প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর গ্রেনেড হামলা-সহ সীমান্তের ওপারে একাধিক নাশকতার ঘটনায় জড়িত বদরুজ্জামান বিলাসক নামে একজনকে ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকা বসিরহাট থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
দেশটির গোয়েন্দা বাহিনীর বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, শিক্ষক পরিচয়ে ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকা বসিরহাটে থাকতেন বদরুজ্জামান। সেখানে ছোটখাটো ব্যবসা করতেন তিনি। তাকে যাতায়াত করতে দেখা যেত নিজস্ব একটি মোটরসাইকেলে। এভাবেই দীর্ঘ ১৩ বছর কাটিয়ে দিয়েছেন বদরুজ্জামান।
দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সূত্র বলছে, বদরুজ্জামানের বাড়ি মূলত বাংলাদেশের সাতক্ষীরায়। বসিরহাটে বাড়ি ভাড়া নিয়ে সস্ত্রীক দিন কাটাচ্ছিলেন তিনি। শিক্ষক হিসেবে সম্মানও পেতেন সেখানে। তাকে বাড়ি ভাড়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন ওই এলাকারই এক দালাল। ভুয়া ভোটার ও আধার কার্ডও ছিল তার। সেখানে থাকা অবস্থাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের পর বর্ধমানের এক তরুণীর সঙ্গে ঘর বেঁধেছিলেন। এলাকার বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানেও যেতেন এই দম্পতি।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সেই বদরুজ্জামানের বাড়িতে হানা দেয় ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। এ সময় তিনিই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর গ্রেনেড হামলা-সহ সীমান্তের ওপারে একাধিক নাশকতার ঘটনায় জড়িত বদরুজ্জামান কিনা, তা নিশ্চিত করতে তার ছবি পাঠানো হয় বাংলাদেশে। পরিচয় নিশ্চিত হতেই গ্রেফতার করা হয় তাকে। ইতোমধ্যে তাকে বাংলাদেশ সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বদরুজ্জামান বিএনপি-র সঙ্গে যুক্ত বলেও নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ পুলিশ।
২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট ঢাকায় আওয়ামী লীগের পথসভায় গ্রেনেড হামলা করা হয়। এ ঘটনায় দলের শীর্ষ নেতা আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত ও তিন শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। মূলত তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা ছিলেন সেই হামলার টার্গেট। হামলায় তিনিও আহত হন। এ হামলার পরিকল্পনাকারী হিসেবে উঠে আসে বাংলাদেশের তৎকালীন ক্ষমতায় থাকা বিএনপি ও জামাতের বেশ কয়েকজনের নাম। বদরুজ্জামান তাদেরই একজন।
২০০৯ সালে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ, এ সময় প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা। সে সময় হামলার সঙ্গে জড়িত অনেকেই দেশ ছেড়ে পালিয়েছিল। বসিরহাটে লুকিয়ে থাকা বদরুজ্জামান তাদের মধ্যে অন্যতম। এ বছরের শুরুতেই বাংলাদেশ পুলিশ এই তথ্য জানতে পারে। অনেকদিন ধরেই তারা বদরুজ্জামানের খোঁজ করছিল। এরপরই ভারতীয় গোয়েন্দা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশ। সেই ধারাবাহিকতায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।
