বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ২০ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

২ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে জানলেন গরুর মাংস নেই

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২২, ০৭:২০

দীর্ঘ প্রায় দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর যখন শুনলেন গরুর মাংস শেষ, আজ আর পাওয়া যাবে না, তখন অনেকটাই ক্ষোভে ফেটে পড়লেন খোকন ভুঁইয়া। তিনি মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা। বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে রাজধানীতে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্র থেকে কম দামে গরুর মাংস কিনবেন বলে খামারবাড়ীর বিক্রয় কেন্দ্রে শনিবার তিনি লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। খোকন ভুঁইয়া বলেন, আমি সকাল ১০টার দিকে লাইনে দাঁড়িয়েছি। এখন বাজে সোয়া ১২টা। আমাকে বলা হচ্ছে, গরুর মাংস শেষ হয়ে গেছে। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, কেন আমাকে আগে জানানো হলো না। তাহলে তো আমি আর লাইনে দাঁড়াতাম না। আমার সময় নষ্ট হতো না। তাছাড়া আমি ছিলাম ৩৪ জনের পেছনে। প্রত্যেককে এক কেজি করে মাংস দেওয়া হলে তো আমার পাওয়ার কথা। এত মাংস গেল কোথায়?

একই অভিযোগ জানালেন, তেজতুরী বাজারের বাসিন্দা ষাটোর্ধ জাহাঙ্গীর, ফার্মগেটের আকলিমা খাতুন, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া রাহাতসহ বেশ কয়েকজন। শুধু এই কেন্দ্রেই নয়, নতুন বাজার, যাত্রাবাড়ীর ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্রসহ বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে খোঁজ নিয়ে ক্রেতাদের চাহিদামতো পণ্য না পাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে চাহিদামতো পণ্য না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরতে হয়েছে অনেককে। আকলিমা খাতুন বলেন, তিনি বাসা-বাড়িতে কাজ করেন। বাজার থেকে বেশি দাম দিয়ে গরুর মাংস কিনে খাওয়ার তার সামর্থ্য নেই। এজন্যই এখানে কিনতে এসেছেন। তবে গরুর মাংস না পেলেও তিনি মুরগির মাংস কিনেছেন বলে জানান।

উল্লেখ্য, পবিত্র রমজানে সাধারণ মানুষের কাছে সুলভ মূল্যে দুধ, ডিম, গরু ও খাসির মাংস পৌঁছে দিতে এ উদ্যোগ নিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। ভ্রাম্যমাণ এ বিক্রয় কেন্দ্রে প্রতি লিটার পাস্তুরিত তরল দুধ ৬০ টাকা, প্রতি কেজি গরুর মাংস ৫৫০ টাকা, খাসির মাংস ৮০০ টাকা, ডেÌসড ব্রয়লার ২০০ টাকা এবং প্রতি হালি ডিম ৩০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। বাজারমূল্যের চেয়ে কম হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে সরকারের এ উদ্যোগ। বিশেষ করে বিক্রীত পণ্যের মধ্যে গরুর মাংসের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। খামারবাড়ী বিক্রয়কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, একজন ক্রেতার কাছে একসঙ্গে এক কেজি গরুর মাংস বিক্রির নিয়ম থাকলেও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের একশ্রেণির কর্মচারী ৪-৫ কেজি করে গরুর মাংস কিনছেন। ফলে অন্যরা কম দামে গরুর মাংস পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই সূত্র জানিয়েছে, অধিদপ্তরের কর্মচারীরা এসে একসঙ্গে ৫ কেজি গরুর মাংস চাইলে আমরা কী করব? তাদের তো না দিয়ে উপায় নেই।

এ প্রসঙ্গে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মনজুর মোহাম্মদ শাহজাদা ইত্তেফাককে বলেন, রমজান উপলক্ষ্যে সাধারণ ভোক্তাদের কাছে সুলভ মূল্যে মাংস, দুধ, ডিম পৌঁছে দিতেই সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে। এখানে কোনো ধরনের অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না। অধিদপ্তরের কেউ অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কার্যক্রমে জনসাধারণের ব্যাপক সাড়া পাওয়ায় বিক্রয় কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি বিক্রয় কার্যক্রমে অনিয়মরোধে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত এক অফিস আদেশে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৈনন্দিন প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

খামারবাড়ীর বিক্রয়কেন্দ্রর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপসচিব পুলকেশ মণ্ডল ইত্তেফাককে বলেন, বিক্রীত পণ্যের যাতে সুষম বণ্টন হয়, তা দেখার জন্যই মন্ত্রণালয় থেকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে আমি এখনো এই কেন্দ্র পরিদর্শনে যাইনি। আগামীকাল (রবিবার) যাবো। কোনো ধরনের অনিয়ম যাতে না হয়, সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে রাজধানীর ১৫টি স্থানে ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্রের মাধ্যমে সুলভ মূল্যে দুধ, ডিম, ব্রয়লার, গরু ও খাসির মাংস বিক্রি করা হচ্ছে। সচিবালয়সংলগ্ন আব্দুল গণি রোড, খামারবাড়ী গোলচত্বর, মোহাম্মদপুরের জাপান গার্ডেন সিটি, মিরপুর ৬০ ফুট রাস্তা, আজিমপুর মাতৃসদন, নয়াবাজার, আরামবাগ, নতুন বাজার, কালশী, যাত্রাবাড়ী, খিলগাঁও, নাখালপাড়ার লুকাস মোড়, সেগুনবাগিচা ও উত্তরার দিয়াবাড়ীতে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিদিন ১ হাজার ৫০০ কেজি গরুর মাংস, ১৫০ কেজি খাসির মাংস, ৫০০ কেজি ব্রয়লার, ৩ হাজার লিটার দুধ ও ২০ হাজার ডিম বিক্রির জন্য সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। প্রথম রমজানে শুরু হওয়া এ কার্যক্রম চলবে ২৮ রমজান পর্যন্ত।

ইত্তেফাক/এসজেড