বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বৈরী আবহাওয়াতেও লঞ্চে আসছেন যাত্রীরা

আপডেট : ০৯ মে ২০২২, ১৩:০০

ঢাকা-বরিশাল নৌ-রুটের বিলাসবহুল একেকটি লঞ্চের ধারণক্ষমতা সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০০। কিন্তু ঈদ মৌসুমসহ বিভিন্ন মৌসুমেই ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি যাত্রী পরিবহন করে থাকে লঞ্চগুলো। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও শনিবার (৭ মে) ও রবিবার (৮ মে) সন্ধ্যায় বরিশাল থেকে ছেড়ে যাওয়া প্রায় ২০টির মতো লঞ্চে ছাদে ও কার্নিশে যাত্রী পরিবহন করতে দেখা গেছে। এরপরও যাত্রী চাপ বিবেচনায় ৯টি লঞ্চ সার্ভিসে রাখা হয়েছে। এতে করে ধারণক্ষমতার অধিক যাত্রী পরিবহন করে মালিকপক্ষসহ সংশ্লিষ্টরা অধিক লাভবান হলেও যাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়েই লঞ্চগুলোতে উঠতে হচ্ছে। এসব যাত্রীরা লঞ্চের ডেকে, ছাদে ও কেবিনের আশপাশেসহ বারান্দায় কোনো রকমের চাদর বিছিয়ে বসে বা দাঁড়িয়েই কর্মস্থলে ফিরছেন।

ঈদের ছুটির সঙ্গে বাড়তি ছুটি নিয়ে দক্ষিণাঞ্চলে আসা মানুষের রাজধানীতে ফিরতে পথে পথে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সরকারি স্টিমার সার্ভিস বন্ধ থাকা ও সপ্তাহে মাত্র দু’দিন সার্ভিসে থাকা এমভি বাঙালি ও মধুমতি দিয়ে ঈদ স্পেশাল সার্ভিস শনিবার সমাপ্ত করেছে বিআইডব্লিউটিসি। নিয়মিত সার্ভিসে এ জাহাজ দুটি সপ্তাহে দুদিন সার্ভিস দিলেও তাতে যাত্রীদের কোনো সুবিধা হচ্ছে না। কেননা সপ্তাহে সোম ও বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে এ জাহাজ দুটি যাত্রী নিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। কিন্তু আগামী শুক্রবার পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চল থেকে ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল নদী বন্দর কর্মকর্তা ও বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান। 

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চের ডেকে, ছাদে ও কেবিনের আশপাশেসহ বারান্দায় চাদর বিছিয়ে বসে বা দাঁড়িয়েই কর্মস্থলে ফিরছেন মানুষ। ছবি: ইত্তেফাক

তিনি জানান, গতকাল রবিবার ৯টি লঞ্চ যাত্রী পরিবহন করে। পাশাপাশি চলতি সপ্তাহ জুড়েই সমসংখ্যক লঞ্চ সার্ভিসে রাখা হয়েছে যাত্রী চাপ বিবেচনায়। একাধিক লঞ্চ মালিক ও কাউন্টার ম্যানেজাররা জানান, তাদের আগামী শনিবার পর্যন্ত বুকিংয়ের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বুকিং কাউন্টারগুলো থেকে গতকাল কিংবা আজ সোমবারের টিকিট না পেয়ে ফেরত যাত্রীরা জানান, সকাল থেকে কাউন্টার ও নদী বন্দরে ধরনা দিয়েও টিকিট মিলছে না। কালোবাজারে টিকিট প্রতি তিন থেকে চার গুণ বেশি দাম হাঁকা হচ্ছে। কেবিনের লঞ্চের যাত্রীদের দাবি লঞ্চের সংখ্যা বাড়িয়ে দিলে তারা কেবিনের টিকিট পেতেন।

বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে সড়ক পথের যাত্রীদেরও ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। কর্মস্থলে ফিরতে রাজধানীমুখী যাত্রীদের চাপ সরাসরি ঢাকাগামী পরিবহনগুলো সামাল দিতে না পারায় লোকাল বাস (স্থানীয় রুটে চলাচলরত) মাওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রী পরিবহন করছে। যাত্রীরা উপায়ন্তুর না পেয়ে বাধ্য হয়েই বাড়তি ভাড়া দিয়ে মাওয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে যাচ্ছেন। এছাড়াও আলফা-মাহিন্দ্র করে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে।

অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় এম ভি মধুমতি। ছবি: ইত্তেফাক

অতিরিক্ত যাত্রী বহন করায় ঢাকা-বরিশাল নৌ রুটেরে চারটি বিলাসবহুল লঞ্চকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার সন্ধ্যায় বরিশাল নদী বন্দরে এই লঞ্চগুলোকে জরিমানা করা হয়। বরিশাল জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাবেদ হোসেন চৌধুরী, তরিকুল ইসলাম, মুশফিকুর রহমান ও আরাফাত হোসেনের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। বরিশাল নদী বন্দর কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, অতিরিক্ত যাত্রী বহন করায় সুন্দরবন-১১ লঞ্চকে ১০ হাজার টাকা, পারাবত-৯ লঞ্চকে ৬ হাজার টাকা, কুয়াকাটা-২ লঞ্চকে ১০ হাজার টাকা, কীর্তনখোলা-২ লঞ্চকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

ইত্তেফাক/ ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

উজিরপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে পল্লি চিকিৎসকের মৃত্যু

বৈরী আবহাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলছে যাত্রীবাহী নৌযান

বরিশালে পুরনো সরঞ্জামের কারণে যখন-তখন বিদ্যুৎ বিভ্রাট

বরিশালে ভূমি সেবা সপ্তাহের উদ্বোধন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

আগৈলঝাড়ায় দেশি লিচুর কদর বেড়েছে

বরিশালে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার

বরিশালে যুবক হত্যা মামলায় ৪ জনের যাবজ্জীবন

আগৈলঝাড়ায় অবৈধ জাল জব্দ