দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে বিদ্যুতের পাওয়ার সাবস্টেশনের ট্রান্সফরমার বিকল হওয়ায় চরম লোডশেডিংয়ের কবলে পড়েছেন ২০ হাজার গ্রাহক। একই সঙ্গে ক্ষতির মুখে পড়েছে সব ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠান।
নেসকো ফুলবাড়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে হঠাত্ ফুলবাড়ী সাবস্টেশনের ৫ এমবিএ ধারণক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ট্রান্সফরমারের মধ্যে একটি বিকল হয়ে পড়ে। এতে গ্রাহকদের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েন বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পরে একটি সচল ট্রান্সফরমার দিয়েই দুটির কাজ চালাতে বাধ্য হন কর্তৃপক্ষ। এ কারণে ফুলবাড়ীর ছোট যমুনা নদীর পূর্ব প্রান্তে এক ঘণ্টা এবং পশ্চিম প্রান্তে এক ঘণ্টা করে লোডশেডিং দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলেও পরের ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কবলে থাকতে হচ্ছে গ্রাহকদের।
এদিকে বিদ্যুতের এই লোডশেডিংয়ের কারণে বাসাবাড়িসহ সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রমসহ উত্পাদন চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। একই কারণে বিপাকে পড়েছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যা থেকে লোডশেডিংয়ের কারণে প্রয়োজনীয় লেখাপড়া স্বাভাবিকভাবে করতে পারছেন না তারা। ৪ এপ্রিল ফুলবাড়ী সাবস্টেশন পরিদর্শনে আসেন রংপুর জোনের প্রধান প্রকৌশলী শাহাদত হোসেন সরকার, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাসিবুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী দিনাজপুরের শাহাদাত হোসেন।
ফুলবাড়ীর লাভলী ফুড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের স্বত্বাধিকারী অধ্যক্ষ মো. খুরশিদ আলম বলেন, ‘বিদ্যুতের কারণে প্রতিষ্ঠানের উত্পাদন নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছি। লোডশেডিংয়ের জন্য উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।’ ফুলবাড়ীর গুপ্তা প্লাইউড অ্যান্ড উড প্রসেসিংয়ের চেয়ারম্যান রাজু গুপ্ত বলেন, গত ২ এপ্রিল থেকে লোডশেডিংয়ের কারণে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
ফুলবাড়ী বিদ্যুৎ সরবরাহের আবাসিক প্রকৌশলী মো. উজ্জ্বল মিয়া বলেন, দুটি ট্রান্সফরমারের মধ্যে একটি বিকল হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে বিড়ম্বনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে ট্রান্সফরমার স্থাপনের কাজ চলছে। দু-এক দিনের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে ট্রান্সফরমারটি চালু করা হবে। অন্য কোনো সমস্যা দেখা না দিলে পরবর্তী সময়ে ট্রান্সফরমারটি চালু হলে বর্তমান লোডশেডিংয়ের বিড়ম্বনা দূর হবে।
