দক্ষিণ চীন সাগর ইস্যু

বেইজিংকে দমাতে এবার নিষেধাজ্ঞায় যাচ্ছে ওয়াশিংটন

আপডেট : ০২ জুন ২০১৯, ২১:৫৪

তৌহিদ আজিজ

 

চীনকে দমাতে এবার দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের তত্পরতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবর বেইজিংয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। দক্ষিণ চীন সাগরে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই বিভিন্ন দেশের মধ্যে অনেক আগে থেকেই। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে হস্তক্ষেপের কারণে সে লড়াইয়ে আরো মাত্রা পেল। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য যুদ্ধের যে ক্ষোভ তার এক হাত নিতেই এই পদক্ষেপে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ব্যাপারে চীন তাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে জানিয়েছে, তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফল ভালো হবে না। এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকেও মূল্য দিতে হবে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লু ক্যাং বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে হুঁশিয়ারি আরোপ করে বলেছেন, দক্ষিণ ও পূর্ব চীন সাগরে তত্পরতা চালানোর জন্য চীনা প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে তা বেইজিং-ওয়াশিংটন সম্পর্কের মারাত্মক অবনতি ঘটাতে পারে। তিনি বলেন, দক্ষিণ ও পূর্ব চীন সাগর বেইজিংয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমাদের ‘বৈধ’ কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে কেউ হস্তক্ষেপ করলে আমরা কোনোভাবেই তা বরদাশত করবো না। লু ক্যাং বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন অজুহাতে আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাচ্ছে। আরো অনেক বিষয়ে তারা বাড়াবাড়ি করছে। এভাবে চলতে থাকলে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক তলানিতে এসে দাঁড়াবে। কাজেই যুক্তরাষ্ট্রের উচিত তাদের আগ্রাসি মনোভাব থেকে সরে আসা। সম্প্রতি মার্কিন সিনেটে দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের এ তত্পরতার বিরুদ্ধে আলোচনা হয়। এ সময় উঠে আসে দেশটির বিরদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি। এ সমস্ত একটি বিলের খসড়ায় বলা হয়েছে, চীনা যেসব প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক ওই দুই সাগরে তত্পরতা চালাবে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হবে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, বেইজিংকে কোণঠাসা করতেই দক্ষিণ ও পূর্ব চীন সাগরের বিষয়ে এখন বেশি মাত্রায় উত্সুক হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, বিষয়টি আর কিছুই নয় দুই দেশের চলমান বাণিজ্য যুদ্ধের বদলা নিতেই তারা এটা করছে। তারা পথ খুঁজছে চীনকে কীভাবে একের পর এক চাপের মধ্যে রাখা যায়। আর এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার ‘অস্ত্র’ ব্যবহারে উঠেপড়ে লেগেছে। পত্রিকাটির খবরে আরো বলা হয়, যদি সিনেটে এটি পাস হয় তাহলে বলা যেতে পারে চীনের বিরুদ্ধে তারা ব্যবস্থা নিতে আর কালক্ষেপণ করবে না। তবে এ সংক্রান্ত বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের তখনই মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায় যখন তারা জানতে পারে যে, সাগরে গোপন ঘাঁটি বানাচ্ছে চীন।