চলছ পবিত্র রমজান মাস। এরই মধ্যে চলে গেছে ২০ রমজান। আর মাত্র সপ্তাহ দেড়েক পর উদযাপিত হবে ঈদুল। এ উপলক্ষকে সামনে রেখে সারা দেশের মত কক্সবাজারেও জমে উঠেছে ঈদ বাজার। তবে করোনার পর কক্সবাজার পৌরবাসী ও জেলা শহরের মার্কেটমুখী ক্রেতাদের ভোগাচ্ছে সড়ক মেরামত।
শহরের প্রধান ও উপ-সড়কের পাশ ঘেঁষে নতুন করে ড্রেন নির্মাণের ফলে যান চলাচল দূরে থাক পায়ে হাটাও দূরূহ হয়ে পড়েছে। ফলে, রমজানের শুরু থেকে সব শ্রেণী পেশার মানুষ মার্কেট বিমূখ ছিল। রমজানের ১৮ দিবস পর্যন্ত আশানুরূপ কেনাবেচা হয়নি কোথাও। কিন্তু শুক্রবার বিকেল থেকে ধীরে ধীরে বাড়ছে বিকিকিনি এমনটি জানিয়েছেন কক্সবাজার নিউ মার্কেটস্থ খোয়াব ফ্যাশনের মালিক লুনা আকতার ও তুষার তুহিন।
তাদের মতে, গত দুটি বছর করোনার থাবায় নাজেহাল হয়েছে জন-জীবন। চলমান সময়ে করোনার বিধিনিষেধ মুক্ত সময় চললেও দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতির কারণে মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। হয়তো এসব কারণে ঈদ বাজারমুখী ক্রেতার উপস্থিতি আশানরূপ ছিলো না। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা হতে কিছুটা ক্রেতা আসা শুরু হয়েছে। আগে পরিবারের সবাই এক সঙ্গে বাজারে এলেও এখন হয় পরিবারের পুরুষ না হয় নারী অভিভাবক একা এসে সবার কাপড় পছন্দ করছেন।
ঈদবাজার করতে আসা শিউলি আকতার বলেন, পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাজার করতে আসার মজাই আলাদা। কিন্তু কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়কসহ মার্কেট কেন্দ্রীক সকল প্রয়োজনীয় উপ-সড়কও মেরামত করা হচ্ছে। ফলে যানবাহনে চলা দূরে থাক পায়ে হাটাও কষ্টকর। গত দুদিনের বৃষ্টিতে সড়কে ফেলা মাটিগুলো কয়েক ইঞ্চি কাদায় ভরে আছে।
বৃহস্পতিবার রাতে ও শুক্রবার বিকেলে গিয়ে দেখা যায়, ঈদে উৎসবের আমেজ ছড়াতে রমজানের শেষ সময়ে এসে কেনা কাটায় মনোযোগী হয়েছেন সব শ্রেনীর মানুষ। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরেরা অগ্রিম বেতন-বোনাস না পেলেও অনেকে বাড়ির ছোট-বড় সদস্যদের চাপাচাপিতে ধার-দেনায় হলেও বাজারে পা ফেলছেন। বাজারে আসছেন প্রবাসীদের পরিবার-পরিজনও। এতে শেষ মূহুর্তে জমে উঠেছে কক্সবাজারের ঈদবাজার। ফলে জেলা, উপজেলা ও পৌর শহরের বাণিজ্যিক এলাকার বিপনী বিতান গুলো মুটামুটি লোকারণ্য। চলছে মধ্যরাত পর্যন্ত বিকিকিনি।
জেলা শহরের নিউ মার্কেট, আপন টাওয়ার, ফিরোজা শপিং কমপেক্স, পৌর সুপার মার্কেট, ফজল মার্কেট, সমবায় সুপার মার্কেট, এ ছালাম মার্কেট, ইডেন গার্ডেন সিটি, সী-কুইন মার্কেট, বাটা মার্কেট, ডাবা বাজার, মসজিদ মার্কেট ও হকার মার্কেটসহ বিপনী বিতানগুলোতে পুরুষের চেয়ে নানা বয়সী নারী ক্রেতার ভীড়। তাল মিলিয়ে আসছে কিশোর ও তরুণরাও। ঈদে পোশাকে মধ্যবয়সী কিংবা নব বিবাহিতা নারীরা বিভিন্ন নামী-দামী র্ব্যান্ডের শাড়ী খুঁজলেও তরুনী ও কিশোরীদের পছন্দ থ্রী-পিচ ও ভারতীয় সিনেমা ও সিরিয়ালের চরিত্রের সাথে মেলানো নামের নানা পোশাক।
