শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

'আসানি'র শক্তি নির্ভর করছে গতিপথের ওপর

আপডেট : ০৮ মে ২০২২, ১৭:১৭

বঙ্গোপসাগরে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে 'আসানি'। রবিবার (৮ মে) দুপুর ২টার দিকে এটির বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১২০ কিলোমিটার, যা দমকা হাওয়া সহ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল। এ সময় ১ দশমিক ৭ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ৮৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি দ্রাঘিমাংশে অবস্থান ছিল আসানির।

বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বলছে, আগামী ১২ ঘণ্টায় ঘূর্ণিঝড়টি আরও শক্তিশালী হতে পারে। তবে এটি কোথায় চূড়ান্ত আঘাত হানতে পারে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘূর্ণিঝড়টি কতটা শক্তিশালী হয়ে উঠবে, তা নির্ভর করছে এর গতিপথের ওপর।

আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, রবিবার সকালে কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ১৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ–পশ্চিমে অবস্থান করছিল ঘূর্ণিঝড় আসানি। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।  ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে। আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ স্বাক্ষরিত এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। 

সকাল ৯টায় দেওয়া আগামী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ঢাকা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, সিলেট, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগের দু–এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। দুপুরে রাজধানী ঢাকায় মৃদু বৃষ্টিপাত হয়েছে। 

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্কসংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে আবহাওয়া অধিদফতরের বিজ্ঞপ্তিতে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।

কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও আবহাওয়াবিদ মোস্তফা কামাল পলাশ ইত্তেফাক অনলাইনকে জানান, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুসারে ঘূর্ণিঝড়টির বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ১২০ কিলোমিটার। এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে ঘণ্টায় প্রায় ১৭ কিলোমিটার বেগে। আগামী ২৪ ঘণ্টা ঘূর্ণিঝড়টি সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থায় থাকবে। এই সময়ে ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের পরিধিতে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার ও দমকা হাওয়া সহ ১৭০ কিলোমিটার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি জানান, বঙ্গোপসাগরের সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, সমগ্র বঙ্গোপসাগরের মধ্যে তাপমাত্রা সবচেয়ে কম ভারতের ওড়িশা উপকূলে। সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে। এদিকে চট্টগ্রাম ও মায়ানমার উপকূলে পানির তাপমাত্রা ভারতের ওড়িশা উপকূল থেকে বেশি। আবহাওয়া পূর্বাভাসের বিভিন্ন মডেল থেকে প্রাপ্ত তথ্য বলছে, ঘূর্ণিঝড় আসানি ১১ মে  ভোরে ভারতের ওড়িশা উপকূলে পৌঁছাতে পারে। ওইদিন দুপুরের পর থেকে ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দিকে অগ্রসর হবে। 

তবে এই গবেষক আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের জিএফএস-এর পূর্বাভাস বলছে, ঘূর্ণিঝড় আসানি বাংলাদেশের কক্সবাজার ও মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যের উপর দিয়ে স্থলভাগে আঘাত করার সম্ভাবনা রয়েছে। ইউএস নেভির জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টার থেকে প্রচারিত সর্বশেষ তথ্য অনুসারে ঘূর্ণিঝড় আসানি বাংলাদেশের নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের উপকূলের দিকে অগ্রসর হতে পারে ১১ মে দুপুর ১২টার পর। সে অনুযায়ী ১৩ মে মধ্যরাতের পর থেকে উপকূলে আঘাত করার সম্ভাবনা রয়েছে।  এর আগে শনিবার (৭ মে) আবহাওয়া পূর্বাভাসের একাধিক তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তিনি বলেন, এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হতে পারে কক্সবাজার জেলায়। এমনটা ঘটলে সেখানকার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোতে ভূমিধ্বস হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়টি যদি প্রকৃতপক্ষে ভারতের ওড়িশা উপকূলে পৌঁছায় তবে এর শক্তি উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। তখন এটি গভীর নিম্নচাপ বা লঘুচাপে পরিণত হবে। তবে ঘূর্ণিঝড়টির শক্তি নির্ভর করবে সেটি ভারতের ওড়িশা উপকূলের ঠিক কতটা কাছাকাছি যাবে তার ওপর। সেখানে পানির তাপমাত্রা কম থাকায় শক্তি হারাবে আসানি। যেখানে তাপমাত্রা বেশি থাকে সেখানে ঘূর্ণিঝড় অধিক শক্তি অর্জন করে। তাই এটি ওড়িশা উপকূল থেকে দূরে অবস্থান করলে বেশি শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ঘূর্ণিঝড় আসানি যদি ভারতের ওড়িশা রাজ্যের উপকূলের খুব কাছ দিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দিকে অগ্রসর হয় তবে তা অনেক দুর্বল মানের ঘূর্ণিঝড় হবে, যার বাতাসের গতিবেগ হবে ঘণ্টায় প্রায় ৭০ থেকে ৯০ কিলোমিটার। সেক্ষেত্রে এটি বাংলাদেশের খুলনা বিভাগ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উপকূল দিয়ে স্থলভাগে আঘাত করার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড়টি যদি ভারতের ওড়িশা রাজ্যের উপকূলের দূর থেকেই উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়, তবে তা ১১ মে দুপুরের পর বাংলাদেশের নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার উপকূল দিয়ে স্থলভাগে আঘাত করার সম্ভাবনা বেশি। তবে এখনো এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না।

 

ইত্তেফাক/এসটিএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

বৃষ্টির সম্ভাবনা কম, বাড়তে পারে তাপমাত্রা

সারাদেশে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা, বাড়তে পারে তাপমাত্রাও

গরম অব্যাহত থাকবে, বৃষ্টির সম্ভাবনা শনিবার 

দেশের তাপমাত্রা বাড়তে পারে

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

সারা দেশে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস

ঘূর্ণিঝড় ‘আসানি’ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করছে

‘আসানি’ একা নয়, সৃষ্টি হচ্ছে জমজ ঘূর্ণিঝড়

‘আসানি’র গতিপথ উড়িষ্যার দিকে, শঙ্কা কাটছে বাংলাদেশের