সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চোখ রাখলেই দেখা যাবে নানা পরামর্শ, ব্যঙ্গবিদ্রুপ। কেউ বলছেন রিভিউ (ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম) শেখার কোর্স আয়োজন করা উচিত বিসিবির, পদ সৃষ্টি করে ‘রিভিউ কোচ’ নিয়োগ দেওয়া হোক। কারো কারো প্রশ্ন কবে রিভিউ নেওয়া শিখবে বাংলাদেশ দল?
দর্শকদের হতাশার কারণটা স্পষ্ট। বাংলাদেশ দলের কাছে রিভিউ যেন রীতিমতো গোলকধাঁধায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে সাদা পোশাকে নবীশ পারফরম্যান্সই ফুটে উঠছে টাইগারদের, অন্তত রিভিউ নেওয়ার ক্ষেত্রে।
দায়ভারটা যাচ্ছে অধিনায়ক মুমিনুল হকের ঘাড়ে। সমালোচনার তোপটা তার ওপর দিয়েই বয়ে যাচ্ছে। মিড অফ, মিড অন থেকে দৌড়ে এসে উইকেটকিপার, বোলার, ক্লোজ ইন ফিল্ডারদের মতামত নিচ্ছেন অধিনায়ক। তারপর রিভিউ নিচ্ছেন বা সতীর্থদের আত্মবিশ্বাস না থাকলে নিচ্ছেন না। কিন্তু সাফল্য, ব্যর্থতায় মুমিনুলকে শূলে চড়ানো হচ্ছে বাকি সবার অবদানকে বেমালুম ভুলে।
গতকাল পোর্ট এলিজাবেথেও রিভিউর ক্ষেত্রে আনাড়িপনা দেখিয়েছে বাংলাদেশ। ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই খালেদ আহমেদের বল লেগেছিল সারেল এরউইয়ের পায়ে। বোলার জোরালো আবেদন করেন, আম্পায়ার আউট দেননি। মুমিনুল এসে কথা বললেন লিটন দাস, বোলারসহ বাকিদের সঙ্গে। যতক্ষণে সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন যে রিভিউ নেবেন, ততক্ষণে নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেছে। রিপ্লে বলছিল, রিভিউ নিলেই তখন ফিরতে হতো এরউইকে।
অদক্ষতার পাশাপাশি কিছু সাফল্যও আসছে বৈকি। ইনিংসের ৫১তম ওভারে তাইজুলের বলে কিগান পিটারসেনকে রিভিউ নিয়েই ফিরিয়েছিল বাংলাদেশ দল। তাইজুলের আবেদনে আম্পায়ার আউট দেননি, পরে রিভিউ নিয়ে সফল হয় টাইগাররা।
ইনিংসের ৬২তম ওভারে রিকেলটনের বিপক্ষে রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। মিরাজের বলটা প্যাডে লেগেছে ভেবে লিটন দাস ও ফিল্ডার জোরালো আবেদন করেন। অধিনায়ক এসে রিভিউ নিলেন। কিন্তু রিপ্লেতে দেখা গেল বল প্যাডে লাগেনি। প্যাড পেরিয়ে, প্যাডের খুব কাছে থেকেই ব্যাটে সজোরে লেগেছিল। সেই শব্দই লিটনদের আশাবাদী করেছিল। কিন্তু সে যাত্রা বেঁচে যান রিকেলটন।
গতকাল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে পোর্ট এলিজাবেথের সেন্ট জর্জেস পার্কে বাংলাদেশের পেস বোলিং হয়েছে সাদামাটা। খালেদ আহমেদ কিছুটা উত্তাপ ছড়ালেও এবাদত হোসেন ছিলেন নির্বিষ।
উইকেট বিবেচনায় এবাদত-খালেদের উচিত ছিল ফুল লেম্হে বোলিং করা। কিন্তু তারা অনবরত ব্যাক অব লেম্হে বোলিং করেছেন। যা খেলে খেলে প্রোটিয়া ব্যাটাররা সেট হয়েছেন উইকেটে এবং রানও তুলেছেন বেশ দ্রুতলয়ে। অথচ ফুল লেম্হে বোলিং করেই দিনের প্রথম সেশনে একমাত্র উইকেটটি পেয়েছিলেন খালেদ।
বাংলাদেশের বাধা টপকে প্রথম ইনিংসে বড় স্কোরের পথে আছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
