প্রথম ইনিংস শেষে সাকিব আল হাসানকে ডাকা হলো কথা বলতে।
সাকিব খুব আত্মবিশ্বাসের সাথে বলে দিলেন, ‘উইকেট দেখেই আমরা বুঝতে পেরেছিলাম, খুব ভালো উইকেট। আমরা জানতাম, এখানে থাকতে পারলে রান হবে। শেষ পর্যন্ত আমরা সেটা করতে পেরেছি।’
হ্যাঁ, পেরেছেন সাকিব আল হাসানরা।
টসে জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। গত তিন ম্যাচে আগে ব্যাট করে এশিয়ার তিন দল—পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান একেবারে ধসে পড়েছিল। ফলে সেই একটা আতঙ্ক ছিল যে, বাংলাদেশও হয়তো ধসে পড়তে পারে। কিন্তু ফল হলো উল্টোটা। বিশ্বকাপে তো বটেই, নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসেরই সর্বোচ্চ স্কোর করে ফিরলো বাংলাদেশ। এর আগে যে কোনো দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোর ছিল ছয় উইকেটে ৩২৯ রান; ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে। গতকাল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সৌম্য সরকার, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহদের ভয়ানক ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ করলো ছয় উইকেটে ৩৩০ রান।
এতো চমত্কার একটা স্কোরে চড়ে বসার ভিতটা গড়ে দিয়ে গিয়েছিলেন তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। তামিম মাত্র ২৯ বলে ১৬ রান। কিন্তু কাজের কাজ করেছেন। সৌম্যকে সঙ্গ দিয়েছেন এবং নতুন বলটাকে নির্বিষ করে দিয়ে গেছেন। দলীয় ৬০ রানে ফিরে আসেন তামিম। আর এই সময়ে একেবারে বিদ্যুতের মতো জ্বলেছে সৌম্যর ব্যাট। তিনি ৩০ বলে ৪২ রান করে ফেরেন। আর এরপরই বাংলাদেশকে রান পাহাড়ে তোলার আসল কাজটা করেন সাকিব ও মুশফিক। দুজনে তৃতীয় উইকেটে ১৪২ রান যোগ করেন।
এটা ছিল বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রানের জুটি। এর আগে ২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পঞ্চম উইকেটে ১৪১ রান যোগ করেছিলেন মাহমুদউল্লাহ ও মুশফিকুর রহিম।
অসাধারণ এই জুটিটা ভাঙে ৮৪ বলে ৭৫ রান করে সাকিব ইমরান তাহিরের বলে আউট হওয়ায়। এরপর মিঠুন এসে ছোট্ট একটা ঝড় চালিয়ে যান। তিনি ২১ বলে ২১ রান করে ফেরেন। মুশফিক পরপরই সেঞ্চুরির স্বপ্নটা নষ্ট করে ফেলেন।
৮০ বলে আটটি চারে সাজানো ৭৮ রানের ইনিংস খেলে ফেরেন মুশফিকুর রহিম। এরপর ইনিংসটা কাঁধে তুলে নেন মাহমুদউল্লাহ ও মোসাদ্দেক। মোসাদ্দেক ২০ বলে ২৬ রান করেন। আর রিয়াদ শেষ বল পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৩৩ বলে ৪৬ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলে।
ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ইনিংস
রান প্রতিপক্ষ সাল
৩৩০/৬ দ. আফ্রিকা ২০১৯
৩২৯/৬ পাকিস্তান ২০১৫
৩২৬/৩ পাকিস্তান ২০১৪
৩২৪/৫ শ্রীলঙ্কা ২০১৭
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সেরা জুটি
রান ব্যাটসম্যান উইকেট প্রতিপক্ষ সাল
১৪২ সাকিব-মুশফিক তৃতীয় দ. আফ্রিকা ২০১৯
১৪১ রিয়াদ-মুশফিক পঞ্চম ইংল্যান্ড ২০১৫
১৩৯ তামিম-রিয়াদ দ্বিতীয় স্কটল্যান্ড ২০১৫
১১৪ সাকিব-মুশফিক পঞ্চম আফগানিস্তান ২০১৫
