অভিনব জালিয়াতির মাধ্যমে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের অটোমেটেড টেলার মেশিনের (এটিএম) বুথ থেকে টাকা তোলার ঘটনায় গ্রেফতার ইউক্রেনের ছয় নাগরিককে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। গতকাল সোমবার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত গ্রেফতারকৃত দেনিস ভিতোমস্কি, নাজারি ভজনোক, ভালেনতিন সোকোলোভস্কি, সের্গেই উইক্রাইনেত্স, শেভচুক আলেগ ও ভালোদিমির ত্রিশেনস্কিকে জিজ্ঞাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ঢাকার বিভিন্ন এটিএম বুথ থেকে অন্তত অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই বিদেশি চক্রটি। এই চক্রের পলাতক আরেক সদস্য ইউক্রেন নাগরিক ভিটালির (পাসপোর্ট নম্বর এফই ৮০৪৪৮) কাছে অন্তত ১০ লাখ টাকা রয়েছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে সব কটি ইমিগ্রেশনে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক জালিয়াত চক্রের এই সদস্যরা এর আগে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৩০টি দেশের এটিএম বুথ টার্গেট করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয় বলে জানা যায়। এদের মধ্যে সাতজনের একটি গ্রুপ গত ৩০ মে বাংলাদেশে আসে। এরপর তারা ডাচ্-বাংলা ব্যাংকসহ বেশ কয়েকটি ব্যাংকের বুথ থেকে অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে ভারতে যেতে চেয়েছিল। তবে তাদের সেই অপতত্পরতা সফল হওয়ার আগেই চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহবুবুল আলম বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ইউক্রেনের এই নাগরিকরা আন্তর্জাতিক ব্যাংক জালিয়াত চক্রের সদস্য। এরা টুরিস্ট ভিসায় ঢুকেছেই মূলত ব্যাংকের বুথ থেকে জালিয়াতের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিতে। এরা আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা এফবিআইএর তালিকাভুক্ত।
ডিবির তদন্তে উঠে এসেছে, নতুন পদ্ধতিতে চক্রের সদস্যরা কীভাবে এটিএম বুথ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল। এদের এই আধুনিক কৌশল বাংলাদেশের ব্যাংক কর্তৃপক্ষেরও জানা ছিল না। এতদিন এটিএম কার্ড হোল্ডারদের কার্ড নকল করে বা ক্লোন করে এ ধরনের জালিয়াতি করা হতো। এবারের এই পদ্ধতিতে ব্যাংকের সার্ভারে কোনো রেকর্ড থাকে না।
ডিবির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, আন্তর্জাতিক এটিএম বুথ জালিয়াতি চক্রের এ সাত সদস্য পান্থপথের হোটেল ওলিও ড্রিম হ্যাভেন আবাসিক হোটেলে অবস্থান করে এটিএম বুথে কীভাবে ঢুকবে, টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর কীভাবে পালাবে— এমন নানান পরিকল্পনা করতে থাকে। এরপর গত শুক্রবার খিলগাঁও এলাকার ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের একটি বুথ থেকে এদের দুজন ৩ লাখ টাকা ওঠায়। তারা টাকা হাতিয়ে নিয়ে বুথ ত্যাগ করার সময় কিছু টাকা ফেলে যায়। পরে বিষয়টি বুথের নিরাপত্তারক্ষী ব্যাংক কর্মকর্তাদের জানালে তারা দেখেন, দুই বিদেশি নাগরিকের বুথ থেকে টাকা ওঠানোর দৃশ্য সিসিটিভিতে দেখা গেলেও ব্যাংকের সার্ভারে টাকা উত্তোলনের কোনো হিসাব জমা পড়েনি। এতে ব্যাপক সন্দেহ তাদের মনে দানা বাঁধে। পরের দিন শনিবার একই বুথ থেকে তারা টাকা হাতিয়ে নিতে মুখে মাস্ক দিয়ে ও মাথায় ক্যাপ দিয়ে বুথে ঢোকে। তবে বুথে ঢুকে বেশি সময় নেওয়ায় নিরাপত্তারক্ষীর সন্দেহ হলে তিনি আশপাশের লোকজনকে ডেকে সহযোগিতা চান। বিষয়টি টের পেয়ে দুই বিদেশি নাগরিক পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে একজনকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়। পরে তার তথ্যের ভিত্তিতে হোটেল ওলিও ড্রিম হ্যাভেনে অভিযান চালিয়ে আরো পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পালিয়ে যাওয়া অপর ইউক্রেন নাগরিকের নাম ভিটালিকে ধরার চেষ্টা চলছে।
ডাচ্-বাংলা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের বুথ থেকে জালিয়াত চক্র মোট সাড়ে ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
