দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে দেশে ফিরেছেন ১৩ এপ্রিল। পরদিন সকালেই মিরপুর স্টেডিয়ামে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ খেলতে নেমে গেলেন মুমিনুল হক। ব্যাট হাতে প্রোটিয়াদের কাছে বিধ্বস্ত হওয়ার স্মৃতি এখনো তরতাজা। দুই ম্যাচের সিরিজে নিজের রান খরা, দলের বিবর্ণ ব্যাটিং, চিরচেনা স্পিনে কুপোকাত হওয়া, রিভিউ তে অদক্ষতা মিলে সমালোচনার তোপে টেস্ট অধিনায়ক।
দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের বহুল আলোচিত বিষয়গুলো নিয়েই বাংলা নতুন বছরের প্রথম দিনে কথা বলেছেন মুমিনুল।
- প্রশ্ন :এমন ব্যাটিংয়ের আসলে ব্যাখ্যা কী? কেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা স্পিন খেলতে পারল না?
আমার কাছে মনে হয় আমরা প্যানিকড হয়ে যাই অনেক। স্পিন খেলতে পারি না ঠিক তা না। আরেকটা হলো ডমেস্টিকে কোয়ালিটিফুল স্পিনারও নেই। সত্যি কথা বলতে আমি বলছি আগেও, তামিম ভাই বলছে, কোয়ালিটিফুল স্পিনারের সামনে পড়লে আমরা অনেক পেঁচিয়ে ফেলি, কিছু টেনশন চলে আসে আমাদের কাছে।
স্পিন কোন ওয়েতে খেলতে হবে—এ জিনিসটা আমরা বুঝি না। ঘুরলেই যে মারতে হবে, আর মারলেও আপনি কোন অপশনটা বেছে নেবেন, কোন দিকে মারবেন এটা বুঝতে হবে। স্পিন খেলার ওয়ে আছে। বাঁহাতি, ডানহাতি স্পিন খেলার সিস্টেম আছে। আমরা ছোটবেলায় শিখেছি, স্পিন স্পিনের সঙ্গে খেল। ঝুঁকি থাকে এমন অপশন বাদ দিতে হবে, বোলারের প্ল্যান নষ্ট করতে হবে। আমরা এক্সিকিউশনটা ঠিকমতো করতে পারিনি।
- প্রশ্ন :বগুড়ায়, কেপটাউনে ক্যাম্প করলেন আপনারা। মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন পেস-বাউন্সি কন্ডিশনের জন্য। কিন্তু ওরা এবার ভিন্ন কৌশল নিয়ে স্পিনে খেলল। এটা কি বেশি অবাক করেছে আপনাদের?
আপনি প্রতিপক্ষকে নিয়ে যা ভাবছেন, প্রতিপক্ষ হয়তো অন্যকিছু করছে। এটা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে হতেই পারে। আমি আসলে এটাতে অবাক হইনি। অবাক হওয়ার কিছু নাই। এমন হতেই পারে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একেক দেশে একেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়।
বোলাররা কিন্তু ভালো করেছে। নতুন বল ছাড়া বোলারদের নিয়ে অভিযোগ করা যাবে না। নতুন বলে আরো উন্নতি করতে হবে, অন্তত বিদেশে। আমার কাছে মনে হয়, ব্যাটিংয়ের দিক থেকে আমরা ভয়ংকর বাজে ব্যাটিং করেছি। কোন জায়গায় রান করব, কোন অপশনটা বেছে নেব, সেটি ঠিক করতে পারিনি।
- প্রশ্ন :নিজের ব্যাটে রান নাই, অধিনায়ক হিসেবে দুটি ম্যাচ হেরে যাওয়া। আপনার ক্যারিয়ারের কঠিন সময় যাচ্ছে কি না?
