‘ম্যাচ জিততে হবে তো। এখানে আমরা জেতার জন্যই খেলবো। দক্ষিণ আফ্রিকায় কি হয়েছে, হোমে এসব ভেবে খেলে লাভ নেই। সোজা হিসেব জিততে হবে।’ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজ নিয়ে আলাপে গতকাল এমন করেই জয়ের ক্ষুধা ফুটে উঠেছে জাতীয় দল সংশ্লিষ্ট এক গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার কণ্ঠে। টেস্টে জয়ের জন্য বাংলাদেশের তৃষিত হৃদয়ের ছবিটা এখানেই স্পষ্ট।
আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় চক্রে এখন পর্যন্ত ৬ ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। পাঁচ হারের বিপরীতে জয় মাত্র একটি। বছরের শুরুতে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছিল আট নম্বরে থাকা মুমিনুল হকের দল। সর্বশেষ দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে দুই টেস্টেই স্পিনে বিধ্বস্ত হয়েছে বাংলাদেশ। প্রোটিয়াদের কাছে হারলেও ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের ছক কষছে টাইগাররা। আগামী মাসেই লঙ্কানদের বিরুদ্ধে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে মুমিনুল বাহিনী।
পেস নাকি স্পিন নির্ভর উইকেট হবে, লঙ্কানদের বিপক্ষে খেলার কৌশল নিয়ে মুখ খুলছেন না দায়িত্বশীল কেউই। তবে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, স্পিন যুদ্ধে দিমুথ করুনারত্নেদের হারানোর আশায় প্রস্তুত হচ্ছে বাংলাদেশ। চট্টগ্রাম, মিরপুর দুই ভেন্যুতেই স্পিন নির্ভর কন্ডিশনে খেলা হবে। হোমে লঙ্কানদের বিরুদ্ধে চিরচেনা স্পিনে জয়ের ছক বানাচ্ছে বাংলাদেশ। স্পিনেই লুকিয়ে টাইগারদের জয়ের মন্ত্র।
দেশের মাটিতে সাদা পোশাকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় নেই বাংলাদেশ দলের। এবার সেই জয়ের খাতা খুলতে বদ্ধ পরিকর দলটি। হোম এন্ড অ্যাওয়ে মিলিয়ে ২২ টেস্টে বাংলাদেশের জয় মাত্র ১টি, সেটিও ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কার মাটিতে। এবং তা ছিল বাংলাদেশের শততম টেস্ট।
আসন্ন সিরিজে স্পিন নির্ভর হতে টিম ম্যানেজমেন্টকে সাহস যোগাচ্ছে সাকিব আল হাসানের উপস্থিতি। সিরিজটা খেলবেন বাঁহাতি এ অলরাউন্ডার। সঙ্গে ইনফর্ম তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ আছেন। স্পিনার ত্রয়ী হতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের জয়ের মূল অস্ত্র। সঙ্গে অভিজ্ঞ তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিমকেও পাচ্ছে স্বাগতিকরা। অধিনায়ক মুমিনুল, লিটন দাসরা আছেন।
গতকাল সূত্র জানায়, ফাস্ট বোলারদের নিয়ে বোলিং আক্রমণ সাজানোর চিন্তা বাদ হয়ে গেছে। কারণ ইনজুরিতে পড়ে শীর্ষ পেসারদের মধ্যে তাসকিন আহমেদ ও শরীফুল ইসলাম নেই এই সিরিজে। হাতে সেলাই পড়লেও এবাদত হোসেন খেলতে পারবেন সিরিজটা। এছাড়া আবু জায়েদ রাহী, খালেদ আহমেদ ফিট আছেন। কিন্তু দুই টেস্টে পেসারদের প্রয়োজন হবে খুব সামান্যই। এমনও হতে পারে একাদশে থাকবেন মাত্র এক পেসার।
জানা গেছে, শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সিরিজের দলটা চূড়ান্ত করে ফেলেছেন নির্বাচকরা। দ্রুতই ঘোষণা হবে দল। বিসিবি সভাপতির অনুমোদনের অপেক্ষায় আছেন নির্বাচকরা। আজ বিসিবি আয়োজিত ইফতারে সভাপতির অনুমোদন মিলতে পারে।
জানা গেছে, হোম সিরিজ বলেই স্কোয়াড বড় হবে না। তাছাড়া কোভিড প্রটোকলও থাকছে না। প্রথম টেস্টের জন্য ১৩-১৪ জনের দল ঘোষণা করা হবে। এবং স্কোয়াডে পেসারদের আধিক্য দেখা যাবে না।
বাংলাদেশ দলের মানসিকতা স্পষ্ট, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজে জয়ের জন্য মরিয়া মুমিনুল বাহিনী। হোম কন্ডিশন, সিনিয়ররা সবাই আছেন, তাই লঙ্কানদের হারাতে স্পিনারদের মোক্ষম অস্ত্র মনে করছে বাংলাদেশ।

