প্রতি ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহে বিদ্যমান ভতুর্কি ২.৯০ টাকা। এলএনজি কম সরবরাহের কারণে রাজস্ব উদ্বৃত্ত থাকে ২০২১-২২ অর্থবছরে ২ হাজার ৫৩৭.৯১ কোটি টাকা। মূলত বিদ্যমান ভতুর্কি হাজার ৭৯২ কোটি টাকা ও উদ্বৃত্ত রাজস্ব ২ হাজার ৫৩৭.৯১ কোটি টাকা এলএনজি আমদানি পর্যায়ে সমন্বয় করে, ডাব্লিউপিএফ ও করপোরেট কর লাইসেন্সিদের রাজস্ব চাহিদায় সমন্বয় না করে, এলএনজি আমদানি পর্যায়ে প্রদত্ত ভ্যাট ভোক্তা পর্যায়ে প্রদত্ত ভ্যাটে সমন্বয় করে এবং সঞ্চালন ও বিতরণ পর্যায়ে উদ্বৃত্ত রাজস্ব সমন্বয় না করে ক্যাব ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাসের মূল্যহার ভারিত গড়ে ৯.৫৩ টাকা নির্ধারণ করার প্রস্তাব করেছে। বিদ্যমান মূল্যহার ১২.৬০ টাকা। অর্থাৎ গ্যাসের মূল্যহার ০.১৭ টাকা কমানোর প্রস্তাব করেছে। শুনানিতে বিইআরসি অনুমোদিত পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা অনুযায়ী গৃহীত এসওসির গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন প্রকল্পসমূহে জিডিএফ থেকে বিইআরসির কর্তৃত্বে সরাসরি অর্থ বরাদ্দ ও বণ্টনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
গ্যাস-সংকটের মূল কারণ গ্যাস খাত সুশাসন সংকটের শিকার। সুশাসন নিশ্চিত না হলে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না। ভোক্তার জ্বালানি ও পরিবেশ সংরক্ষণের অধিকার খর্ব হবে। গ্যাসে সেবা নয়, অসাধু ব্যবসা হবে। সে ব্যাপারে সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ সহায়ক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। তাই ক্যাব নিম্নে বর্ণিত ২৫ দফা গ্যাস খাত সংস্কার প্রস্তাব করেছে।
জ্বালানি অধিকার সুরক্ষায় অসাধু ব্যবসায় প্রতিরোধের লক্ষ্যে ক্যাবের ২৫ দফা গ্যাস খাত সংস্কার প্রস্তাব:
(১) যেহেতু যে গ্যাস এক টাকায় পাওয়া সম্ভব, সে গ্যাসের চাহিদা মেটাতে স্পট মার্কেট থেকে ৮৩ টাকা মূল্যহারে আমদানিকৃত এলএনজির কারণে উদ্ভূত রাজস্ব ঘাটতি ভোক্তা পর্যায়ের গ্যাসের মূল্যহারে সমন্বয়ে ভোক্তাদের আপত্তি রয়েছে, এবং যেহেতু ওপরে বর্ণিত অসংগতির কারণে লুণ্ঠনমূলক ব্যয়বৃদ্ধিতে মূল্যবৃদ্ধি, সেহেতু মূল্যবৃদ্ধি ব্যতীত গ্যাস সরবরাহের নানা পর্যায়ের অযৌক্তিক ব্যয়বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ এবং ট্যাক্স-ভ্যাট ও মুনাফার অংশবিশেষ সমন্বয় করে ঘাটতি সমন্বয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।
(২) বিদ্যমান ভতুর্কি ১০ হাজার ৭৯২ কোটি টাকা ও উদ্বৃত্ত রাজস্ব ২ হাজার ৫৩৭.৯১ কোটি টাকা এলএনজি আমদানি পর্যায়ে সমন্বয় করে, ডব্লিউপিপিএফ ও করপোরেট ট্যাক্স লাইসেন্সিদের রাজস্ব চাহিদায় সমন্বয় না করে, এলএনজি আমদানি পর্যায়ে প্রদত্ত ভ্যাট ভোক্তা পর্যায়ে প্রদত্ত ভ্যাটে সমন্বয় করে এবং সঞ্চালন ও বিতরণ পর্যায়ে উদ্বৃত্ত রাজস্ব লাইসেন্সির রাজস্ব চাহিদায় সমন্বয় না করে ভোক্তা পর্যায়ে ভারিত গড়ে গ্যাসের মূল্যহার ৯.৫৩ টাকা নির্ধারণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাত্ বিদ্যমান মূল্যহার অপেক্ষা গ্যাসের মূল্যহার ০.১৭ টাকা কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
