‘পল্লিজননী’
বন্ধুরা, আজ প্রকাশিত হল নবম-দশম শ্রেণির মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য বইয়ের ‘পল্লিজননী’ কবিতার নমুনা উত্তর।
দৃশ্যপট-১:
মাগো আমায় দাও না খেতে চিরে ভাজা, দই
সারা জীবন খাইনে আমি বিন্নীধানের খই।
আমায় কিনে দিতে হবে একটি ধাউশ ঘুড়ি
উড়াব তাই, থাকবে আমার কোচর ভরা মুড়ি।
দৃশ্যপট -২:নাজমা বেগম তার ছেলেকে নিয়ে কুড়ে ঘরে বাস করেন। মা ছেলেকে কাজে পাঠাতে চান। শান্ত স্বভাবের রানা মাকে বুঝিয়ে বলে যে, ‘কাজ নয়, পড়ালেখা করতে ভালো লাগে।’ মা দুটি বাড়েতে কাজ করে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ছেলের পড়ালেখার খরচ যোগান।
ক. এঁদো ডোবা হতে কিসের ঘ্রান আসে?
খ. “ঘোর কুজ্ঝটি মহাকাল রাত পাতা”- বলতে কবি কী বুঝিয?েছেন?
গ. দৃশ্যপট -১ এর সাথে ‘পল্লী জননী’ কবিতার সাদৃশ্যের দিকটি ব্যাখ্যা কর।
ঘ. “ভিন্নতা থাকলেও দৃশ্যপট -২ এর মর্মার্থই ‘পল্লিজননী’ কবিতার মূল সুর” - উক্তিটি মূল্যায়ন কর।
নমুনা উত্তর
ক. এঁদো ডোবা হতে পচান পাতার ঘ্রাণ আসে।
খ. মা অসুস্থ সন্তানের শিয়রে বসে সন্তানের অমঙ্গল আশঙ্কায় শঙ্কিত হন। প্রকৃতির নানা অনুষঙ্গে কবিতায় তা তুলে ধরা হয়েছে। হুতুম পেঁচার ডাকের ফলে মা মনে করেন এই বুঝি ছেলের জীবন প্রদীপ নিভে যাবে। এখানে কুজ্বটি মহাকাল রাত পাতা কথাটির দ্বারা প্রকৃতির ঘোর অন্ধকার, ছেলের অত্যসন্ন মৃত্যুকে বোঝানো হয়েছে।
গ. উদ্দীপক-১ ও পল্লিজননী কবিতার সন্তানের বায়নার দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে। ‘পল্লিজননী’ কবিতায় অসুস্থ ছেলের রাতে ঘুম আসে না। শিয়রে বসে থাকা মায়ের কাছে অসুস্থ ছেলে আবদার করেছে, তার লাটাই যেন যত্ন করে রাখে। মোয়া নাড়ু বানিয়ে যেন সাত নড়ি শিকায় ভরে রাখে। খেজুরের গুড়ের পাটালিতে চিরে ভাজা করে যেন মাটির পাত্রে রাখে। তেলে ভাজা পিঠে যেন তার সামনে সাজিয়ে রাখা হয়। সে আরো বায়না ধরে সুস্থ হলে সে খেলতে যাবে। তখন যেন মা তাকে বকাঝকা না করে। উদ্দীপক-১ এ দেখতে পাওয়া যায় মায়ের কাছে বায়না ধরে বিন্নি ধানের খই, চিরে ভাজা দই যেন তাকে খেতে দেওয়া হয়। সে আরো বায়না ধরে সে বড়[ ঘুড়ি উড়াবে। কোচর ভরা মুড়ি নিয়ে সে খেলতে যাবে। তাই উদ্দীপকের সাথে পল্লিজননী কবিতার সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।
ঘ. সন্তান বাত্সল্যের দিক থেকে দুই মা একই। মাতৃস্নেহ পৃথিবীতে অতুলনীয়। এই মাতৃস্নেহ প্রকাশের রয়েছে বিভিন্ন রূপ। পল্লিজননী কবিতায় ছেলের অসুস্থতার কারণে মাতৃ মনের ব্যাকুলতা প্রকাশ পেয়েছে। তেমনি ভাবে রানার মাও নিজে ত্যাগ স্বীকার করে সন্তানের ইচ্ছাকে পূরণ করেছে। যা মাতৃস্নেহের বহিঃপ্রকাশ। সুতরাং বলতে পারি যে স্নেহ প্রকাশের ভিন্নতা সত্বেও উভয় ক্ষেত্রে অপত্য স্নেহের অনিবার্য প্রকাশ ঘটেছে।অন্যদিকে নাজমা বেগম শান্ত স্বভাবের রানাকে কাজে পাঠাতে চাইলেও সে পড়ালেখা করতে আগ্রহী।মা কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ছেলেকে লেখাপড়া করার সুযোগ করে দিয়েছে। ছেলের ভাললাগাকে প্রাধান্য দিয়ে নিজে কষ্ট করেছে। তারপরও ছেলের আবদার রক্ষা করেছেন।
‘পল্লিজননী’ কবিতায় দূরন্ত ছেলের নানা দুরন্তপনার কথা স্মরণের সাথে সাথে সন্তান হারানোর শঙ্কা মায়ের মনে জেগে ওঠে। দরিদ্র মায়ের কেরোসিন কেনার সামর্থ্য না থাকলেও ছেলের সুস্থতা কামনা করে মসজিদে মোমবাতি মানত করেছিলেন। দরগায় সিন্নি দিতে চেয়ে ছিলেন। তাই বলা যায়, ভিন্নতা থাকলেও দৃশ্যপট-২ এর মর্মার্থ পল্লিজননী কবিতার মূল সুর উক্তিটি যথার্থ।
