বাংলাদেশ টাইগার্স নামের ছদ্মবেশে বগুড়ায় ক্যাম্পটা ছিল আদতে টেস্ট দলেরই। দক্ষিণ আফ্রিকার বাউন্সের সঙ্গে অভ্যস্ত হওয়ার জন্যই সেই ক্যাম্প। শুধু তা-ই নয়, টেস্ট সিরিজের জন্য আগেভাগেই দক্ষিণ আফ্রিকা পৌঁছে যায় দল। কেপটাউনে গ্যারি কারস্টেনের অ্যাকাডেমিতে সেরে নেয় নিজেদের প্রস্ত্ততি। কিন্তু পরীক্ষায় প্রশ্ন আসলো সিলেবাসের বাইরে থেকে। অতিরিক্ত বাউন্স বা গতি নয়, অপরিচিত স্পিনেই বাংলাদেশকে কাবু করে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা।
নিজেদের মাঠে স্পিন আক্রমণ দিয়ে টেস্ট জিতবে প্রোটিয়ারা, চার-পাঁচ বছর আগেও তা বললে হেসে উড়িয়ে দেওয়া যেত। ডারবানের উইকেট এমন ছিল যে বাউন্সই এর শেষ কথা। তবে গত তিন বছরে জলবায়ুর পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বদলাতে শুরু করে এর চিত্র। টার্নের দেখা পেয়ে যেন সোনার হরিণই হাতে পেল স্পিনাররা। এখন ডারবান খালি হাতে ফেরায় না তাদেরও।
স্পিন খেলে অভ্যস্ত বাংলাদেশ, তবে সেটা বরাবরই নিচু ও ধীর গতির উইকেটে। অতিরিক্ত ফ্লাইট বা অতিরিক্ত টার্নের বিপক্ষে জবাবহীন হয়ে পড়েন টাইগার ব্যাটাররা। সেই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে স্পিনেই মুমিনুল হকের দলকে নাস্তানাবুদ করার ছক কষে প্রোটিয়ারা। সাফল্য এনে দেওয়ার দায়িত্ব ছিল কেশাব মহারাজ ও সিমন হার্মারের ওপর। দিনশেষে হতাশ করেননি এই দুই স্পিনার। দুই ম্যাচে বাংলাদেশের ৪০ উইকেটের ২৯টিই পুড়েছেন নিজেদের পকেটে। এর মধ্যে মহারাজ ১৬টি ও হার্মার পেয়েছেন ১৩টি উইকেট।
তাদের বোলিং দেখে রীতিমত অবাক নির্বাচক আব্দুর রাজ্জাক, ‘আমরা আশা করিনি, ওখানে এরকম স্পিন সহায়ক উইকেট হবে| শুধু কেশব মহারাজ না, ওদের অফ স্পিনারও (সিমন হার্মার) বেশি টার্ন করিয়েছে| দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটে টার্ন হচ্ছে, এটা দেখে সবার অবাক লাগার কথা| অন্তত আমার কাছে অবাক লেগেছে|’
দক্ষিণ আফ্রিকায় নিজের খেলার অভিজ্ঞতা থেকেই এমন চমকিত রাজ্জাক, ‘আমি যতদিন খেলেছি, কখনো এরকম ঘুরতে দেখিনি| হয়ত হঠাত্ করে হয়েছে জিনিসটা| আর কোনো খেলোয়াড় বেশি ভালো করে ফেললে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়রাও ওকে নিয়ে বেশি ভাবে| এর মানেই হলো ঐ বোলারের ভালো করার সুযোগ বেশি|’
দুই টেস্টে লেংথে বুঝে অতিরিক্ত ফ্লাইটে বল করে গেছেন মহারাজ ও হার্মার| সেই তুলনায় তাইজুল-মিরাজদের বল ছোড়ার হাত নিচুই ছিল| যে কারণে প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানদের কাছে খুব বেশি হুমকিস্বরূপ হয়ে উঠতে পারেননি| তাইজুল যদিও নজর কেড়েছে রাজ্জাকের, ‘তাইজুল একদম খারাপ করছে না| এনসিএলেও বেশ কিছু উইকেট পেল| অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে| আশা করি ও আরো ভালো করবে|’
