চট্টগ্রাম কাস্টমসের ভুয়া আইডি ব্যবহার করে বন্দর থেকে পাচার হওয়া ২২২ কন্টেইনারের এখনো কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। গত কয়েক মাস ধরে অন্তত ছয়টি গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তদন্ত করেও রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি।
পণ্য খালাস কিংবা লক করার নিয়ন্ত্রণ সংস্থা জাতীয় রাজস্ববোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। জাতীয় রাজস্ববোর্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন এসাইকুডা ওয়ার্লড সফটওয়্যারের মাধ্যমে চট্টগ্রাম কাস্টমসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা চালান খালাস কিংবা আটকিয়ে থাকেন। কিন্তু বলা হচ্ছে—সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার আইডি ও পাসওয়ার্ড হ্যাক করার মাধ্যমে পণ্যের খালাস নেওয়া হয়েছে। ২২টি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৩ হাজার ৭৭৭টি চালান অবৈধভাবে বন্দর থেকে খালাস নেওয়া হয়েছে। শুল্ক গোয়েন্দা পূর্বে পণ্যগুলো খালাস বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার পরও পণ্যগুলো কীভাবে খালাস হলো তা নিয়ে যেমন রহস্য রয়েছে, একইভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভিন্ন মতও রয়েছে বলে জানা যায়।
কাস্টমসের শুল্কগোয়েন্দা, জাতীয় রাজস্ববোর্ড কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি), দুর্নীতি দমন কমিশন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকেও বিষয়টি তদন্ত করছে। কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট (আপিল) কমিশনারের পক্ষ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ ফখরুল আলম গত ২৮ জানুয়ারি চট্টগ্রাম বন্দরের নিকট তথ্য চেয়ে পত্র দেন। পত্রে বলা হয়, তথ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে কন্টেইনার সমূহ বন্দরে রয়েছে কী না, যদি খালাস হয়ে থাকে তবে খালাসের তারিখ ও সময় উল্লেখ করতে বলা হয়, এসাইকুডা ওয়ার্লড সিস্টেম ও এক্সিটনোট ইস্যু করার সময় সিএন্ডএফ এজেন্টের জেটি সরকার বা প্রতিনিধির নাম ও কার্ড নম্বর, যে গেট দিয়ে খালাস হয়েছে ওই গেটের চালান সংশ্লিষ্ট মহলের ফটোকপি, চালানসমূহের কার টিকিট ও ট্রাক চালানের সত্যায়িত কপি। উল্লেখ্য, তদন্ত কমিটির প্রধান মোহাম্মদ ফখরুল আলম গত সোমবার চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।
