সুনামগঞ্জে আবারও ঢল নামতে পারে এমন আশঙ্কায় জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গির হোসেন হাওরের পাকা ধান দ্রুত কেটে নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন। একই সঙ্গে বাঁধ এলাকায় সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতেও বলেছেন। যে কোনো সময় বাঁধের ওপর বিপর্যয় দেখা দিলে প্রশাসনসহ এলাকাবাসীকে অবহিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। উপায় না দেখে কৃষকদের মধ্যে আধা পাকা ধান কাটার হিড়িক পড়েছে।
২ এপ্রিল থেকে আসা ঢলে বোরো ফসলের ক্ষতির পরও মাঠে এখনো ১ লাখ ৬৫ হেক্টর জমির ধান আছে। তবে এসব ধান পাকেনি। অল্প পরিমাণে যে ধান পেকেছে, মূলত সেগুলোই কৃষকেরা কেটে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড জেলার বিভিন্ন স্থানে নির্মিত হাওর রক্ষা বাঁধ সংস্কার করে চলেছে। গত মঙ্গলবার তাহিরপুরের গুরমার হাওরের বর্ধিত অংশে বাঁধের নিচে নদীর দিকে বাঁশ পাইলিং করে মাঠির বস্তা ফেলে বাঁধ মজবুত করা হয়। এ সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রবীর কুমার ঘোষসহ অন্যরা বাঁধের কাজের তদারক করেন।
প্রকৌশলী প্রবীর কুমার ঘোষ ইত্তেফাককে বলেন, যাতে বাঁধের নিচ দিয়ে পানি ঢুকে ফসল ডুবতে না পারে, সে জন্য বাঁশ পাইলিং করে সেখানে মাটির বস্তা ফেলা হচ্ছে। একইভাবে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার খরচার হাওরের বাঁধ শক্ত করা হচ্ছে, যাতে বাঁধের তলদেশ দিয়ে পানি না ঢোকে। এ সময় সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ, উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ স্থানীয় লোকজন উপস্থিত ছিলেন। বর্তমানে সুনামগঞ্জের সব কটি হাওরে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে চলছে ফসল রক্ষার প্রাণান্তকর চেষ্টা।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কৃষি কর্মকর্তারা জানান, এ পর্যন্ত সুনামগঞ্জে ৩ হাজার ১৭০ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক বিমল চন্দ্র সোম বললেন, উজানের পানিতে নদীগুলো টইটম্বুর অবস্থায় থাকায় ৮০ শতাংশ পাকার পর ধান কাটতে বলা হয়েছে কৃষকদের।
ভারতের আসাম রাজ্যের বরাক অববাহিকা এবং মেঘালয় রাজ্যে ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা করছে আবহাওয়া বিভাগ। সেই ভারী বৃষ্টির কারণে চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট ও সুনামগঞ্জসহ তিন জেলায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। আগামী ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং ভারতের আসাম ও মেঘালয় প্রদেশে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর ফলে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনার সুরমা, কুশিয়ারা, যাদুকাটা, লোভাছড়া, সারি, গোয়াইন, ধলাগাং, পিয়াইন, ঝালুখালী, সোমেশ্বরী, ভুগাই-কংস, ধনু-বাউলাই নদ-নদীতে পানির উচ্চতা বেড়ে যেতে পারে। এদিকে কোনো কোনো স্থানে কৃষক আধা পাকা ধান কেটে ঘরে তুলতে শুরু করলেও মনে তাদের আনন্দ নেই। অনেক হাওরেই কৃষকেরা আধা পাকা ধান কাটছেন। শাল্লার কৃষক টুনু চৌধুরী বললেন, যেটুকু ধান হয়েছে, কেটে না আনলে এইটুকুও ডুবে নষ্ট হবে।
