এক হাজারি ক্লাবে বিজয়

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২২, ০১:৩৩

খুব কম সময়ের ব্যবধানে দুজন ক্রিকেটারের বদলে যাওয়ার নজির দেখলো বাংলাদেশের ক্রিকেট। জাতীয় দলে ব্রাত্য হয়ে পড়া তাসকিন আহমেদ নিজেকে বদলেছেন খোলনলচে। ফিরে এসে অবারিত সাফল্য পেয়েছেন। তাসকিনের দেখানো পথেই যেন হাঁটছেন এনামুল হক বিজয়। প্রায় বিস্মৃত হতে বসা এই তারকা ক্রিকেটার এবার ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে নিজেকে নতুনভাবে মেলে ধরেছেন।

ব্যাট হাতে তার দুরন্ত ধারাবাহিকতা যে কোনো ব্যাটারের জন্যই ঈর্ষার কারণ হতে পারে। অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সে ইতিহাস গড়েছেন বিজয়। লিস্ট-এ মর্যাদা পাওয়ার পর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে প্রথম ব্যাটার হিসেবে ১ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন ডানহাতি এ ওপেনার। গতকাল মঙ্গলবার বিকেএসপিতে রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে এই কীর্তি গড়েন বিজয়। এমন অর্জনের দিনটা সেঞ্চুরির আলোয় উদ্যাপন করেন তিনি। এ নিয়ে লিস্ট-এ ক্রিকেটে ১৫তম সেঞ্চুরি করলেন তিনি।

অনন্য কীর্তি গড়া এ তরুণ কড়া নাড়ছেন জাতীয় দলের দুয়ারে। সুযোগ পেলে তাসকিনের মতোই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেকে আবারও প্রমাণের চ্যালেঞ্জটা পাড়ি দিতে হবে তাকে।

বিকেএসপিতে গতকাল রূপগঞ্জ টাইগার্সের বিপক্ষে খেলতে নেমেছিলেন চলতি আসরে ৯৩০ রান নিয়ে। ম্যাচ শেষে বিজয় অপরাজিত ১১২ রান করে। প্রিমিয়ার লিগে ১৪ ইনিংসে তার সংগ্রহ এখন ১ হাজার ৪২ রান। এর আগে প্রিমিয়ার লিগে সর্বোচ্চ ৮১৪ রান ছিল সাইফ হাসানের। সুপার লিগের শুরুতেই সাইফকে ছাড়িয়ে গেছেন বিজয়।

ব্যক্তিগত ৬৯ রান থেকে সিঙ্গেল নিয়ে ৭০ রান পূর্ণ করতেই ১ হাজারি ক্লাবে প্রবেশ করেন তিনি। ব্যাট উঁচিয়ে মাইলফলক উদ্যাপন করেন ডানহাতি এ ব্যাটার।

প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে অবশ্য এক মৌসুমে ১ হাজার রান করার রেকর্ড আগেও ছিল। সেটি মাত্র দু’জনের।

১৯৮৬-৮৭ মৌসুমে আবাহনীর হয়ে গাজী আশরাফ হোসেন লিপু ১৮ ইনিংসে ১ হাজার ৮ রান করেছিলেন। পরে ২০০১-০২ মৌসুমে মোহামেডানের জার্সিতে কেনিয়ার স্টিভ টিকোলো করেছিলেন ১ হাজার ২২৭ রান। তবে লিস্ট-এ মর্যাদা না থাকায় লিপু-টিকোলোর পারফরম্যান্স রেকর্ড বুকে নেই। বিজয় অবশ্য রেকর্ডবুকের স্বীকৃতি পেয়েছেন। সঙ্গে লিপু-টিকোলোর স্মৃতিও ফেরালেন তিনি।

বিজয়ের কীর্তির দিনে বিকেএসপিতে রূপগঞ্জ টাইগার্সকে ১০ উইকেটে পরাজিত করেছে প্রাইম ব্যাংক। আগে ব্যাট করে ৪৯.৪ ওভারে ২২৯ রানে অলআউট হয়েছিল রূপগঞ্জ। সাদ নাসিম ৮৫, মার্শাল ৫৮, জাকির ২৫, ইমরানুজ্জামান ২৩ রান করেন। প্রাইম ব্যাংকের করিম জানাত ও রুবেল হোসেন ৪টি করে উইকেট নেন।

জবাবে তামিম-বিজয়ের জোড়া সেঞ্চুরিতে বিনা উইকেটে ২৬.৪ ওভারে ২৩৪ রান তোলে প্রাইম ব্যাংক। তামিম অপরাজিত ১০৯, বিজয় অপরাজিত ১১২ রান করেন। বিজয় ম্যাচ-সেরা হন।

ইত্তেফাক/টিএ