হালদায় অ্যাকোয়ারিয়াম ফিশ রাক্ষুসে ‘সাকার’ মাছ ধরা পড়ায় গবেষকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। গবেষকরা বলেন, এই বহিরাগত ও অবাঞ্ছিত মাছ হালদা নদীতে প্রজননের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে হালদার কার্প জাতীয় মাছ ধ্বংস হয়ে যাবে।
গত ২ এপ্রিল হালদা নদীতে অবৈধ মাছ শিকারিদের জাল উদ্ধারকালে ঘের জালে একটি বহিরাগত সাকার মাছ নৌ পুলিশ সদস্যরা উদ্ধার করেন। অ্যাকোয়ারিয়ামে মাছের বর্জ্য ও আবর্জনা খেয়ে পরিষ্কার করার জন্য বিদেশ থেকে আমদানিকৃত এই সাকার মাছ সৌখিন মাছ পালনকারীরা ব্যবহার করে থাকেন। দেশে ঘরে ঘরে এক্যুরিয়ামে দৃষ্টিনন্দন মাছ রাখার চল বেড়ে যাওয়ায় গোল্ড ফিশসহ নানা জাতের বিদেশি বর্ণিল মাছের একটি বড় বাজার দেশে সৃষ্টি হয়েছে। সেই সঙ্গে অ্যাকোয়ারিয়াম ও অ্যাকোয়ারিয়ামের পানি পরিষ্কার রাখার জন্য সাকার মাছের ব্যবহারও ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন নালা-নর্দমা, খালবাহিত হয়ে এঅ্যাকোয়ারিয়ামের মাছ ব্যবসায়ীদের অসতর্কতায় এই ভয়ানক সাকার মাছ হালদা নদীতে অনুপ্রবেশ করেছে। সদরঘাট নৌ পুলিশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, গত ২ এপ্রিল অবৈধ জাল উদ্ধার অভিযানে হালদা নদীর কচুখাইন অংশে ১ ফুট লম্বা বিদেশি ‘সাকার’ মাছটি পাওয়া যায়। এই মাছ পানি ছাড়া চব্বিশ ঘণ্টা জীবিত থাকতে সক্ষম বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা এ মুহূর্তে বলতে পারছেন না, সাকার মাছ কি পরিমাণে পুরো হালদা নদীতে ছড়িয়েছে। তবে এই মাছটি হালদায় কার্প জাতীয় মাছের প্রজনন ধ্বংসের জন্য যথেষ্ট বলে তারা অভিমত দেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) প্রাণী বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও চবি হালদা রিসার্চ ল্যাবরেটরির সমন্বয়ক ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়া বলেন, এই ধরনের মাছ দেশে আমদানি ও ব্যবহার নিষিদ্ধকরণে সরকারের পক্ষ থেকে এখনই গেজেট নোটিশ জারি করা দরকার। তিনি বলেন, এই সাকার ফিশের বিস্তার এখনই রোধ করা না গেলে এই মাছ বঙ্গবন্ধু হেরিটেজ বলে ঘোষিত দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র কার্প জাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন স্থলকে ধ্বংস করে দেবে।
হালদা সম্পর্কে কয়েক জন বিশেষজ্ঞ বলেন, আর দুই-তিন মাস পরই হালদায় কার্প জাতীয় মাছেরা ডিম ছাড়বে। কিন্তু দ্রুত নদীতে প্রবেশ করা এই রাক্ষুসে সাকার মাছ ধ্বংস করা না গেলে এই মাছ মাছের ডিম ও রেণুপোনা খেয়ে এই নদীকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেবে।
