শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বিভিন্ন স্থানে জ্বালানি তেল সংকট, সুযোগ নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা

আপডেট : ০৭ মে ২০২২, ১৯:৩৫

দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় সংকট দেখা দিয়েছে অকটেন, ডিজেল, পেট্রোলসহ জ্বালানি তেলের। অভিযোগ উঠেছে এই সুযোগ ব্যবহার করছেন অসৎ ব্যবসায়ীরা। সংকট তৈরি হওয়ায় খোলা বাজারে বেশি দামে জ্বালানি তেল বিক্রি করছেন তারা।

সাধারণ মানুষ জানান, খোলাবাজারে হঠাৎ দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন তারা। বিশেষ করে মোটরসাইকেলচালকরা বেশি বিপাকে পড়েছেন। বিভিন্ন জেলা-উপজেলার চিত্র তুলে ধরেছেন ইত্তেফাকের স্থানীয় প্রতিনিধিরা।    

ডোমার সংবাদদাতা জানান, নীলফামারীর ডোমারে জ্বালানি তেলের মজুদ না থাকার অজুহাতে বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে ফিলিং স্টেশনগুলো।  শনিবার (৭ মে) সকালে ডোমার উপজেলার চারটি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে তিনটিতে দেখা যায়, ‘তেল নেই’ লেখা সংবলিত সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়েছেন ফিলিংস্টেশন কর্তৃপক্ষ।

খানাবাড়ির ম্যাক্স পেট্রোলিয়ামের ম্যানেজার উজ্জ্বল হোসেন ও হংসরাজ এলাকার নন্দিতা ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার সুকুমার চন্দ্র রায় জানান, পার্বতীপুর ডিপো থেকে চাহিদামত তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না। ফলে তেল বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া, আমেনা ফিলিং স্টেশনেও তেল নেই বলে জানানো হয়। তবে ডোমার ফিলিং স্টেশনে তেল বিক্রি করা হলেও মজুদ কম থাকায় গ্রাহকদের অল্প পরিমাণে তেল ক্রয় করার অনুরোধ করছেন তারা।

এ বিষয়ে ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনা শবনম সাংবাদিকদের জানান, তেল কেন বিক্রি করছে না ফিলিং স্টেশনগুলো, তা জানি না। কেউ আমাকে বলেনি, আপনার কাছেই প্রথম শুনলাম।

ফুলবাড়ী সংবাদদাতা জানান, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে পেট্রোল সংকট দেখা দেওয়ায় খোলা বাজারে ১০০ থেকে ১১০ টাকা লিটার বিক্রি হচ্ছে। ফুলবাড়ী উপজেলায় পেট্রোল পাম্প না থাকলেও সরবরাহ কম থাকার অজুহাতে ডিপোতে পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে ৯৫ টাকা লিটার। আর এ সুযোগে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের খোলা বাজারগুলোতে পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকা দরে। শুক্রবার সকাল ও শনিবার দুপুর থেকে এ উপজেলা জুড়ে পেট্রোল সংকট সৃষ্টি হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে মোটরসাইকেলচালকরা বেশি বিপাকে পড়েছেন।

উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের ব্যবসায়ী রেজাউল ইসলাম বন্ধন জানান, বালারহাট বাজারে প্রতি লিটার ১০০ টাকায় ২ লিটার পেট্রোল তার মোটরসাইকেলে ভরেছেন। খোলাবাজারেও পেট্রোলের সংকট রয়েছে।

উপজেলার একই ইউনিয়নের কুরুষাফেরুষা এলাকার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সকালে (শনিবার) বাজারে পেট্রোল কিনতে গিয়ে হতবাক হই। ১ লিটার পেট্রোল দোকানদারদের কেউ ১০০ চাচ্ছেন, আবার কেউ ১১০ টাকা চাচ্ছেন।

