সিমন হার্মারের করা দিনের প্রথম বলেই লেগ বাই থেকে চার। ব্যাটার মুশফিকুর রহিম ডিফেন্স করেছিলেন। কিন্তু বল স্পিনের সঙ্গে বাউন্স করে মুশফিক ও কিপার ভেরেইনেকে টপকে চলে যায়।
দিনের প্রথম বলই বাকি সময়ের ইঙ্গিত দিয়েছিল। পোর্ট এলিজাবেথের সেন্ট জর্জেস পার্কের ২২ গজে গত সোমবার (১১ এপ্রিল) ম্যাচের চতুর্থ দিনে টার্ন, বাউন্স ছিল অবাক করা। স্পিনিং উইকেটের সর্বোচ্চ রূপই দেখা গেছে। যেখানে টিকে থাকার ধৈর্য্য দেখাতে পারেনি বাংলাদেশ দল। মাত্র ১৪.২ ওভারেই ৭ উইকেট হারিয়ে বিভীষিকার যবনিকা পাত করেছে মুমিনুল বাহিনী। কেশাভ মহারাজ, হার্মারের স্পিনে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৩.৩ ওভারে ৮০ রানে অলআউট হয়ে গেছে সফরকারীরা। ৩৩২ রানের বড় হারে সফর শেষ করেছে বাংলাদেশ| ২-০ তে টেস্ট সিরিজটা জিতেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
মুশফিক, মুমিনুল থেকে শুরু করে কেউই বাড়তি বাউন্সের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেননি। লিটন ২৭, মিরাজ ২০ রান করেন। মহারাজ ৭টি, হার্মার ৩টি উইকেট নেন।
টানা দুই টেস্টেই প্রত্যাশিত পেস-বাউন্সি উইকেট ছেড়ে বাংলাদেশকে স্পিনের ফাঁদে ফেলে কাবু করেছে প্রোটিয়ারা। চিরচেনা স্পিনই মুমিনুলদের ঘাতক হয়ে ধরা দিলো। দুই স্পিনারই ধসিয়ে দিলেন টাইগারদের। হোম কন্ডিশনে বাড়তি বাউন্স আদায় করে নিয়েছেন উইকেট থেকে। যেটা পারেননি মিরাজরা।
তামিম-লিটনরা স্পিন খেলতে পারেন না, সেটাই যেন প্রমাণ করে দিলেন মহারাজ-হার্মার। হারের ব্যাখ্যায় অধিনায়ক মুমিনুল বলেছেন, ‘ব্যাখ্যা একটাই, বাজে ব্যাটিং করেছি। আমার কাছেও মনে হয়, খুব বাজে ব্যাটিং করেছি আমরা। দল হিসেবে ভালো খেলতে পারিনি।’
অধিনায়ক হিসেবে এমন পারফরম্যান্সে হতাশ মুমিনুল। তবে নিউজিল্যান্ডে টেস্ট জেতার পর দলটার প্রতি প্রত্যাশা বেড়েছে সবার, সেটাও মানছেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘এমনভাবে বলছেন যেন আমরা টেস্টের এক নম্বর দল হয়ে গেছি। কিন্তু টেস্ট জেতার আগেও যেমন ছিলাম, সেখানেই আছি। উন্নতির জায়গা আছে অনেক।’
প্রোটিয়াদের কাছে দুই ম্যাচ হেরে স্পিন ভালো খেলেন না বলেও দাবি করলেন মুমিনুল। তিনি বলেন, ‘আগে থেকে সবাই জানে, আমরা স্পিনে খুব বেশি ভালো প্লেয়ার না। দুই-এক জন ছাড়া কেউ স্পিনে ভালো না। খেলে হয়তো, কিন্তু স্কয়ার অব দ্য উইকেটে আরও উন্নতি করতে হবে।’ নেতৃত্ব পাওয়ার পর থেকে মুমিনুলের ব্যাটেও মরিচা ধরেছে। এই সফরে চার ইনিংসে করেছেন ১৩ রান। অথচ এ ফরম্যাটে চারে ব্যাট করা এই বাঁহাতি ব্যাটার দলের বড় ভরসা। সোমবার সুইপ খেলতে গিয়ে টপএজ হয়ে ক্যাচ দেন মুমিনুল। একই কাজ হয়েছে ইয়াসিরের ক্ষেত্রে। ভুলটা স্বীকারও করেছেন অধিনায়ক।
তিনি বলেন, ‘আমার আউটটা, রাব্বির (ইয়াসির) আউটটা ওপর দিয়ে মারা ঠিক হয়নি, যেহেতু বল স্পিন করছিল। স্কয়ার অব দ্য উইকেটে খেলাই ভালো ছিল।’
রান না পেলেও খুব উদ্বিগ্ন নন মুমিনুল। বড় রান করবেন বলে আশাবাদী তিনি। বলেছেন, ‘দুই-এক ম্যাচ খারাপ খেলতেই পারেন, তার মানে এই না যে, আমি আমার জায়গায় নাই। খুব একটা উদ্বিগ্ন না। আমি জানি কীভাবে রান করতে হয়। আমি এর আগেও এমন ছিলাম, বড় রান করেছি এরপরও।’
