শুভ নববর্ষ ১৪২৯। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে স্যামসাং ও ফেয়ার ইলেকট্রনিক্সের উদ্যোগে নাবিহা রাইদা ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধায়নে বিশেষ শিশুদের নিয়ে একটি আর্ট ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) বিকেলে স্যামসাং ফ্ল্যাগশিপ স্টোর, গুলশান এভিনিউতে এ আয়োজন করা হয়।
স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর হুয়াং সাং উ এবং ফেয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান রুহুল আলম আল মাহবুবের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্ধোধন করা হয়।
স্বাগত বক্তব্যে ফেয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান রুহুল আলম আল মাহবুব বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও তার কন্য সায়মা ওয়াজেদ এর কাছ থেকে উদ্ধুদ্ধ হয়েই আজকের এ আয়োজন। শুধু ব্যবসা করাটাই উদ্দেশ্য নয় , সামজিকভাবেও আমরা দায়বদ্ধ। এ শিশুরা আমাদের সম্পদ । সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা এ ট্যাবু থেকে বের হয়ে আসতে হবে এবং এই বিশেষ শিশুদের মেধার যোগ্যতায় কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কাজ করে যাবে ফেয়ার গ্রুপ।
স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর হুয়াং সাং উ বলেন, আজকের এ আর্ট ক্যাম্পের মধ্য দিয়ে স্যামসাং ফ্ল্যাগশিপ স্টোর সকলের জন্য খুলে দেওয়া হল। বিশেষ এ শিশুদের সাথে নিয়ে আজকের উদ্যোগ সত্যিই অসাধারান। স্যামসাং সব সময় সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে যায়।
সাংস্কৃতিক অঙ্গনের দেশবরেণ্য ব্যক্তিত্ব ও সংসদ সদস্য সুবর্ণা মোস্তফা, অভিনেতা আফজাল হোসেন এ আর্ট ক্যাম্পে যোগ দেন । এছাড়াও ছিলেন বিশিষ্ট পরিচালক অমিতাভ রেজা , অপি করিম ও ইরেশ জাকের। এ সময় তারা বিশেষ শিশুদের সাথে সময় কাটান এবং তাদের উৎসাহ ও প্রেরণা প্রদান করেন।
ডিপার্টমেন্ট অফ কমিউনিকেশন্স ডিসঅর্ডার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়তায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়, চেয়ারপার্সন প্রফেসর তৌহিদা জাহান এ সময় উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন।
চিত্রশিল্পী এফ রহমান ভুটান ও রুবিনা নার্গিসের সহায়তায় ১৯ জন বিশেষ শিশু প্রতিযোগী রঙ তুলির আঁচড়ে পহেলা বৈশাখকে ফুটিয়ে তোলায় মেতে উঠেন । প্রতিযোগিতা শেষে আমন্ত্রিত অন্যান্য অতিথিরা সকলের উদ্দেশ্যে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।
বিশেষ শিশুদের নিয়ে এ আয়োজনের ভুয়সী প্রশংসা করে ফেয়ার ইলেকট্রনিক্সের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে অভিনেত্রী অপি করিম বলেন, পৃথিবীর সমস্ত বাচ্চা হাসুক, সমস্ত বাচ্চা ভাল থাকুক।
বিশিষ্ট পরিচালক অমিতাভ রেজা বলেন, বিশেষ শিশু বলে কিছু নেই, বাচ্চাদের ছবি আকা , চিন্তার জায়গা বিকশিত করা , নিজের মত করে বেচে থাকার অনুপ্রেরণা যখন কোন কর্পোরেট সেক্টর থেকে আসে তা নিশ্চই প্রশংসার দাবি রাখে।
ইরেশ জাকের বলেন, অভিজাত এলাকায় এমন আয়োজন প্রশংসনীয়, ডিজিটালাইজেশনের যুগে এ সব সংস্কৃতির জায়গাগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। আজ বিশেষ শিশুদের নিয়ে অসাধারণ একটি আয়োজনে উপস্থিত হয়ে আমি খুব আনন্দিত। আমাদের একটু অনুপ্রেরণা আর সাহসের জোরে এদের মেধা কাজে লাগিয়ে সামনের দিনগুলোতে অনেক এগিয়ে যাবে।
বরেণ্য অভিনেত্রী ও সংসদ সদস্য সুবর্ণা মোস্তফা বলেন, শুধুমাত্র নিজেদের বিজ্ঞাপনের জন্য নয়, নিজেদের বিবেকের তাড়নায় সরকারের সহায়ক শক্তি হিসেবে দাড়াতে হবে। ফেয়ার ইলেকট্রনিক্সের তথা ফেয়ার গ্রুপের এ চমৎকার আয়োজনের মত আরো অন্যান্য ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং ব্যাবসায়ী যারা রয়েছেন তাদের এগিয়ে আসতে হবে। “
প্রয়াস বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সোসাইটি ফর ওয়েলফেয়ার অফ অটিষ্টিক চিলড্রেন, কেরানিগঞ্জ বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিষ্টিক বিদ্যালয়, হোপ অটিজম সেন্টার এবং ডাউন সিনড্রোম সোসাইটি অব বাংলাদেশ ৫টি সংগঠনের মোট ১৯ জন বিশেষ শিশু আর্ট ক্যাম্পে অংশগ্রহণ করেন। প্রত্যেককেই বিজয়ী ঘোষণা করে এ সময় তাদের মেডেল, সার্টিফিকেট এবং সম্মাননা পুরস্কার প্রদান করা হয়।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, ফেয়ার গ্রুপের ডিরেক্টর মুতাসিম দায়ান, ফেয়ার গ্রুপের চিফ মার্কেটিং অফিসার মো: মেসবাহ উদ্দিন, ফেয়ার গ্রুপের হেড অফ কমিউনিকেশন এন্ড কর্পোরেট ফিলান্ত্রপি হাসনাইন খুরশেদ, হেড অফ মার্কেটিং জে এম তসলীম কবীর, পাবলিক রিলেশন অফিসার সাঈদ আহমেদ ও অন্যান্যরা।
