আগামী ১২ মে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন। ত্রিবার্ষিক হলেও প্রায় ছয় বছর পরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই সম্মেলন। সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০১৬ সালে।
সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার চার দিন আগে গতকাল রবিবার বিকালে শহরের শোডাউন ও পরে সমাবেশ করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য বিপুল ঘোষ। তিনি আসন্ন কমিটিতে সভাপতি প্রার্থী। তার এই শোডাউন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে আলোচনা। আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তার এই শোডাউন ও সমাবেশের বেশির ভাগ লোক-ই সাবেক এক মন্ত্রীর বলয়ের।
রবিবার বেলা সাড়ে ৩টায় শহরের গোয়ালচামট এলাকার পিটিআইয়ের সামনে থেকে বিপুল ঘোষের নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি মুজিব সড়ক হয়ে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে গিয়ে শেষ হয়। পরে প্রেসক্লাব চত্বরে সমাবেশ করেন নেতাকর্মীরা। এ সময় কোতোয়ালি আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বিপুল ঘোষ, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কে এম সেলিম, পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক মনিরুল হাসান মিঠু, বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফউজ্জামান মুরাদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
এ সময় বিপুল ঘোষ বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা যাকে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করবেন, তিনিই আমাদের নেতা হবেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই। আমি ৫৩ বছর রাজনীতি করি কখনো মহড়া দেই নাই। আমার লোক, শেখ হাসিনার লোক। সেই লোককে মারলে, হুমকি দিলে পালাবার পথ পাবেন না। তিনি এসময় এক সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীর দিকে ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, আপনাদের আর কত লাগে, সব চেয়ার, সব পদ যদি আপনাদের লাগে তাহলে আর নেতাকর্মীদের কী অবস্থা হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মী জানান, দুই বছর আগে ফরিদপুরে শুদ্ধি অভিযান চলে। সে সময় সাবেক এক মন্ত্রীর কাছের লোকজন দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের অভিযোগে আটক হয়। তাদের অনেকে এখনো জেলে। গতকাল বিপুল ঘোষ যে শোডাউন করেছেন সেখানে যে লোকজন দেখা গেছে তার সিংহভাগই তার বলয়ের নেতাকর্মী। সদর উপজেলার সেই নেতার অনুসারী ইউপি চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদক শোডাউনে লোক পাঠিয়েছে, অর্থ যোগান দিয়েছে। তবে এদের অনেকেই সশরীরে উপস্থিত হননি। সমাবেশে লোক ও অর্থ দিয়েছেন সেই নেতার কাছের লোক হিসেবে পরিচিত বর্তমান ও সাবেক কয়েক জন পৌর কাউন্সিলরও। সমাবেশে নারীদের নিয়ে উপস্থিত ছিলেন সাবেক এক যুব মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী।