(৩) সব শ্রেণির গ্রাহকদের গ্যাসের বিদ্যমান মূল্যহার বলবত্ রেখে গ্যাস তছরুপ প্রতিরোধের লক্ষ্যে কেবল আবাসিক গ্রাহকদের চুলায় মাসিক ৭৭ ঘনমিটারের পরিবর্তে ৪০ ঘনমিটার গ্যাস ব্যবহার ধরে চুলাপ্রতি গ্যাসের বিদ্যমান মূল্যহার কমানোর প্রস্তাব করা হলো।
(৪) গেইনে থাকায় কোনো গ্যাস বিতরণ লাইসেন্সির চার্জ নির্ধারণে সিস্টেম লস বিবেচিত হয় না। মিটারবিহীন চুলার ক্ষেত্রে যে পরিমাণ গ্যাস তছরুপ হয়, সে গ্যাস সমন্বয় করা হলে তিতাসও সিস্টেম গেইনেই থাকবে। তিতাসের বিতরণ চার্জ নির্ধারণে ২ শতাংশ সিস্টেম লস সমন্বয়ের প্রস্তাবে ক্যাবের আপত্তি রয়েছে।
(৫) তিতাসকে ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগকৃত মূলধনের ওপর ১০ শতাংশ মুনাফা প্রদানে ক্যাবের আপত্তি রয়েছে। ক্যাবের মতে, উক্ত মুনাফা ব্যক্তি খাত এলপিজি লাইসেন্সিদের তুলনায় অবশ্যই কম হতে হবে।
(৬) বিইআরসির আদেশ প্রতিপালনে ছাড় দিয়ে গ্যাস তছরুপ ও অবৈধ সংযোগের সুযোগ বজায় রাখার দায়ে তিতাসকে পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত কস্ট প্লাসের পরিবর্তে শুধু কস্ট বেসিসে পরিচালনার আদেশ প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে। সেই সঙ্গে তিতাসের বিরুদ্ধে বিইআরসি আইনের ৪৩ ও ৪৬ ধারামতে, ব্যবস্থা গ্রহণেরও প্রস্তাব করা হয়েছে।
(৭) সঞ্চালনে অন্যায় ও অযৌক্তিক ব্যয়বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ না হওয়া পর্যন্ত জিটিসিএলের মুনাফার মার্জিন স্থগিত রেখে ব্রেক-ইভেনে পরিচালনার আদেশ প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে।
(৮) সঞ্চালন ও বিতরণক্ষমতা যে অনুপাতে ব্যবহার হবে, সে অনুপাতে অবচয় ব্যয় রাজস্ব চাহিদায় সমন্বয় করে সঞ্চালন ও বিতরণ চার্জ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
(৯) মিটারযুক্ত গ্রাহকদের মিটার ভাড়া আলাদাভাবে আদায়ের পরিবর্তে গ্যাস বিতরণ লাইসেন্সিদের স্ব-স্ব রাজস্ব চাহিদায় সমন্বয় করে বিতরণ চার্জ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
(১০) পেট্রোবাংলা ও জ্বালানি বিভাগের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করে বিইআরসির নিয়ন্ত্রণে পক্ষসমূহের প্রতিনিধি সমন্বয়ে গঠিত কমিটি দ্বারা ‘গ্যাস উন্নয়ন তহবিল’ পরিচালনার প্রস্তাব করা হয়েছে। উক্ত তহবিলের অর্থ বিইআরসির কতৃর্ত্বে এসওসির গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন প্রকল্পসমূহে বিইআরসি অনুমোদিত পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা অনুযায়ী সরাসরি ভোক্তাপক্ষের ইকুইটি বিনিয়োগ হিসেবে বিনিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে।
(১১) বিইআরসি অনুমোদিত কৌশলগত পরিকল্পনা ব্যতীত অর্থাত্ বিইআরসির আদেশ ও আইন লঙ্ঘন করে এক্তিয়ারবহিভূর্তভাবে ‘গ্যাস উন্নয়ন তহবিল’-এর অর্থ ব্যয়ের দায়ে পেট্রোবাংলার বিরুদ্ধে বিইআরসি আইনের ৪২, ৪৩ ও ৪৬ ধারামতে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
(১২) গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনে পেট্রোবাংলা ও জ্বালানি বিভাগ উভয়ের বিরুদ্ধেই আনীত অদক্ষতা ও ব্যর্থতার অভিযোগ তদন্েতর জন্য ভোক্তা পক্ষের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কারিগরি কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
