বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২, ২৩ আষাঢ় ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

আধুনিক পুল থাকা সত্ত্বেও সাঁতারু উঠে আসছে না চট্টগ্রামে

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২২, ০৮:৫০

আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক সুইমিং পুল থাকা সত্ত্বেও কোনো সুইমার সৃষ্টি হচ্ছে না বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে খ্যাত চট্টগ্রামে। তার জন্য কোনো পরিকল্পনাও নেই ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক সংগঠন চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার। 

অনেক কাঠ-খড় পুড়িয়ে চট্টগ্রাম এম এ আজিজ স্টেডিয়াম-সংলগ্ন আউটার স্টেডিয়ামের দক্ষিণ পার্শে দুই একর ভূমির ওপর নির্মাণ করা হয় সুইমিং পুল কাম কমপ্লেক্স। এটির নির্মাণে ব্যয় হয় ১১ কোটি ৬১ লাখ টাকা। পুলটি নির্মিত হওয়ার আগে এর পক্ষে-বিপক্ষে রশি টানাটানির পর বিভাগীয় সদর দপ্তরের গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের তত্ত্বাবধানে এবং চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহযোগিতায় সুইমিং পুলটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণকাজ শেষে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল ২০১৯ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নবনির্মিত পুলটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

মূলত দক্ষ সাঁতারু তৈরি ও প্রতিযোগিতা আয়োজনের জন্য সুইমিং পুলটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ তিন বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও এখান থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো একজন সুইমারও সৃষ্টি করা যায়নি। চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার (সিজেকেএস) পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগও নেওয়া হয়নি এখন পর্যন্ত। গত তিন বছরে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে শিশু-কিশোরদের সাঁতার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কয়েক লাখ টাকা আয় করেছে জেলা ক্রীড়া সংস্থা। কিন্তু জাতীয় আসরে অংশগ্রহণ করার মতো সাঁতারু খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। অথচ পুরুষ ও নারী মিলিয়ে চার জন ট্রেনার রয়েছেন এখানে। প্রতিদিন এই ট্রেনাররা পালা করে পুলে সাঁতারের তালিম দেন শিশু-কিশোরদের। প্রতিজন থেকে নেওয়া হয় মাসিক ৩ হাজার টাকা। এক মাস ট্রেনিং দিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। আবার নতুনভাবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে নতুন প্রশিক্ষণনার্থী ভর্তি করা হয়।

এ ব্যাপারে ট্রেনার দ্বিনুল ইসলাম ও এনামুল হক দৈনিক ইত্তেফাককে জানান, প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্য থেকে প্রতিশ্রুতিশীল সাঁতারু পাওয়া গেলেও উদ্যোগের অভাবে তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই। সাঁতার শিখতে আসা শিশু-কিশোরদের প্রতি নজর দিয়ে তাদের গড়ে তুলতে পারলেই ভবিষ্যতে সুইমারের অভাব হবে না চট্টগ্রামে। এ ব্যাপারে সাঁতার ফেডারেশনের নির্বাহী সদস্য ও চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার (সিজেকেএস) প্রতিনিধি মো. আসলাম মোর্শেদ ইত্তেফাককে জানান, ব্যয়বহুল সুইমিং পুল রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সাঁতার শেখানোর প্রয়োজয়নীতা রয়েছে। তবে প্রতিশ্রুতিশীল সুইমার সৃষ্টির জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ অপরিহার্য। করোনার কারণে গত দুই বছর সে ধরনের পরিকল্পনা নেওয়া সম্ভব হয়নি। চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের নির্দেশ রয়েছে প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্য থেকে ভালো কোনো সাঁতারু পাওয়া গেলে তাদের দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। সেই পথে জেলা ক্রীড়া সংস্থা হাঁটছে। অদূর ভবিষ্যতে এই পুল থেকে উন্নতমানের সুইমার উঠে আসবে এতে কোনো সন্দেহ নেই।

ইত্তেফাক/ ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

সীতাকুণ্ডের ঘটনায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান মাশরাফির

৫০ টাকায় দেখা যাবে ম্যাচ

জব্বারের বলীখেলায় চ্যাম্পিয়ন জীবন

বর্ণিল সাজে সেজেছে সাগরিকা

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

 ক্রিকেটারদের অসন্তোষে পিছু হটল সিজেকেএস

পেশাদার লিগ আয়োজনে বঞ্চিত এম এ আজিজ স্টেডিয়াম

চট্টগ্রামে পৌঁছেছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান দল