গুরুদাসপুরে ভূগর্ভস্থ পানির সংকট

৫ বছরে ১৭ ফুট নিচে পানির স্তর, সেচ সংকটে কৃষক

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২২, ১৪:১২

নাটোরের গুরুদাসপুরে দেখা দিয়েছে ভূগর্ভস্থ পানির তীব্র সংকট। আধুনিক সাবমার্চেবল পাম্পে পানি উঠলেও অকেজো হয়ে পড়েছে ডিপ  সেট টিউবওয়েল ও অগভীর নলকূপগুলো। এছাড়া ডিজেল চালিত শ্যালো মেশিনে পানি না ওঠায় সেচ সংকটে পড়েছে এখানকার কৃষকরা।

জানা গেছে, বিগত ৫ বছরে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে ১৭ ফুট নিচে নামায় গুরুদাসপুরের মানুষ এই সংকটে পড়েছে। 

এ অঞ্চলের কৃষকেরা বলছেন, ‘পানির উৎসের সংখ্যা কমে আসায় কৃষকেরা বোরো খেতে ঠিকমত সেচ দিতে পারছেন না। চলনবিল অধ্যুষিত গুরুদাসপুরের নিম্নাঞ্চলের নদী-নালাতেও পানি নেই। ফলে অন্তত ১০ ফুট গর্ত করে ডিজেল চালিত শ্যালো বসিয়ে পানি তুলতে হচ্ছে। এতে পরিশ্রমের পাশাপাশি বাড়ছে সেচ খরচ।’

বিএডিসির জরিপ মতে, সেচ কাজে ব্যবহৃত পানির উৎসের ক্ষেত্রে ২০১৮ সালের শুষ্ক মওসুমে পানির স্তর ছিল ১৯ ফুট নিচে। ২০১৯ সালে এই স্তর ২৩.৫ ফুট, ২০২০ সালে ২৭.৫, ২০২১ সালে ৩২ এবং চলতি মওসুমে ৩৬ ফুট নিচে নেমেছে। 

গুরুদাসপুর কৃষি সম্প্রসারণ অফিস জানিয়েছে, গুরুদাসপুরে শুষ্ক মওসুমে সেচ নির্ভর ফসল বোরো ধান ৫ হাজার ৪শ হেক্টর, ভুট্টা ৮১০ হেক্টর, তরমুজ ৯৬০ হেক্টর এবং বাঙ্গি চাষ হয়েছে ৯৮০ হেক্টর জমিতে। এসব ফসলে সেচ কাজে ব্যবহৃত অগভীর নলকূপ রয়েছে ৪ হাজার ৮০৫টি। খরা দেখা দেওয়ায় এসব নলকূপে পানি উঠছে না। এছাড়া ডিজেল চালিত শ্যালো মেশিন রয়েছে ৩ হাজার ৯শটি।
 
রুহাই গ্রামের কৃষক আব্দুল্লাহ ও আলী জাকির হোসেন বলেন, ‘ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নামায় অধিক খরচে ডিজেল চালিত শ্যালো মেশিন দিয়ে ধানক্ষেতে সেচ দিতে হচ্ছে। তবে বেলা বাড়লে শ্যালো মেশিনেও পানি উঠছে না। সবমিলিয়ে সেচ সংকট দেখা দিয়েছে।’

এ বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তা হারুনর রশিদ ইত্তেফাককে বলেন, ‘শেষ সময়ে বোরো ধানে সেচ দিতে না পারলে ক্ষতির মুখে পড়তে পাড়ে কৃষক। শুধু সেচের ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি চলছে তা নয়। তুলনামূলক উঁচু এলাকাতে ডিপ সেট টিউবওয়েলেও পানি উঠছে না। এ কারণে শুকনো পুকুর বা খালের ভেতর গর্ত করে টিউবওয়েল বসিয়ে পানি তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

গুরুদাসপুরের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের জরিপ মতে, চলতি শুষ্ক মওসুমে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ৩৫ ফুট নিচে নেমেছে। পানির এই স্তর সাধারণ নলকূপ ও ছোট মটরের ধারণক্ষমতার বাহিরে থাকায় এসব উৎস থেকে পানি সরবরাহ করা যাচ্ছে না। ফলে খাওয়াসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে দেখা দিয়েছে পানির সংকট।

এই অধিদপ্তরের জরিপ অনুযায়ী, খাবার পানির উৎসের ক্ষেত্রে ২০১৮ সালের শুষ্ক মওসুমে পানির স্তর ছিল ১৮ ফুট নিচে। ২০১৯ সালে এই স্তর ২০.৫ ফুট, ২০২০ সালে ২৫.৫, ২০২১ সালে ২৯ এবং চলতি মওসুমে ৩৫ ফুট নিচে নেমেছে। 

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মোছা. ছালমা খাতুন ইত্তেফাককে বলেন, ‘নদী-নালা, খাল-বিল শুকিয়ে যাওয়া এবং শীতের শুরু থেকে শুষ্ক মওসুম পর্যন্ত এই দীর্ঘ সময়ে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় তীব্র তাপদাহে প্রতি বছরই ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নামছে। ফলে অগভীর সাধারণ টিউবওয়েলের ব্যবহার কমছে। বাড়ছে ডিপ সেট টিউবওয়েল ও গভীর নলকূপের সংখ্যা।’

 

ইত্তেফাক/এসজেড