আরেক দোকানদার লিমন মিয়া জানান, সকাল (শনিবার) থেকে লিটার প্রতি ১১০ টাকা দরে পেট্রোল বিক্রি করছেন তিনি। কারণ হিসেবে জানান, পাম্পগুলোতে পেট্রোল পাওয়া যাচ্ছে না। মহাজনদের কাছ থেকে ৯৫ থেকে ১০০ টাকা লিটার দরে কিনে ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি করছেন তিনি।

এ বিষয়ে ফুলবাড়ী উপজেলা সদরের স্বপন ট্রেডার্সের ম্যানেজার সুশান্ত সেন জানান, সরবরাহ না থাকায় প্রতি লিটার পেট্রোল ৯৫ টাকা বিক্রি করছেন তিনি। দু’এক দিনের মধ্যেই এ সংকট কেটে যাবে বলে তার বিশ্বাস।

এ প্রসঙ্গে কুড়িগ্রামের পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বাঘাবাড়িতে তেলের লড়ি পাঠিয়ে বসে আছি। সেখানে তেলের যে জাহাজ আসে সেটা এখনো ভেড়েনি। তাছাড়া, রেলপথে যে তেল আসত সেটাও বন্ধ রয়েছে। ফলে কিছুটা সংকট সৃষ্টি হয়েছে। কবে নাগাদ এই পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটবে সেটাও বলতে পারছি না।’

সাপাহার সংবাদদাতা জানান, নওগাঁর সাপাহার উপজেলার ফিলিং স্টেশনগুলোতে অকটেন ও পেট্রোল তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছে পেট্রোল নির্ভরশীল বিভিন্ন যানবাহন চালকরা।

শনিবার (৭ মে) উপজেলার ফিলিং স্টেশনগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে মোটরসাইকেল নিয়ে অনেকেই পেট্রোল নিতে আসছেন। কিন্তু ফিলিং স্টেশন থেকে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে পাম্পে অকটেন ও পেট্রোল তেল নেই। বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন চালকেরা।

সাপাহারে ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নিচ্ছেন মোটরসাইকেলচালকরা।

সাপাহারে অবস্থিত মেসার্স সাপাহার ফিলিং স্টেশন ও জয়পুর ফিলিং স্টেশন ম্যানেজার অনিক চৌধুরী ও অতুল চন্দ্র বলেন, গত ৩ মাস ধরে আমাদের চাহিদামতো অকটেন ও পেট্রোল পাচ্ছি না। ডিপো থেকে কোনো পেট্রোল পাচ্ছি না। আমাদের কাছে যে পরিমাণ পেট্রোল জমা আছে, তা থেকে আমরা গ্রাহকের চাহিদামতো দিতে পারছি না। যানবাহনের চালকদের চাপে অনেক সময় পাম্প বন্ধ রাখতে হচ্ছে। কোম্পানির লোকদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। ক্রেতারা এসে ফেরত যাচ্ছে।

মেসার্স সাপাহার ফিলিং স্টেশন ও জয়পুর ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী আব্দুল বারী শাহ্ চৌধুরী বাবু বলেন, ‘ডিপোতে চাহিদা দিয়েও ডিপো থেকে পেট্রোল পাওয়া যাচ্ছে না। কী কারণে সংকট তারা সেটিও স্পষ্ট করে আমাদের জানাতে পারেনি। তবে আমাদের পাম্পে সীমিত পরিমাণ পেট্রোল ছিল, তা দিয়েই চালাচ্ছি। এগুলো শেষ হলে আমাদের পাম্প বন্ধ রাখতে হবে।

এ বিষয়ে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের আঞ্চলিক অফিসে যোগাযোগ করা হলে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ দেখাচ্ছে।

ইত্তেফাক/এএইচ/ইউবি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

ঠাকুরগাঁওয়ে পেট্রোলের তীব্র সংকট

ফুলবাড়ীতে বোরো চাষে আগ্রহ কমছে