২৬ এপ্রিল। সকাল ১০ টা। আসছে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মুজিববর্ষে ভূমিহীন-গৃহহীনদের জন্য তৈরি প্রধানমন্ত্রীর ঈদের উপহার ৫০টি ঘর উদ্বোধন করবেন। আড়াইহাজার উপজেলার ৫০টি পরিবার তৃতীয় পর্যায়ে এবারের ঈদ উপহার হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে বরাদ্দ ঘরগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝে পাবেন।
এ নিয়ে আড়াইহাজার উপজেলা জুড়ে বইছে আনন্দের বন্যা। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহারের এই ঘর হাসি ফুটিয়েছে ভূমিহীন ও গৃহহীন অসহায় অন্যান্য পরিবারগুলোর মুখে। নিজের একটি পাকা-পরিচ্ছন্ন ঘরে থাকার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে তাদের নিরাপদ ও মজবুত স্থায়ী ঘর পেয়ে। তৃতীয় পর্যায়ে এবার উপজেলার মাহমুদপুরে ১১ টি, রামচন্দ্রদীতে ৬ টি, চৈতনকান্দায় ৬ টি, হাইজাদি এলাকায় ৬টি ও কামরানির চর এলাকায় ২১ টি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
ইতোমধ্যে নির্মাণ করা ঘরগুলো পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার উপপরিচালক ফাতেমা তুল জান্নাত। এছাড়া জেলা প্রশাসনের মিটিংয়ে আড়াইহাজার উপজেলার ঘরগুলো প্রশংসিত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মুজিব জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে ২০২০ সাল থেকে গৃহীত এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলায় এ যাবৎ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ২০২০-২১ অর্থ বছরে প্রথমে একক গৃহ নির্মাণের জন্য ১ দশমিক ১৮ একর খাসজমি চিহ্নিত করা হয়। যার বাজার মূল্য ১ কোটি ৪ লাখ টাকা। এ পর্যন্ত আড়াইহাজার উপজেলায় ৩ দশমিক ৪৬ একর খাসজমি উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত এই জমির মূল্য ৬ কোটি ৬৮ লাখ ৪ হাজার টাকা। উপজেলা নির্বাহী অফিসার রফিকুল ইসলাম ও সহকারী কমিশনার ভুমি আরাফাত মোহাম্মদ নোমানের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এই সব খাস জমিগুলো উদ্ধার করতে সক্ষম হন।
আড়াইহাজার উপজেলার ইউএনও মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ইতিমধ্যে যারা ঘর পেয়েছেন তারা স্বাচ্ছন্দে পরিবার পরিজন নিয়ে জীবন যাপন করছেন। এছাড়াও করোনাকালে এসব দরিদ্র মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার খাদ্য সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে কোনো ভূমিহীন, গৃহহীন যেন প্রধানমন্ত্রীর উপহার থেকে বঞ্চিত না হয় সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে।
সহকারী কমিশনার ভুমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাত মোহাম্মদ নোমান জানান, ভূমিহীন ও গৃহহীনদের আশ্রয়ণ প্রদান একটি অনন্য দৃষ্টান্ত।নিঃসন্দেহে এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবু সাঈদ মল্লিক বলেন, আড়াইহাজার পৌরসভার কামরানির চর, মাহমুদপুর ইউনিয়নের খাসেরকান্দি এলাকাও হাইজাদী ইউনিয়নের হাইজাদী এলাকায় মোট ৫০ টি পরিবার প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার হিসেবে ঘর পেয়েছে। তিনটি এলাকায় অনেক খাস জমি পতিত অবস্থায় আবার বেদখল হয়ে আছে। সরকারি খাসের জমি অনেকেই দখল করে রেখেছেন। এসব খাস জমি উদ্ধার করে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর তৈরি করা হয়।
ঘর বরাদ্ধ পাওয়া পরিবারের লোকজন বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। তার জন্য দোয়া করি। আওয়ামী লীগ সরকার মানুষের ভালো করছে। আমাগো মাথার গোজার কোনো ঠাঁই ছিল না। ছিল না ঠিকানা। ভাসমান জীবন যাপন করতাম। মাটি ভাড়া নিয়া কত কষ্টে দিন পার করতাছি। শেখ হসিনাকে আল্লাহ ভালো রাখুক। এই দোয়া করি।’