(১৩) রি-গ্যাসিফিকেশন চার্জ, পেট্রোবাংলার চার্জ এবং বিইআরসির চার্জ (লাইসেন্সিদের কাছ থেকে গৃহীত ফিস) শুনানির ভিত্তিতে নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান স্ব স্ব চার্জসমূহ বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েেছে।
(১৪) রি-গ্যাসিফিকেশন চার্জ নির্ধারণে ঋণ বা বিনিয়োগকৃত মূলধনের ওপর মুনাফা ১৮ শতাংশের পরিবর্তে ৭ শতাংশ এবং এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে আমদানিকৃত পণ্যের কাস্টমস সার্টিফাইড বিলই কেবল গ্যাসের মূল্যহারে সমন্বয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।
(১৫) এলএনজি ক্রয়ে বিনিয়োগ ও ভতুর্কি, সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ এবং জ্বালানি খাতে সুশাসন উন্নয়নের লক্ষ্যে রাজস্ব চাহিদাবহিভূর্ত উদ্বৃত্ত রাজস্ব ও ভোক্তা অনুদানে ‘জ্বালানি মূল্য স্থিতি তহবিল’ গঠনের প্রস্তাব করার হয়েছে। অতীতের পুঞ্জিভূত উদ্বৃত্ত রাজস্ব লাইসেন্সিদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে উক্ত তহবিলে আনারও প্রস্তাব করা হয়েছে। সেই সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তা তহবিল বিলুপ্ত করে উক্ত তহবিলের সঙ্গে একীভূত করারও প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকার ও লাইসেন্সিদের প্রাপ্য লভ্যাংশের ৫০ শতাংশ উক্ত তহবিলে নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েেছে। এই তহবিলের অর্থ বিনিয়োগকৃত মূলধন হিসেবে এলএনজি ক্রয়, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন এবং সঞ্চালন ও বিতরণ ক্ষমতা উন্নয়নে গৃহীত বিইআরসি অনুমোদিত প্রকল্পসমূহে বিনিয়োগকারীর ‘ইকুইটি বিনিয়োগ’ হিসেবে বিনিয়োগ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
(১৬) মূল্যহার বৃদ্ধি না করে গ্যাসের বিদ্যমান মূল্যহার বহাল রেখে সব পর্যায়ের ট্যাক্স-ভ্যাট, লাইসেন্সিদের মুনাফা এবং অযৌক্তিক (লুণ্ঠনমূলক) ব্যয় কমিয়ে ভর্তুকি কমানোর কৌশল গ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে। সেজন্য পক্ষসমূহের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
(১৭) গ্যাস চুরি ও পরিমাপে কারচুপি এবং অস্বাভাবিক ব্যয়ে চাহিদার অতিরিক্ত সম্পদ অর্জনের মাধ্যমে ভোক্তাদের কাছ থেকে অর্থ লুণ্ঠন হচ্ছে। তার জন্য পেট্রোবাংলাসহ গ্যাস সরবরাহে নিয়োজিত সব কোম্পানির স্ব স্ব পরিচালনা বোর্ডকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই অভিযোগ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে নিষ্পত্তির জন্য প্রেরণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
(১৮) গ্যাস খাতে সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য পক্ষসমূহের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিশন গঠন করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
(১৯) ইতিপূর্বে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির আদেশসমূহে প্রদত্ত বিইআরসির আদেশাবলি পালন না করার দায়ে এবং গ্যাস খাত বিপর্যস্ত করা জন্য দায়ী সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সিদের বিরুদ্ধে বিইআরসি আইনের ৪৩ ও ৪৬ ধারা মতে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত লাইসেন্সিদের মুনাফা মার্জিন স্থগিতের আদেশ প্রদানেরও প্রস্তাব করা হয়েছে।
