যুক্তরাষ্ট্রের মাথাব্যথা বাড়াচ্ছে মস্কো!

আপডেট : ০২ জুন ২০১৯, ২১:৫৩

এম এ আলআমিন

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যখন ইরানের ওপর চাপ বাড়িয়ে চলেছে তার দেশের প্রতিরক্ষা দপ্তর তখন মস্কো-তেহরান সহযোগিতা বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় মস্কো-তেহরান ঘনিষ্ঠতা পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের কপালে ভাঁজ ফেলে দিয়েছে।

 পেন্টাগনের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছেন মস্কো-তেহরান সহযোগিতা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করতে পারে। ৩০ মে ওয়াশিংটন ডিসিতে এক অনুষ্ঠানে পেন্টাগনের ডিফেন্স ফর ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটির অস্থায়ী অ্যাসিস্টেন্ট সেক্রেটারি ক্যাথরিন হুইলবার্গার সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘রাশিয়া ও ইরান ধীরে ধীরে মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।’ তিনি মনে করেন ইরান ও রাশিয় উভয় দেশেরই মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে ‘দীর্ঘমেয়াদি উচ্চাভিলাষ’ রয়েছে যা ওই অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করতে পারে। যদিও দেশ দুটোর মধ্যে সম্পর্কে ঐতিহাসিকভাবে বিশ্বস্ততার ঘাটতি রয়েছে তা সত্ত্বেও ক্যাথরিনের মতে, দুটো উচ্চাভিলাষী শক্তি যখন পরস্পরের স্বার্থে এক হয়ে কাজ করে তখন বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতেই হয়। তিনি বলেন, ‘দুদেশের সম্পর্ক আমরা খুব ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।’ তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন। যদিও ট্রাম্প এ পর্যন্ত ব্যক্তিগতভাবে পুতিনের সমালোচনা   করেননি। ক্যাথরিন রাশিয়াকে একটি অবিশ্বস্ত ও অনির্ভরযোগ্য মিত্র বলে উল্লেখ করে বলেন, ইরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্কই এটি প্রমাণ করে।                তিনি বলেন, ‘ওই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বিনষ্টকারী পক্ষগুলোর রাশিয়ার সুসম্পর্ক বজায় রাখার নীতি দূরত্ব ও অবিশ্বাস তৈরি করছে। রাশিয়া এটিই দেখিয়ে দিয়েছে যে প্রয়োজনের সময় তাকে আস্থাভাজন হিসেবে গ্রহণ করা সম্ভব নয়। ক্যাথরিনের এই বক্তব্য স্পষ্টতই মস্কো ও তেহরানের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। ট্রাম্প যখন অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক দিয়ে ইরানের ওপর চাপ বাড়িয়ে চলেছেন এমন এক সময় ক্যাথরিনের এই মন্তব্য এলো।

ইরানকে পরমাণু কর্মসূচি থেকে বিরত রাখতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময় জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ভিয়েনায় একটি চুক্তি হয়েছিল। এ চুক্তির পর তেহরান-ওয়াশিংটনের মধ্যে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত না হলেও দুদেশের সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক হয়। যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ ও ইইউর এ যাবত্ আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো কিছুটা শিথিল হওয়ায় ইরান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবার ফিরতে শুরু করেছিল। পরমাণু ইস্যুতে ইরানকে ঘায়েল করার সুযোগ না থাকায় ট্রাম্প ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ এনে এক বছর আগে ঐতিহাসিক ওই চুক্তি থেকে তার দেশকে প্রত্যাহার করে নেন। এরপর দেশটির বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

ট্রাম্প প্রশাসন মনে করে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন জঙ্গি গ্রুপকে সহায়তা করে এবং সেদেশে বিদেশি নাগরিকরা অকারণে হেনস্থার শিকার হয়ে থাকে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। যার মধ্যে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে কালো তালিকাভুক্ত করাও হয়েছে। এছাড়া পারস্য উপসাগরে যেভাবে শক্তি বাড়িয়েছে তাতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন আরেকটি যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন কিছুদিন আগে তেহরানে সরকার পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন। তিনি সম্প্রতি কোনো প্রমাণ ছাড়াই ১২ মে ওমান উপসাগরে কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য তেহরানকে দোষারূপ করেছেন।

এদিকে ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দূরত্ব যেন তৈরি না হয় সে ব্যাপারে মস্কোও সচেতন আছে। রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যূহ কেনার ইরানের অনুরোধে সাড়া দেয়নি মস্কো। জর্জ ম্যাসন ইউনিভার্সিটির ইরান বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মার্ক কাত্জ মনে করেন, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যূহ ইস্যুতে রাজি না হলেও মস্কো তেহরানের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ইরানকে একঘরে করতে ব্যর্থ হয়েছে। পরিস্থিতি বরং তেহরানের জন্য নতুন মিত্র পাওয়া সহজ করেছে।