নির্দিষ্ট কোন ব্রান্ড না থাকলেও ছোটদের জন্য খোঁজা হচ্ছে লেটেস্ট ব্রান্ডের নানা ধরণের পাঞ্জাবী-মেয়েদের ড্রেস। এসবের সাথে কেউ কেউ চাচ্ছেন পুরোনো শিপন, থ্রি-পিস, জিন্স প্যান্ট, জামদানি শাড়ী, বেনারশি, কাতানসহ বিভিন্ন ব্রান্ডের পোশাক।
কক্সবাজার দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, রমজান শুরুর পর থেকেই বাজার খুবই মন্দা। ঈদে বিনিয়োগ উঠে আসবে কিনা তা নিয়ে ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার থেকে কিছুটা বেড়েছে ক্রেতার ভিড়। এতে ব্যবসায়ীরা কিছুটা হলেও স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলছে।
শুধু কাপড় নয় বাড়ছে পাদুকা বিক্রিও। শহরের পান বাজার সড়কস্থ বাটা, ডাটা, মসজিদ মার্কেট গুলো দেশী-বিদেশী কোম্পানীর নানা ডিজাইনের জুতোর পশরা সাজিয়ে রেখেছে। বেড়েছে প্রসাধন সামগ্রী বিক্রিও।
ফজল মার্কেটস্থ অংকুর বিপনীর মালিক আইনজীবী কামরুল হাসান বলেন, গত দুবছর করোনার কারণে বাজার জমেনি বললেই চলে। এবার করোনার খড়গ না থাকলেও উন্নয়নের প্রসববেদনায় ভোগান্তিতে পড়েছে ক্রেতারা। ফলে চিন্তিত ব্যবসায়ীরা। তবে, হালকা বিকিকিনি বেড়েছে।
জেলার নয় উপজেলার সব মার্কেট গুলোতে মোটামুটি বিক্রয় বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধিরা। গ্রামের লোকজন প্রথম ১০ রোজার পর থেকে বাজারে আসা শুরু করে পরিবারের সদস্যদের জন্য পছন্দের পোশাক ক্রয় করেছেন, বাকিরা এখনও কেনা অব্যহত বলে দাবি করেছেন তারা।
এ দিকে চুরি-ছিনতাই ও ইভটিজিং প্রতিরোধে বিপনী বিতানগুলোর সামনে নিরাপত্তা বলয় তৈরী করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে নিরাপত্তাকর্মী নিয়োজিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার ব্যবসায়ী দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আমিনুল ইসলাম মুকুল।
কক্সবাজার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মুনীর উল গীয়াস বলেন, কক্সবাজার ব্যবসায়ী দোকান মালিক সমিতিভুক্ত প্রায় অর্ধশত মার্কেটসহ উপজেলার প্রতিটি মার্কেটে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যাপ্ত বলয় রয়েছে। তাদের সাথে রয়েছে মার্কেটের নিজস্ব কর্মীও।
এদিকে, ক্রেতাদের অভিযোগ মার্কেটগুলোতে বাজারে লোকজন কম আসলেও রোমিওদের আনাগোনা বেশি। এসব রোমিওরা সুযোগ বুঝে মেয়েদের টিজ করছে।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. হাছানুজ্জামান জানিয়েছেন, ঈদে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব ধরণের প্রস্তুতি আগে থেকেই নেয়া হয়েছে। প্রতিটি মার্কেটের সামনে বসানো রয়েছে পর্যাপ্ত পুলিশ পাহারা। আগে থেকেই বলা হয়েছিল, কেউ কোথাও কোন ধরণের হয়রানির শিকার হলে পুলিশকে অবহিত করতে। শুধু মার্কেট নির্বিঘ্ন করণ নয় চলাচলেও প্রশান্তি দিতে সড়কে ট্রাপিক পুলিশের পাশাপাশি কাজ করছে কমিউনিটি পুলিশের সদস্যরা। তবে, নির্মানাধীন সড়কের কারণে চলা চলে একটু ভোড়ান্তি পোহাতে হচ্ছে।