আমার কাছে মনে হয় না। আপনি কীভাবে নেবেন, এটা হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এখন যদি ভাবি হ্যাঁ ভাই বিরাট চাপ, নিজেও রান করছি না, দলও রেজাল্ট করছে না, এভাবে চিন্তা করলে সব শেষ। এমন হতেই পারে। আমার ক্ষেত্রে শুধু না, অনেকের ক্ষেত্রেই হয়েছে। হয়তো সামনে আরো কঠিন চ্যালেঞ্জ আসবে। এটাতে আমি নিজেকে মানিয়ে নিয়েছি। আমি জানি, আমার কাজ যদি ঠিক থাকে, আমি আবারও ব্যাক করব। অধিনায়কত্বের সুবিধা হলো, মাথাটা খোলে, মানে আপনার গেইমটা খোলে। একটা সিরিজ খারাপ গেছে। আপনি আমার অন্য সিরিজগুলো দেখেন, মনে হয় পারফরম্যান্স অত খারাপ ছিল না।
- প্রশ্ন :নিউজিল্যান্ডে টেস্ট জিতলেন বলে সবার মনে আশার সঞ্চার হয়েছে যে, আপনারা দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে দেবেন। এখন হেরে আসায় সমালোচনা হচ্ছে অনেক। এসবের মাধ্যে কি একটু ভালোলাগা আছে কি না যে মানুষ আশা করছে, কারণ সবাই বিশ্বাস করছে আপনাদের পক্ষে ওখানেও জেতা সম্ভব ...
এটা অবশ্যই। ইতিবাচকভাবে দেখলে অবশ্যই আমরা পারি। আরেকভাবে দেখলে কিন্তু এটা এমন যে, আমরা বেশি চিন্তা করতেছি। আপনি এখনো অত বড় টিম হননি। ২০ বছর পার হয়ে গেছে, আমরা শিখছি অতীতে, তবে এখন আমরা প্রক্রিয়াটা বুঝতে শিখেছি। কোন প্রক্রিয়ায় খেলব, এটা বুঝছি। এটার জন্য আরো সময় লাগবে। আমি একটা টেস্ট জিতলাম মানেই পরেরটা, তার পরেরটাও জিতব, এত সহজ নয়। আরো সময় লাগবে।
- প্রশ্ন : রিভিউ এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। পুরো প্রক্রিয়াটা শুনতে চাই। আপনাদের যে অদক্ষতা ফুটে উঠছে এটা কি খেয়াল করেন?
মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে আমি ২-১টা ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। দ্বিতীয় ইনিংসে কনওয়েরটা। ওটা কেউ বোঝেনি। ওটা নিছিলাম আমি। আমার কাছে মনে হয় আপনি মানুষের কাছে কীভাবে উপস্থাপন করবেন, জিনিসটা ঐভাবেই মানুষ নেবে।
দক্ষিণ আফ্রিকায়ও তো আমি ২-১টা ভালো সিদ্ধান্ত নিছি, হয়তো মিসও হয়েছে। মিস কে করে না। বড় দলগুলোর ক্ষেত্রেও এটা হয়। কখনো হবে, কখনো হবে না। মৌলিক বিষয় হলো, এটা অধিনায়কের বোঝার সুযোগ কম থাকে, আমি তো মিড অফ, মিড অনে থাকি, দূরে। এটা বোঝে কিপার, বোলার, পয়েন্ট ও স্কয়ার লেগের ফিল্ডার।
পয়েন্ট-স্কয়ার লেগের কাজ হলো উচ্চতা দেখা। বোলারের কাজ হলো কোথায় পিচ করল তা দেখা। কিপারের কাজ হলো স্ট্যাম্পে বলটা আছে কি না, ইমপ্যাক্টটা দেখা।
আমি বেশির ভাগ সময় আস্হা রাখি লিটনের ওপরে। লিটন যদি বলে ভাই এটা নিতে পারেন, এটা এই, তখন আমি যাই।
শুরুতে ২-১টা খারাপ হয়েছে। পরে তো আম্পায়ার দেয়নি, আমরা নিচ্ছি, কাজে লাগছে। আমরা নেতিবাচক দিক দেখি বলে, অনেক সময় ভালো কিছুও আড়ালে পড়ে যায়।
