মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই ২০২২, ২০ আষাঢ় ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

সৈয়দপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে সেমাই

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২২, ১১:৩৮

ঈদুল ফিতর সামনে রেখে নীলফামারীর সৈয়দপুরে শুরু হয়েছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেমাই তৈরি। শতাধিক কারখানায় মৌসুমি ব্যবসায়ীরা এ সময় নিম্নমানের পাম অয়েল ও ডালডা দিয়ে তৈরি করছেন এসব সেমাই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চোখ ফাঁকি দিয়ে তৈরি করা সেমাই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেছেন চিকিৎসকেরা। 

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ও বিশিষ্ট চিকিৎসক শেখ নজরুল ইসলাম জানান, নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি সেমাই খেয়ে রোজাদার, সাধারণ মানুষ পেটের পীড়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হতে পারে। রং ও অন্যান্য কেমিক্যাল মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকর। খাদ্যদ্রব্যে মেশানো রং মানুষের পেটে গেলে তা গ্যাস্ট্রিক, আলসার থেকে ক্যানসারের কারণ হতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে হলে এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, সৈয়দপুরের পাটোয়ারীপাড়া, কাজীরহাট, পুরাতন বাবুপাড়া, বাঁশবাড়ী, মিস্ত্রিপাড়া, হাতিখানা, নিয়ামতপুর, মুন্সীপাড়া, গোলাহাটসহ শহরের আনাচে-কানাচে গড়ে উঠেছে এসব মৌসুমি সেমাই কারখানা। অধিকাংশ সেমাই তৈরির কারখানার নেই বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) অনুমোদন। এ ছাড়া কারখানাগুলোতে মানা হচ্ছে না কোনো নিয়মনীতি। নামিদামি অনেক কোম্পানির লেভেল লাগিয়ে স্থানীয়ভাবে তৈরি এসব সেমাই বাজারজাত করছেন মালিকরা। মানুষের খাওয়ার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এসব সেমাই প্রতিদিন বিভিন্ন মোড়কে বাজারজাত করা হচ্ছে গ্রামের হাটবাজারে। 

হাতে গোনা কয়েকটি সেমাই তৈরির বৈধ কারখানা থাকলেও তারা বিপাকে পড়েছেন এসব মৌসুমি ব্যবসায়ীদের দাপটে। তাছাড়া এসব কারখানায় নেই কোনো সাইনবোর্ড। কারখানার বাইরে থেকে প্রবেশ নিষেধ সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে অথবা গেট বন্ধ করে চলে সেমাই তৈরির কাজ। এসব কারখানা এক স্থানে বেশি দিন থাকে না। সচেতন মহলের চোখ পড়ার আগেই স্থান পরিবর্তন করা হয়। এসব সেমাইতে নামিদামি কোম্পানির লেবেল ও স্টিকার লাগিয়ে পাইকারি বিক্রি করা হয়। দেখে বোঝার কোনো উপায় থাকে না—আসল, না নকল। 

গাউসিয়া বেকারির মালিক আওরঙ্গজেব বলেন, প্রতি বছর রমজান মাসের শুরুতে বিভিন্ন পাড়ামহল্লায় অল্প টাকায় বেশি লাভের আশায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ব্যবসা শুরু করেন। তারা কারখানাতে কোনো স্বাস্থ্যবিধি মানেন না। এছাড়া তাদের কোনো বৈধ কাগজপত্রও নেই। অথচ প্রায় এক মাস হলো এসব অবৈধ মৌসুমি কারখানায় সেমাই তৈরি হচ্ছে। তারা প্রতিষ্ঠিত বৈধ লাচ্ছা সেমাইয়ের মোড়ক নকল করে বাজারজাত করে থাকেন। 

জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শামসুল আলম জানান, পচা ডিম, পশুর চর্বি এবং কৃত্রিম ঘি ও সুগন্ধিমিশ্রিত সেমাই যাতে তৈরি না হয়, সেজন্য কারখানাগুলোতে নজরদারি রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়ে এসব ভেজাল কারখানায় নিয়মিত অভিযান চালানো হবে এবং কোনো প্রকার অনিয়ম পেলে তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

জলঢাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই জনের মৃত্যু

সৈয়দপুরে ভুট্টার ফলন ও দামে কৃষকের স্বস্তি

উদ্বোধনের সময় জন্ম, নাম পদ্মা-সেতু

সৈয়দপুরে আলো ছড়াচ্ছে ছয় কিশোর-কিশোরী ক্লাব

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

সৈয়দপুরে ভুট্টার ভালো ফলন

সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফরম ঝুঁকিপূর্ণ

কিশোরগঞ্জে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় পথচারীর মুত্যু

সৈয়দপুরে নিষিদ্ধ জালে নির্বিচারে মাছ শিকার