ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন

কীটনাশক পানেই ২ কৃষকের মৃত্যু

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২২, ০১:৩২

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে কীটনাশক পানেই ২ সাঁওতাল কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের (রামেক) ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. কফিল উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শনিবার তদন্ত প্রতিবেদন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গোদাগাড়ীর দুই আদিবাসী কৃষক গত ২৩ মার্চ সন্ধ্যায় অসুস্থ হন। তারা নিজেরাই পরিবারের সদস্যদের জানান-তারা বিষ পান করেছেন। এরমধ্যে অভিনাথ মারান্ডি (৩৬) নামে একজন ওই রাতেই নিজ বাড়িতে মারা যান। আর রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৫ মার্চ মারা যান তার চাচাতো ভাই রবি মারান্ডি (২৭)। দুই কৃষকেরই বাড়ি গোদাগাড়ীর দেওপাড়া ইউনিয়নের নিমঘুটু গ্রামে। 

অভিনাথ ও রবির পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, অনেক ঘুরেও গভীর নলকূপ থেকে বোরোর জমিতে সেচের পানি পাচ্ছিলেন না তারা। তাই ক্ষোভে ওই নলকূপের সামনেই দু’জনে বিষ পান করেন।

এদিকে স্বামীর মৃত্যুর ঘটনায় অভিনাথের স্ত্রী রোজিনা হেমব্রম এবং রবির ভাই সুশিল মারান্ডি বাদী হয়ে গভীর নলকূপের অপারেটর সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে পৃথক আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন অভিযুক্ত সাখাওয়াত। এরপর তাকে নলকূপ অপারেটরের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বিএমডিএ। 

কৃষি মন্ত্রণালয়ের একটি তদন্ত কমিটি এ ঘটনা তদন্ত করে ইতোমধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করেছে। তবে, মামলার তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়ার জন্য পুলিশ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় ছিল। শনিবার এই প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. কফিল উদ্দিন। 

তিনি বলেন, ‘আমরা মৃতের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের নমুনা সংগ্রহ করেছিলাম। এরপর সেগুলো ভিসেরা রিপোর্ট প্রস্তুতের জন্য পাঠিয়েছিলাম ল্যাবে। ঐ ভিসেরা রিপোর্ট আমরা হাতে পাওয়ার পর চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করি। ভিসেরা রিপোর্ট অনুযায়ী মৃত দুইজনের শরীরে কিটনাশক বিষ পাওয়া গেছে। পরীক্ষায় আমরা অর্গানো ফসফরাস যৌগ নামে এক ধরনের কিটনাশক বিষ পাই। এই বিষপানেই তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে আমরা প্রতিবেদন দিয়েছি।’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের এসআই মাহফুজুর রহমান জানান, এই প্রতিবেদন আনতে তিনি লোক পাঠিয়েছিলেন। এখনো হাতে পাননি। তবে পেয়ে যাবেন। তিনি বলেন, যেহেতু দুইজনই মারা গেছেন, এ কারণে এই মামলায় এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মামলা কোন দিকে যাবে তা নিশ্চিত বলা যাবে। প্রতিবেদন হাতে আসলে মামলা তদন্তে গতি পাবে বলেও জানান তিনি।

ইত্তেফাক/এএএম