রাজশাহীর হিমাগারে পচে গেছে দেড় লাখ বস্তা আলু

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২২, ১০:৩৬

রাজশাহীর পবা উপজেলায় একটি হিমাগারে প্রান্তিক কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের প্রায় দেড় লাখ বস্তা আলু পচে নষ্ট হয়ে গেছে। হিমাগারের গ্যাস মেশিন খারাপ হওয়ার কারণে আলুগুলো পচে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পবা উপজেলার মদনহাটি এলাকার ‘আমান কোল্ডস্টোরেজ লিমিটেড’ নামের ঐ হিমাগারে রাখা আলুর ক্ষতিপূরণের বিষয়ে উদ্বেগ-উত্কণ্ঠায় সময় পার করছেন কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। শত শত প্রান্তিক কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী গত মাসেই হিমাগারটিতে তাদের কষ্টার্জিত আলু রাখেন।

হিমাগার সূত্র জানায়, ‘আমান কোল্ডস্টোরেজ লিমিটেডে’ ১ লাখ ৬৬ হাজার বস্তা আলু রয়েছে। প্রতিটি বস্তায় আলুর পরিমাণ ৫০ কেজি। ৫০ কেজি আলুর বস্তার বর্তমান বাজারদর ৬০০ টাকা। এ হিসেবে সব আলু পচে গেলে সার্বিক ক্ষতির পরিমাণ ৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা দাঁড়ায়। কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দাবি, সব আলুই পচে গেছে। বস্তায় একটা আলু পচে যাওয়া মানেই সব আলু নষ্ট হওয়া। এগুলো আর খাওয়ার উপযোগী থাকে না। একমাত্র এই হিমাগারে এমন পরিস্থিতিই তৈরি হয়েছে।

ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত বুধবার সকালে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গুদামঘর থেকে আলুর বস্তা বের করে স্টোরেজের ভেতরেই বাতাস দিচ্ছিল কতৃ‌র্পক্ষ। তখনই কৃষকরা আলু পচে যাওয়ার কথা জানতে পারেন। এরপর ক্ষতিপূরণের দাবিতে কৃষকরা হিমাগারের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। পরে হিমাগার কতৃ‌র্পক্ষ ১০ দিনের মধ্যে তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দেয়। এরপর কৃষকরা সাময়িক শান্ত হয়।

সম্প্রতি ঐ হিমাগারে গিয়ে দেখা যায়, যে বস্তাই খোলা হচ্ছে সেখান থেকেই বের হচ্ছে পচা আলু। হিমাগারের সামনে আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, হিমাগারের গ্যাস মেশিন খারাপ থাকার পরও আলু লোড করা হয়েছে। প্রচণ্ড গরমে দুর্বল মেশিন ঠিকমতো গুদাম ঠান্ডা রাখতে পারেনি। ফলে সংরক্ষিত সব আলু পচে গেছে। এগুলো আর বাজারে বিক্রির উপযোগী নেই। স্থানীয় আলু ব্যবসায়ী কামরুল হাসান জানান, তিনি ৭ হাজার বস্তা আলু রেখেছিলেন। এখন জানতে পারছেন, তার সব আলু পচে গেছে। ক্ষতিপূরণ না দিলে তিনি পথে বসে যাবেন। তিনি আরো জানান, সাধারণত মার্চ থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত হিমাগারে আলু রাখেন কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। এ জন্য হিমাগার কর্তৃপক্ষকে বস্তাপ্রতি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা ভাড়া দিতে হয়। আলুর বস্তা বের করার সময় ভাড়ার টাকা পরিশোধ করতে হয়। স্থানীয় সবজি ব্যবসায়ী রানা সরদার জানান, গত বছর তিনি এই কোল্ডস্টোরেজে আলু রেখেছিলেন। বিক্রি করার পর ক্রেতারা অভিযোগ করেন যে, আলুর মান ভালো নয়, নষ্ট হয়ে গেছে। তাই এবার তিনি বেশির ভাগ আলু আরেকটি হিমাগারে রেখেছেন। শুধু একটা ট্রলি ভুল করে ‘আমান কোল্ডস্টোরেজ লিমিটেড’ ঢুকে পড়েছিল বলে সেই ট্রলির ৫৭ বস্তা আলু এখানে রাখা হয়েছিল। এগুলোর সবই পচে গেছে বলে জানান তিনি।

তবে ‘আমান কোল্ডস্টোরেজ লিমিটেডে’র ব্যবস্থাপক ফারুক হোসেন বলেন, ‘আলু নানা কারণেই পচতে পারে। আলুর মান খারাপ হলেও পচে যায়। কেন পচেছে তা জানি না। কী পরিমাণ পচেছে সেই হিসাব এখনো করা হয়নি। চাষিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার মালিকের এটা এক দিনের ব্যবসা নয়। কীভাবে কী করা যায় মালিকপক্ষ দেখবেন।’ তবে অনেক চেষ্টা করেও ‘আমান কোল্ডস্টোরেজ লিমিটেড’ এর মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

ইত্তেফাক/ইআ