উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থছাড় বেড়েছে

আপডেট : ০২ জুন ২০১৯, ২২:০১

উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থছাড় বেড়েছে। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের জুলাই-মার্চ পর্যন্ত সময়ে অর্থাত্ ৯ মাসে বাংলাদেশে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে ৪৫২ কোটি ১৫ লাখ ডলার ছাড় করা হয়েছে। গত অর্থবছরে একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৩৪২ কোটি ৩৮ লাখ ডলার। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হালনাগাদ তথ্যে এ বিষয়টি উঠে এসেছে। এতে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে বিভিন্ন প্রকল্পের অনুকূলে ঋণ আকারে ছাড় করা হয়েছে ৪৩১ কোটি ৩৮ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৩২২ কোটি ডলার। এছাড়া অনুদান ছাড় হয়েছে ২০ কোটি ৭৬ লাখ ডলার। গত অর্থ বছরের একই সময়ে অনুদান ছাড় হয়েছিল ২০ কোটি ৩৮ লাখ ডলার।

ইআরডির কর্মকর্তারা বলছেন, আগের তুলনায় প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্ষমতা বেড়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকারও বেড়েছে, ফলে উন্নয়ন কাজে অর্থ ছাড়ের পরিমাণও বেড়েছে।

ইআরডির হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে ৬২০ কোটি ৭৪ লাখ ডলার। অর্থাত্ নতুন করে বিভিন্ন প্রকল্পের অনুকূলে এই অর্থ দেওয়ার চুক্তিবদ্ধ হয়েছে উন্নয়ন সহযোগীরা। এর মধ্যে ঋণ আকারে ৫০৬ কোটি ২৮ লাখ ডলার এবং অনুদান রয়েছে ১১৪ কোটি ৪৫ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরে বিভিন্ন প্রকল্পের অনুকূলে বৈদেশিক অর্থ ছাড়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৬৩৫ কোটি ডলার। অন্যদিকে প্রতিশ্রুতি আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ৬শ কোটি ডলার।

ইআরডির কর্মকর্তারা জানান, গত অর্থবছরে ছয় বিলিয়ন ডলারের বেশি ছাড় করেছে উন্নয়ন সহযোগীরা। চলতি অর্থবছরে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্র, মেট্রোরেল, পদ্মা রেল সংযোগ, কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ, মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণসহ বেশকিছু প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে চলতি অর্থ বছরে বিদেশি অর্থছাড় আরো বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে সরকার ৭১৭ কোটি ডলার বিদেশি সহায়তা ব্যবহারের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

ইআরডির তথ্যে দেখা যায়, গত অর্থবছরের ৯ মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে ঋণ পরিশোধ বেড়েছে। গত ৯ মাসে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে ১২১ কোটি ১৮ লাখ ডলার। এর মধ্যে আসলের পরিমাণ ৮৯ কোটি ৯২ লাখ ডলার এবং সুদ বাবদ পরিশোধ হয়েছে ৩১ কোটি ২৫ লাখ ডলার।

ইআরডির কর্মকর্তারা জানান, আসছে নতুন অর্থবছরে অর্থছাড়ে আরো গতি আসবে। কারণ বেশকিছু বড় প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। মেগা প্রকল্পের হাত ধরেই বিদেশি অর্থছাড় বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।