকবে।
যদিও বাংলাদেশের কয়েক জন সিনিয়র ক্রিকেটার আগে ব্যাটিং করতে চাননি। তাদের পরামর্শেই মুমিনুল টস জিতে বোলিং নিয়েছেন। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনই এই তথ্য জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ দলে এখন সিনিয়র ক্রিকেটার বলতে রয়েছেন শুধু মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল। যার মধ্যে তামিম অসুস্থ হয়ে ম্যাচই খেলতে পারেননি। আর মুশফিকের রক্ষণাত্মক চিন্তাভাবনা নতুন নয়। অধিনায়ক হিসেবেও যার ছাপ রেখেছিলেন তিনি। ক্রিকবাজের সঙ্গে আলাপে ডারবান টেস্টে আগে বোলিং করার বিষয়ে বিসিবি সভাপতি বলেছেন, ‘সামনাসামনি না বসে বলা কঠিন। আমি জানি ডমিঙ্গো ও ডোনাল্ড দুজনই উইকেট সম্পর্কে ধারণা দিয়েছে এবং সাজেশন দিয়েছে এখানে পরের দিকে ব্যাটিং করা কঠিন হবে। কারণ এখানে টার্ন হবে। সেখানে খালেদ মাহমুদ ও জালাল ভাই (জালাল ইউনুস) ছিল, আমি কি বলতে পারি।’
অগ্রজদের ভীতিকে আড়াল করতে নিজের ওপর দায় নিয়েছেন মুমিনুল। পাপন বলেন, ‘অবশ্যই দক্ষিণ আফ্রিকার কোচিং স্টাফরা তাদের কন্ডিশন ভালো জানে। আমি শুনলাম মুমিনুল বলেছে, এটা তার নিজের সিদ্ধান্ত (আগে বোলিং)। আমি জানি কিছু সিনিয়র ব্যাটসম্যান বলেছিল তারা আগে ব্যাটিং করতে চায় না। এটাই ছিল মূল বিষয়। তাই হয়তো ও সিনিয়রদের কথা শুনেছে, কারণ তাকে তো দলটা নিয়ে খেলতে হবে।’ কোচদের পরামর্শ উপেক্ষা করাকে ভালোভাবে দেখছেন না বিসিবি সভাপতি। এখন দ্বিতীয় টেস্টে ডমিঙ্গোই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিবেন। সমালোচনার পাহাড় ডিঙিয়ে আসা প্রোটিয়া এই কোচের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট বিসিবি। গত বছর টি-২০ বিশ্বকাপে ভরাডুবির পর তার অধীনে জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডে টেস্ট জয় এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে টাইগাররা।
সিনিয়র ক্রিকেটাররা ডমিঙ্গোর কথা শোনেন কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন আছে পাপনের মনে। বোর্ড সভাপতি বলেছেন, ‘আমার মনে হয় যখনই দল খারাপ করে আমরা একজনকে বলির পাঁঠা বানানোর চেষ্টা করি। আদৌ কিছু সিনিয়র ক্রিকেটার তার কথা শুনে কি? আমি আসলেই জানতে চাই আসলে তারা শুনে কিনা। যারা শুনছে তারা উন্নতি করছে। যদি আমি ১৫ ক্রিকেটারকে ডাকি, আমি লিখিত দিতে পারি অন্তত ১১ জন বলবে, সে (ডমিঙ্গো) দারুণ কোচ।’
