বেগমগঞ্জ উপজেলার তিন বছরের শিশু তাসপিয়া হত্যা মামলার গ্রেফতারকৃত আসামিরা পরিকল্পনা অনুযায়ী হত্যা সংঘটিত করার উদ্দেশ্যে ২১ হাজার টাকা দিয়ে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ক্রয় করে বলে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রথমে ইট ছুড়ে মারে তাসপিয়ার মাথায়। ইটের আঘাতের ফলে তাসপিয়া মাথা থেকে রক্ত বের হয়। তাসপিয়ার বাবা আবু জাহের মেয়েকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার পথে সন্ত্রাসীরা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে তাকে ও তার কোলে থাকা মেয়ে তাসপিয়াকে গুলি করে মারাত্মকভাবে আহত করে। সেসময় সরাসরি গুলি করে আসামি রিমন ও তার সহযোগীরা।
খন্দকার আল মঈন বলেন, জমি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে পূর্ব বিরোধ ছিল। এনিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে হামলা ও প্রতি হামলার ঘটনা ঘটে। সামাজিকভাবে মধ্যস্থতার উদ্যোগে নিলে নিহত তাসপিয়ার বাবা আবু জাহের সত্য কথা বলায় তা আসামিদের বিপক্ষে যায়। এ জন্য আসামিরা মাওলানা আবু জাহেরকে হত্যার পরিকল্পনা করে। তাসপিয়া হত্যাকাণ্ডের পর গ্রেফতারকৃত আসামিরা ঢাকায় আত্মগোপন করে। পরে আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে ঢাকায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সরব উপস্থিতি থাকায় তারা নোয়াখালীর একটি চরে আত্মগোপন করে।
র্যাব-১১ এর সিপিসি-৩ নোয়াখালী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার মো. শামীম হোসেন বলেন, প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। প্রধান আসামি রিমন ৫টি মামলার ওয়ারেন্টভূক্ত আসামি। গ্রেফতারকৃত আসামিদের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও অপর আসামিদের ধরতে র্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে সুবর্ণচর উপজেলার চরক্লার্ক ইউনিয়নের কেরামত এলাকা র্যাব মামলার প্রধান আসামি রিমন, মহিন, আকবর, সুজন ও নাঈমসহ পাঁচ আসামিকে গ্রেফতার করে র্যাব-১১। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি দেশীয় পাইপগান ও একটি বিদেশী পিস্তল, একটি ম্যাগজিন, পাঁচটি কার্তুজ ও ছয়টি গুলি উদ্ধার করা হয়।
গত ১৩ এপ্রিল বিকেলে বেগমগঞ্জ উপজেলার হাজিপুর ইউনিয়নে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয় বাবার কোলে থাকা শিশু জান্নাতুল ফেরদাউস তাসপিয়া। আহত হন শিশুটির বাবা সৌদি প্রবাসী মাওলানা আবু জাহের। এ ঘটনার পরদিন তাসপিয়ার খালু হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে রিমন, মহিন, বাদশাসহ ১৭ জনকে এজহারভূক্ত ও অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটির রাত ও পরদিন ৪ আসামিকে গ্রেফতার করে বেগমগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ। এ নিয়ে এজহারভূক্ত ১৭ আসামির মধ্যে ৯জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশের জেলা গোয়েন্দা শাখায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
