শনিবার, ২১ মে ২০২২, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়া আসুক

আপডেট : ০৭ মে ২০২২, ০৩:৩১

তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশই মাদকের সাগরে ভাসিতেছে। কেবল তৃতীয় বিশ্বই নহে, অনেক শিল্পোন্নত দেশও মাদকের সমস্যা নিমূ‌র্লে কোটি কোটি ডলার ব্যয় করিবার পরও হিমশিম খাইতেছে। বাংলাদেশে কোন কোন রুট ধরিয়া এবং কীভাবে নূতন রুট তৈরি করিয়া মাদক পাচারের জাল বিছানো হইয়াছে—তাহার স্পষ্ট চিত্র পত্রিকান্তরে প্রকাশ হয় প্রায়শই। 

সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশে এখন নানান হাত বদলের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষ তাহাদের জীবিকা নির্বাহের অন্যতম প্রধান খাত হিসাবে গড়িয়া তুলিয়াছে মাদক ব্যবসায়। মাদকের নেশায় ছেলের হাতে খুন হইয়াছেন শত শত বাবা-মা। নেশাখোর স্বামীর হাতে খুন হইয়াছেন অসংখ্য নারী। মাদক সেবন লইয়া বিরোধে বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা ঘটিয়াছে অসংখ্য। এই সকল কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কয়েক বত্সর পূর্বে বলিয়াছিলেন, আমরা আমাদের সন্তানদের এইভাবে ধ্বংস হইয়া যাইতে দিতে পারি না। এই জন্য আমরা পরবর্তী পর্যায়ে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা শুনিয়াছি। দেশব্যাপী ‘সাঁড়াশি অভিযানের’ কথা শুনিয়াছি মাদক নিমূ‌র্লে। কাহারা মাদক ব্যবসায়ী, কাহাদের সহিত লেনদেন, কোথা হইতে কীভাবে আসিয়া দেশের একটি উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়ে পৌঁছাইয়া যায়—তাহা কে না জানে? প্রশাসন তথা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অগোচরে এই দুষ্কর্ম চালাইয়া যাওয়া অসম্ভব।

কিন্তু কোনো একটি এলাকায় পুলিশ প্রশাসনে সত্ ও কর্মনিষ্ঠা কর্মকর্তা থাকিলে সেইখানে আমরা মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করিবার দৃষ্টান্ত দেখিতে পাই বটে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে পিরোজপুরের জেলা গোয়েন্দা পুলিশ এক অভিযান চালাইয়া মাদকসম্রাট ওমর ফারুক ও তাহার সহযোগী রেজাউলকে সদর থানার মূলগ্রাম হইতে গ্রেফতার করিয়াছে। আটককালে তাহাদের দেহ তল্লাশি করিয়া ৪.৫ গ্রাম ক্রিস্টাল আইস, ২১টি ইয়াবা ও ২০০ গ্রাম গাঁজার সন্ধান পায়। তবে পুলিশের উপস্হিতি টের পাইয়া ওমর ফারুক তাহার হেফাজতে থাকা আইসের একটি বড় চালান কৌশলে সরাইয়া ফেলিয়াছে বলিয়া গোয়েন্দা পুলিশ মনে করিতেছে। উল্লেখ্য, গ্রেফতারকৃত ফারুক মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আটটি মামলাসহ ১২টি এবং রেজাউল একই আইনে চারটিসহ ছয়টি মামলার আসামি। এই ওমর ফারুকের নেতৃত্বে পিরোজপুরে একটি শক্তিশালী মাদক চক্র সক্রিয় রহিয়াছে। পুলিশ আরো জানাইয়াছে, ওমর ফারুক মূলগ্রামের আব্দুল লতিফ ও রেজাউল পিরোজপুর শহরতলির ছোট খলিশাখালী গ্রামের মাসুম বিল্লাহর ছেলে। পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাঈদুর রহমানের নির্দেশে এই অভিযান চালানো হয় বলিয়া জানা গিয়াছে।

আমাদের সমাজে মাদক ব্যবসায়ীরা নানান কৌশলে সকল জায়গা ম্যানেজ করিয়াই তাহাদের ব্যবসায় নির্বিঘ্নে চালাইয়া থাকে। মাদক ব্যবসায়ের মাধ্যমে আঙুল ফুলিয়া কলাগাছ-তালগাছ—সকল কিছুই হওয়া সম্ভব। ৫০ টাকার মাদক আনিয়া যদি ৫০০ টাকায় বিক্রি করা সম্ভব হয়, তাহা হইলে এই ব্যবসায় কেন ছাড়িবে মাদক ব্যবসায়ীরা? এত বিপুল কাঁচা টাকার লোভ সামলাইবার মতো ইস্পাতদৃঢ় আদর্শ অনেকের মধ্যেই নাই। এমনকি ইতিপূর্বে পুলিশেরই অনুসন্ধানে দেখা গিয়াছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীদের একটি অংশও এই ব্যবসায়ের সহিত নানানভাবে জড়িত। সুতরাং মাদক কারবারিদের গ্রেফতার করা অত্যন্ত দুরূহ কাজ। এই কাজটি পিরোজপুরের পুলিশ সুপার করিয়াছেন অত্যন্ত দৃঢ়তার সহিত। সেইখানকার মাদকসম্রাটকে গ্রেফতার করিয়া তিনি যেই সততা, কর্মনিষ্ঠা ও ইস্পাতদৃঢ় মানসিকতার পরিচয় দিয়াছেন, তাহার জন্য আমরা তাহাকে অভিনন্দন জানাই। দেশে এখন বাঁশের চাইতে কঞ্চির আস্ফালনই বেশি। কঞ্চিদের যন্ত্রণায় ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে কাহারো কোনো স্বস্তি নাই। কিন্তু একটি সুন্দর, বসবাস উপযোগী এবং উন্নত দেশ গঠনের লক্ষ্যে আমরা যদি প্রত্যেকে স্ব স্ব জায়গা হইতে সততাপূর্ণ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করি, তাহা হইলে মাদক কারবারিসহ কঞ্চিরা দমিবে। সুতরাং এইভাবে সকল জেলায় কর্মনিষ্ঠ দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মাধ্যমে মাদক কারবারিদের আস্ফালন বন্ধ হউক। জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়া আসুক। 

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

সর্বাঙ্গে ব্যথা ঔষধ দিব কোথা!

‘কাঁটা তুলে তুলে’ চলা জীবনের অবসান

স্বাধীনতা কি এত সহজ?

নজর রাখিতে হইবে চারিদিকে

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

শৃঙ্খলাই প্রথম ও উন্নতির সোপান

সামনের দিনগুলির দিকে দৃষ্টি দিতে হইবে

পরিমিতি বচনই শ্রেয়

মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা