প্রাণঘাতী করোনা মহামারীর প্রাদুর্ভাবের দীর্ঘ দুই বছর পর খুলে দেওয়া হয়েছে সবকিছু। চলছে পবিত্র মাহে রমজান। ঈদকে সামনে রেখে নতুন নতুন পোশাক তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর দর্জিপাড়ার কারিগররা। রোজার শুরুতেই অর্ডার নেওয়া শেষ পর্যায়ে বলে জানিয়েছেন টেইলার্সগুলোর কর্ণধাররা।
ফুলবাড়ী পৌর শহরসহ ইউনিয়ন পর্যায়ের গ্রাম-গঞ্জের হাট-বাজারের দর্জি দোকানগুলো ঘুরে দেখা গেছে, ছোটবড় প্রতিটি দোকানেই সেলাই কাজের প্রচুর অর্ডার পাচ্ছেন কারিগররা। প্রত্যেক কারিগর দিনে তৈরি করছে প্রকার ভেদে ৪ থেকে ৬ টি অর্ডার করা পোশাক।
দর্জি কারিগরি নূর আলম, উষা রানী ও পিংকি রায় জানান, করোনার কারণে দীর্ঘদিন কাজকাম বন্ধ থাকার এবার একটু কাজের চাপ বেশি। দিন যতই যাচ্ছে, ক্রেতাদের ভিড় ততই বাড়ছে। তবে এ বছর প্রতিটি পোশাকের তৈরি মজুরি বাড়িয়ে দিয়েছেন টেইলার্স মালিকরা। ফলে কাজের আগ্রহও বেড়ে গেছে কারিগরদের।
ফুলবাড়ী পৌর শহরের বাজার এলাকার আনন্দ টেইলার্সের স্বত্বাধিকারী আনন্দ চন্দ্র সরকার, ডায়মন্ড টেইলার্সের মালিক শোয়েব সুলতান সপ্পু, গুডফিড টেইলার্সের মালিক শহিদুল ইসলাম এবং বস টেইলাসের মালিক ও কাটিং মাস্টার মাজেদুর রহমান বলেন, ‘গত দুই বছর করোনার কারণে সবকিছু বন্ধ ছিল। দীর্ঘদিন পর হলেও এবছর প্রচুর কাজ পাচ্ছি। কাজের চাপে তাদের দম ফেলানোর সময় মিলছে না। দোকানে অনেক কাপড়ের অর্ডার পেয়েছি। এগুলো সেলাই করতে অনেক সময়ের প্রয়োজন, তাই নতুন করে অর্ডার নেওয়া হয়তো দু-একদিনের মধ্যে বন্ধ করে দিতে হবে। কিছুদিন পর পবিত্র ঈদ উল ফিতর। এবার মানুষ অনেক কাপড় তৈরি করতে দিচ্ছে। প্রতিদিন এক একজন কারিগর আকার ভেদে ৪ থেকে ৬টি পোশাক সেলাই করছেন। এতে মজুরি পাচ্ছে ৭০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত। এবার রমজানের আগ থেকে কাজের চাপ বেড়ে গেছে। কাজের চাপের কারণে অর্ডার কম নেয়া হয়েছে। ডিজাইনের ওপর নির্ভর করে মজুরি নেয়া হচ্ছে। তবে কারিগরদের মজুরি বাড়িয়ে দেওয়ার কারণে পোশাক তৈরির মজুরিও বাড়াতে হয়েছে।
ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, পবিত্র ঈদের আগে ও পরে যাতে কোন প্রকার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে সেদিকে পুলিশ সদস্যরা সজাগ রয়েছেন।
ফুলবাড়ী পৌরসভা মেয়র মো. মাহমুদ আলম লিটন বলেন, ঈদকে সামনে রেখে পৌর শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আশা করছি এবার করোনামুক্ত পরিবেশে পবিত্র ঈদ উদযাপনসহ আনন্দ উপভোগ করবো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ঈদকে সামনে রেখে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলাবাসীর নিরাপত্তার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন সজাগ ও সতর্ক রয়েছে।

ঈদ উপলক্ষে জমজমাট হাজীগঞ্জ বাজার