(২১) তাছাড়া গ্যাস উন্নয়ন তহবিলে ভোক্তা অনুদান কমিয়ে সেই অর্থে রাজস্ব চাহিদাবহিভূর্ত গবেষণা তহবিল গঠনে আপত্তি দেওয়া হয়েছে।
(২২) তিতাসে অবৈধ গ্যাস-সংযোগকারীদের শনাক্ত করার জন্য সিআইডি, ডিজিএফআই ও এনএসআইকে দায়িত্ব প্রদানের জন্য তিতাসকে আদেশ প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে।
(২৩) শুরু থেকে হালনাগাদ তিতাসের শেয়ার হোল্ডারদের নামের তালিকা এবং বছরভিত্তিক তাদের প্রত্যেকের প্রাপ্ত লাভ্যাংশ ওয়েবসাইটে প্রকাশের আদেশ প্রদানের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে।
(২৪) গ্যাস বিতরণ ও বণ্টনে বিস্ফোরণজনিত ক্ষতিপূরণ প্রদানের লক্ষ্যে ডাবলিউপিপিএফ ও লাইসেন্সিদের নিট মুনাফা থেকে কমিশন কতৃর্ক নির্ধারিত অর্থে একটি তহবিল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। উক্ত তহবিল কমিশন অনুমোদিত গাইডলাইন দ্বারা পরিচালিত হবে।
(২৫) গ্যাস সেবাকে স্বার্থসংঘাত মুক্ত করার লক্ষ্যে লাইসেন্সিদের পরিচালনা বোর্ডকে আমলামুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে এবং এ প্রস্তাব গণশুনানির প্রস্তাব হিসেবে সরকারের কাছে প্রেরণেরও প্রস্তাব করা হয়েছে।
২০১৯ সালে বিইআরসি কতৃর্ক গ্যাসের মূল্যহার পরিবর্তন আদেশের ৭.১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে:
‘গণশুনানিতে এবং গণশুনানি-পরবর্তী মতামতে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সমুদ্রবক্ষে গ্যাস অনুসন্ধানে ব্যবস্থা গ্রহণ, দেশীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়িয়ে স্থলভাগে ও সমুদ্রবক্ষে গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎতোলনের ওপর জোর দেওয়া, ছাতক (পূর্ব) গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস উৎতোলনে গুরুত্ব আরোপ করা, গ্যাসের চাহিদা না থাকায় ভোলা গ্যাসক্ষেত্রের স্বল্পব্যবহূত উৎপাদনক্ষমতার ব্যবহার বৃদ্ধি নিশ্চিত করা, বাপেক্স-সম্পর্কিত বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধি সমন্বয়ে কমিটি গঠন, জ্বালানি মনিটরিং কমিটি গঠন, বিদু্যত্ ও জ্বালানি খাত সংস্কার প্রস্তাব ও অন্যান্য বিষয়ে বক্তব্য এসেছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩ অনুযায়ী এসব বিষয় কমিশনের আওতাভুক্ত নয়।’
বিইআরসির উক্ত বক্তব্যে ভোক্তাদের ভিন্নমত রয়েছে। বিইআরসি আইনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সে লক্ষ্যে যা কিছু করা দরকার, তন্মধ্যে আইনের ২২(ট) উপধারা মতে, ভোক্তা বিরোধ নিষ্পত্তি ও অসাধু ব্যবসায়ের প্রতিকার করা। তাছাড়া, ২২(ঝ) উপধারামতে সরকারকে সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া। তাই ক্যাবের মতে বিইআরসির উক্ত বক্তব্য বিইআরসি আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং অগ্রহণযোগ্য।
লেখক: জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এবং কনজু্যমার
অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর উপদেষ্টা
