ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার তুজারপুর ইউনিয়নের জান্দি গ্রামে বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) দিবাগত গভীর রাতে ৩ মোটরসাইকেল আরোহীর ওপর হামলায় ঘটনাস্থলে সোলেমান শরিফ নিহতের পর গুরুতর আহত আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। সে জান্দি গ্রামের কালাম মাতুব্বরের ছেলে কামরুল মাতুব্বর (৩৫)।
হামলায় আহত কামরুল মাতুব্বরকে প্রথমে ভাঙ্গা ও পরে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার উদ্দেশ্যে নেওয়ার পথে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে মারা যান।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুই জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেলিম রেজা। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে রুহুল আমিন নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে ।
উল্লেখ্য, মোটরসাইকেলের ৩ আরোহীর ওপর হামলায় নিহতরা হলেন-উপজেলার জান্দি গ্রামের কালাম মাতুব্বরের ছেলে কামরুল মাতুব্বর (৩৫) ও গোপাল শরীফের ছেলে ছলেমান শরীফ (৩০)। এ সময় আমিনুল নামের আরও একজন গুরুতর আহত হয়ে ভাঙ্গা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এলাকাবাসী জানায়, জান্দি গ্রামে দুই গ্রুপের দুইজন নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। এক গ্রুপের নিহত কামরুল মাতুব্বর ও অন্য গ্রুপে রুহুল আমিনের ছেলে জামাল শেখ নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন। এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরে এই দুই গ্রুপের মধ্যে প্রকাশ্যে উত্তেজনা চলছিল। গত বুধবার ইফতার অনুষ্ঠান করে জামাল গ্রুপের কয়েকজন সমর্থক কামরুল মাতুব্বরের সঙ্গে যোগ দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হন জামাল। এরই জের ধরে তুজারপুর ইউনিয়নের পোদ্দার বাজারে বৃহস্পতিবার ইফতারের পূর্ব মুহূর্তে শাহীন চৌধুরী ও শফিক খাঁ এরমধ্যে ঝগড়া হয়। তারাবির নামাজের পর ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে জামাল ও তার লোকজন পোদ্দার বাজারের পাশে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান করে। সেই সময় আমিনুলের মোটসাইকেলে কামরুল ও ছলেমান বাড়ি ফিরছিলেন। রাস্তায় ওঁত পেতে থাকা প্রতিপক্ষ জামালসহ তার গ্রুপের আনুমানিক ১০-১৫ জন মোটরসাইকেল আরোহী তিনজনের ওপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়িভাবে আঘাত করে পালিয়ে যায়। অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলে ছলেমান শরীফ নিহত হন। গুরুতর আহত কামরুল মাতুব্বরকে রাতেই স্থানীয়রা উদ্ধার করে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় নেওয়ার পথে গাড়িতেই রাত দেড়টার দিকে তিনি মারা যান। মোটরসাইকেল চালক আমিনুল গুরুতর আহত হন।
কামরুল মাতব্বর ও ছলেমান শরিফের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশ ফরিদপুর মর্গে প্রেরণ করেছে।
