কৃষিপণ্যের দাম কমাতে হলে 

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২২, ০৫:০৯

বাংলাদেশের প্রায় ২৫টা জেলা ঘুরে দেখেছি, মহাসড়কের পাশে লাখ লাখ একর জমি ফেলে রাখা হয়েছে। গ্রামের রাস্তার দু পাশে, বসত-ভিটা এবং পুকুর, ডোবা-নালা-খাল, নদীর পাশে, চরে আরো কয়েক লাখ একর জমি অনাবাদি পড়ে আছে। অথচ এসব জমিতে শাকসবজি চাষ করা হলে এসবের দাম এত বেশি হতো না। আর শহরের বাজারগুলোতে দাম বেশি হলেও এর উৎপাদক কৃষকরা ফসলের অর্ধেক দামও পায় না। লাভের প্রায় পুরোটাই চলে যায় মধ্যস্বত্বভোগীদের পেটে। কৃষিপণ্যের দাম কমানোর জন্য দেশের সমস্ত অনাবাদি জমিতে চাষ করতে হবে এবং কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি পণ্য কিনে বিক্রি করতে হবে ক্রেতাদের কাছে।

মাত্র ১০০ দিনের মধ্যে ধান এবং প্রায় একই সময়ের মধ্যে আলু, ভুট্টা ও গম উৎপাদন সম্ভব। এর চেয়ে আরো কম সময়ে সব ধরনের শাকসবজি উৎপাদন করা যায়, যা খেয়ে জীবন ধারণ করা সম্ভব। এছাড়াও প্রতিটি জলাশয়ে মাছ চাষ করা হলে সেটা আরো ভালো হবে, কারণ এর ফলে প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ করা যাবে।

করোনার ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির ফলে ঢাকা শহরে বসবাসকারী শ্রমজীবী শ্রেণিসহ অস্থায়ী ঠিকানার অনেক লোকই গ্রামে চলে গেছে। এদের মধ্যে যাদের নিজেদের জমি আছে, তাদের নিজেদের উদ্যোগে এবং যাদের সেটা নাই, তাদের সরকারি জমি এবং জলাশয়ে ফসল ও মাছ চাষ শুরু করার জন্য সরকারিভাবে নির্দেশ দিতে হবে। বাড়াতে হবে হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল উৎপাদনও। এতে উৎপাদনকারীরা যেমন ব্যবসায়িকভাবে লাভবান হবেন, একইসঙ্গে নিজেদের খাদ্যের নিরাপত্তা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারবেন।

জমি স্বল্পতা সমস্যারও সমাধান করা যায়। হাইড্রোপনিক্স এবং অ্যাকোয়াপনিক্স পদ্ধতিতে কোনো জমি বা মাটি ছাড়াই পানির ট্রেতে এবং এয়ারোপনিক্স পদ্ধতিতে শুধু বাতাসে ঝুলন্ত ট্রে-তে চাষাবাদ করা সম্ভব। এর মধ্যে অ্যাকোয়াপনিক্স পদ্ধতিতে উদ্ভিদের মতো মাছও চাষ করা যায়। আর এসবে কোনো রাসায়নিক সার ব্যবহার করার দরকার না হওয়ায় স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো। বাংলাদেশে কয়েক বছর আগে থেকেই প্রথম দুই পদ্ধতিতে সীমিত আকারে চাষাবাদ হলেও সেটা আরো বিস্তৃত করা দরকার। দেশের সব বহুতল ভবনে যেভাবে সৌর প্যানেল বসানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, একইভাবে এই পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করে চাষাবাদও বাধ্যতামূলক করা হোক।

ইত্তেফাক/এএইচপি