তানোরে বৃষ্টির অভাবে ঝরে পড়ছে আমের গুটি

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২২, ০৬:০১

তীব্র খরায় যেন পুড়ছে রাজশাহী। গত প্রায় চার মাস ধরে এ অঞ্চলে বড় ধরনের বৃষ্টিপাত হয়নি। টানা বৃষ্টিহীনতা আর খরায় তানোর উপজেলায় আমের গুটি ব্যাপক হারে ঝরে পড়ছে। একদিকে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় আমগাছে মুকুলও কম আসা, অন্যদিকে বৃষ্টির অভাবে গুটি ঝরে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন চাষি ও বাগান মালিকরা।

সরজমিনে জানা যায়, উপজেলার পৌরসদরের গোল্লাপাড়া, তানোর, সিন্দুকাই, চাপড়া, গোকুল, তালন্দ ও কলমা, বিল্লি, মুন্ডুমালা, চাঁন্দুড়িয়া, সরনজাই, বাধাইড়, পাঁচন্দর ইউনিয়নের প্রায় প্রতি বাড়িতেই রয়েছে আমগাছ। এ ছাড়া সড়কের পাশে ও উপজেলা জুড়ে আম বাগানে রয়েছে বিভিন্ন উন্নত জাতের আমগাছ। বর্তমানে এসব এলাকার আমগাছের নিচে দেখা যায় ঝরে পড়ে রয়েছে অসংখ্য ছোট ছোট আমের গুটি।

পৌর এলাকার গুবিরপাড়া গ্রামের আমচাষি হাফছা বেগম বলেন, ‘আমার সিন্দুকাই গ্রামে ১৩ বিঘার আমের বাগানে খরার কারণে আমের গুটি ঝরে পড়ছে। তারপর বৃষ্টির দেখা নেই। দিন দিন তাপমাত্রা বাড়ছে। বাগানের গাছে তিন ভাগের এক ভাগ আম ঝরে পড়েছে। বৃষ্টি না হওয়ায় আম নিয়ে বেকায়দায় রয়েছি।’

বেলপুকুরিয়া গ্রামের আমচাষি মোজাহার বলেন, ‘তীব্র খরার কারণে আমের গুটি ঝরে গেছে। ফলে অনেক গাছে কোনো আমই নাই। আমগাছে সেচ ও কীটনাশকের মিশ্রণ ম্পে্র করেও গুটি টেকানো যাচ্ছে না। এ সময় বৃষ্টি না হওয়ায় আম নিয়ে চিন্তায় রয়েছি।’

উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ডিএমএফ এমদাদুল ইসলাম বলেন, খরার জন্য আমের গুটি ঝরে যাচ্ছে। তবে আমচাষিদের পরামর্শ দিচ্ছি গাছের গোড়ায় পানি দেওয়াসহ ছত্রাকনাশক ওষুধ স্পে্র করার জন্য। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুল্লাহ আহম্মেদ জানান, তাপমাত্রা বাড়ার কারণে আমগাছের গুটি ঝরে যাওয়া স্বাভাবিক। এ সময় আম রক্ষার্থে বাগান মালিক ও চাষিদের গাছে বেশি করে পানি দিতে হবে।

এ বিষয়ে রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আব্দুল আলীম জানান, এবার রাজশাহীতে ১৮ হাজার ৫১৫ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। যা গতবার ছিল ১৭ হাজার ৯৪৩ হেক্টর জমিতে। ফলে এবার ৫৮২ হেক্টর জমিতে আম চাষ বেশি হওয়ায় গত বারের চেয়ে উত্পাদন ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করা হয়েছিল। তবে খরার কারণে আমের ফলনে ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

 

ইত্তেফাক/ইউবি